বরিশালে ভার্সিটি ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত প্রেমিক পলাতক

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৩
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাওদাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাসেল মাতুব্বর। প্রেমের সম্পর্কের অবনতি ঘটার জের ধরে গতকাল সকালে নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় সাওদাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাসেল মাতুব্বর। গুরুতর অবস্থায় সাওদাকে প্রথমে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে,পরে অবস্থার অবনতি হলে এয়ার এম্বুলেন্স যোগে ঢাকায় পাঠানো হয়। হামলার সাত ঘণ্টা পর সাওদা সন্ধ্যায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার মৃত্যুর খবর বরিশালে পৌঁছলে বিশ্ববিদ্যালয় ও সাওদা’র গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। সাওদা হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রথমবর্ষের ছাত্রী। তার প্রেমিক রাসেল মাতুব্বর বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। দু’জনের বাড়ি বরগুনা জেলায়। সেখানকার কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা জানিয়েছে তারা গোপনে বিয়ে করেছে। ঐ বিয়ে সাওদা’র পরিবার মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকের কাছ থেকে দূরত্ব রেখে চলতে শুরু করে সাওদা। সমপ্রতি তাদের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। শেবাচিম হাসপাতালের চিকিত্সক নজরুল ইসলাম জানান, সাওদা’র মাথার আঘাত গুরুতর। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। তাত্ক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাওদাকে এয়ার এম্বুলেন্স যোগে ঢাকায় পাঠান। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পর সাওদা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শামসুদ্দিন। সাওদা’র মৃত্যুর খবরে ক্যাম্পাসে তাত্ক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। তারা ঘাতক প্রেমিক রাসেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে শ্লোগান দেয়। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, সাওদা বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হাতেমপুর গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। হামলাকারী রাসেল মাতুব্বরও একই উপজেলার কেরামতপুর গ্রামের হারুন মাতুব্বরের ছেলে। কোতোয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এস,আই গোলাম কবির ইত্তেফাককে জানান, রাসেলের মেসে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। এতে রাসেল তার মাকে উদ্দেশ করে হতাশার কথাবার্তা লিখে রেখেছে। সে তার প্রেমিকাকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করবে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য রাসেলের এক বন্ধুকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাওদাকে দেখতে শেবাচিম হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রফেসর হারুনর রশীদ খান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর মোঃ হানিফ। ভিসি জানান, ‘রাসেল এক সময় সাওদার প্রাইভেট শিক্ষক ছিল। কিছুদিন আগে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে সাওদাকে লাঞ্ছিত করে রাসেল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনে দু’জনকে ডেকে সতর্ক করে এবং শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়। ঐ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরিও করে বলে ভিসি জানান। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি সভা ডেকে রাসেলের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। একদিন আগে নগরীর আলেকান্দা এলাকায় প্রেমিকা ছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করে অপর এক প্রেমিক যুবক।