প্রভাবশালীদের চাপে এবার ইন্টারন্যাশনাল গেইটওয়ের (আইজিডব্লিউ) বার্ষিক লাইসেন্স ফি কমাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য আগে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ফি থাকলেও এখন তা দুই তৃতীয়াংশ কমিয়ে আড়াই কোটি টাকা করা হচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারের বছরে রাজস্ব ক্ষতি হবে অন্তত ১৪০ কোটি টাকা। শিগগিরই এই প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে যাচ্ছে বিটিআরসি।
গত সোমবার টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী অ্যাডভোটে সাহারা খাতুনের সঙ্গে ছয়টি প্রভাবশালী আইজিডব্লিউ মালিকদের এক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে মালিকরা লাইসেন্স নবায়ন ফি সাড়ে ৭ কোটি টাকার জায়গায় আড়াই কোটি টাকা করার দাবি জানান। বৈঠক সূত্র জানায়, লাইসেন্স মালিকদের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী একমত পোষণ করেন। পরে বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসকে ওই বৈঠকে ডেকে পাঠানো হয়। বিষয়টি আলোচনার পর মন্ত্রী আইজিডব্লিউ’র বার্ষিক লাইসেন্স নবায়ন ফি কমিয়ে আড়াই কোটি টাকা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিটিআরসি সূত্র জানায়, বিটিআরসির আইন ও লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তারা ফি কমানোর জন্য গাইড লাইনে পরিবর্তন আনার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছেন। যত দ্রুত সম্ভব তা প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হবে। সূত্র জানায়, টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী কোন লাইসেন্সের ফি কমানো বা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এটার এখতিয়ার বিটিআরসির। তাই বিটিআরসিকে দিয়ে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে।
জানা গেছে, দেশের বিদ্যমান ২৯টি আইজিডব্লিউ’র মধ্যে একটির মালিক সরকারি কোম্পানি বিটিসিএল। প্রতিটি আইজিডব্লিউ’র বর্তমান বার্ষিক লাইসেন্স নবায়ন ফি সাড়ে সাত কোটি টাকা। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আইজিডব্লিউগুলোকে এক তৃতীয়াংশ হিসেবে বছরে মাত্র আড়াই কোটি টাকা নবায়ন ফি পরিশোধ করতে হবে। তাতে প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য ৫ কোটি টাকা হিসেবে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রাজস্ব কমবে ১৪০ কোটি টাকা।
বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলছেন, হঠাত্ করে আইজিডব্লিউ’র লাইসেন্স ফি ৫ কোটি টাকা করে কমলে অন্যান্য লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে। মোবাইল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লাইসেন্সধারীরাও এই আবদার করবেন। মোটা অংকের বকেয়া রেখে বিভিন্ন ফি কমানোর তদবিরে নামবেন। বিটিআরসির একজন কমিশনার বলেন, কিছুদিন পরে মোবাইল অপারেটর, পিএসটিএন ও আইসিএক্স মালিকরা যে একই দাবি তুলবে না তার কোন গ্যারান্টি নেই। ভিএসপি মালিকরা অপারেশনে যাওয়ার আগেই ফি কমানো ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে এই সেক্টরে চরম অস্থিরতার সৃষ্টি হবে।
এর আগে বিদেশ থেকে টেলিফোন কল আনার ক্ষেত্রে গেটওয়েগুলোর (আইজিডব্লিউ) ট্যারিফ কাঠামো এবং রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে বিটিআরসি। তাতে সরকারের বছরে অন্তত এক হাজার ৭৩ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিছুদিন আগে বিটিআরসি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এই হিসেব জমা দিয়েছে।
