অবৈধ বিক্রয় কার্যক্রমের শাস্তি ১০ বছরের জেল

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৭
কোন ব্যক্তি মাল্টি-লেভেল মার্কেটিংয়ের আওতায় অবৈধ বিক্রয় কার্যক্রম (পিরামিড সদৃশ বিক্রয় কার্যক্রম) পরিচালনার অপরাধে অনূর্ধ্ব ১০ বছরের এবং অন্যূন ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। তাছাড়া লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম পরিচালনার অপরাধে অনূর্ধ্ব ১০ বছরের এবং অন্যূন ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। এমএলএম কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা, পরিবেশক ও ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশে এমনই বিধান রাখা হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা অধ্যাদেশটি গতকাল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। “মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ২০১৩” নামে অভিহিত এ অধ্যাদেশের অধীন অপরাধসমূূহ আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য। অধ্যাদেশে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কোন ব্যক্তি মোড়কজাতকরণ ব্যতীত মাল্টি-লেভেল পদ্ধতিতে পণ্য বিপণন করলে অনূর্ধ্ব ২ বছর এবং অন্যূন ১ বছর কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। পণ্যের মূল্য অযৌক্তিক বৃদ্ধি করার অপরাধে অনূর্ধ্ব ৩ বত্সর এবং অন্যূন ১ বছর কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। অন্যদিকে নিম্নমানের পণ্য বা সেবা বিপণনের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৫ বছর এবং অন্যূন ২ বছর কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে “মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম” বলতে কোন পণ্য বা সেবা দুই বা ততোধিক স্তর বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কমিশন বা লভ্যাংশ বা অন্য কোন সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির আওতায় পরিচালিত বিপণন কার্যক্রমকে বুঝানো হয়েছে। অধ্যাদেশে কোন ব্যক্তি লাইসেন্স ব্যতীত এমএলএম কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না বলে বিধান করা হয়েছে। গৃহস্থালী পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, হোম এপ্লায়েন্স পণ্য, প্রসাধন ও টয়লেট্রিজ পণ্য, হারবাল পণ্য, টেলিযোগাযোগ সেবা বা এতে ব্যবহারযোগ্য পণ্য, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত পণ্য ও সেবা এবং কৃষিজ ও কৃষিজাত পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে লাইসেন্সের অধীন এমএলএম কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। তবে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা পণ্য বা সেবার তালিকা সংশোধন করতে পারবে। এমএলএম কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাইসেন্স প্রদানের একক এখতিয়ার থাকবে সরকারের এবং লাইসেন্সের জন্য সরকারের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সরকার আবেদনে উল্লিখিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্ত করবে এবং প্রাপ্ত তথ্যাবলী পরীক্ষার পর লাইসেন্স মঞ্জুর অথবা না-মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। পরিদর্শন ও তদন্তের পর সরকার সন্তুষ্ট হলে অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আবেদনকারী বরাবরে লাইসেন্স ইস্যু করবে অথবা সন্তুষ্ট না হলে কারণ উল্লেখপূর্বক লাইসেন্স না-মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত আবেদনকারীকে অবহিত করবে। সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোন লাইসেন্স বা এর অধীনে অর্জিত স্বত্ব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে হস্তান্তরযোগ্য হবে না। মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যক্তিকে এ অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে এ অধ্যাদেশের বিধান অনুসারে লাইসেন্সের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। এ সময় পর কোন ব্যক্তি এমএলএম কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। অধ্যাদেশে আরো বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স বা এর অধীনে অর্জিত স্বত্ব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে হস্তান্তর করার অপরাধে অনূর্ধ্ব ২ বছর এবং অন্যূন ১ বছর কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যক্তি অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে লাইসেন্সের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে ব্যর্থ হলে অনূর্ধ্ব ১০ বত্সর এবং অন্যূন ৬ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। অধ্যাদেশে উল্লিখিত কোন অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ করলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হবেন। কোন মাল্টি-লেভেল কোম্পানির ব্যবসা এর পাওনাদার, শেয়ার হোল্ডার বা অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রতারণার জন্য পরিচালিত হচ্ছে অথবা এর প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রতারণা বা অবৈধ উদ্দেশ্যে বা কোন সদস্যকে হয়রানির উদ্দেশ্যে অথবা কোম্পানিটি প্রতারণা বা অবৈধ উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে বলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতীয়মান হলে সরকার লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্দিষ্টকৃত সময়ের জন্য উক্ত কোম্পানির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে। এ উদ্দেশ্যে সরকার উক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ রহিত করে এক বা একাধিক প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং লাইসেন্সবিহীন কোম্পানি উভয় ক্ষেত্রেই এ বিধান প্রযোজ্য হবে। প্রশাসকের যোগ্যতা, মেয়াদ, কর্মপরিধি ও অন্যান্য বিষয়াদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে।