চাঁপাইনবাবগঞ্জে আয় বৃদ্ধির সুযোগ পাচ্ছেন বিশ হাজার দরিদ্র মানুষ

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:১৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আয় বর্ধনের সুযোগ পেয়েছে ২০ হাজার ৪৮০ জন অতিদরিদ্র নারী ও প্রান্তিক বর্গাচাষি। এ জেলার সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে ফুড এন্ড লাইভলীহুড প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ৪৮০ জন অতিদরিদ্র নারী ও প্রান্তিক বর্গাচাষির মাঝে ৪৪ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বিতরণ কাজ এগিয়ে চলেছে। এখন পর্যন্ত উপকারভোগী মহিলাদের মাঝে ৭১ ভাগ ও প্রান্তিক বর্গচাষিদের মাঝে ৮০ ভাগ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। উপকারভোগী নারী সদস্যরা মাসিক ভাতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসা করে আয় করার সুযোগ পেয়েছেন। অপরদিকে প্রান্তিক বর্গাচাষিরা পৃথক পৃথকভাবে আয়বর্ধনের লক্ষ্যে চাষাবাদ করছেন। এই প্রকল্পের সহযোগী বাস্তবায়ন সংস্থা ইকো সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’র প্রকল্প সমন্বয়কারী আইয়ুব হোসেন দৈনিক সানশাইনকে জানান, জেলায় খাদ্য ও জীবিকা নিরাপত্তা (ফুড এন্ড লাইভলীহুড সিকিউরিটি) নামে একটি প্রকল্প ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের অর্থায়নে এই জেলায় ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চালু করা হয়। এই প্রকল্পটি ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হবে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পে আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নের হতদরিদ্র ১২ হাজার ৮’শ জন নারী ও ৭ হাজার ৬৮০শ জন প্রান্তিক বর্গচাষির মাঝে ৪৪ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মাসিক ভাতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিতরণ কাজ এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যে নারীদের মাঝে ৩০ কোটি ৮০ লাখ এবং প্রান্তিক বর্গাচাষিদের মাঝে ১৪ কোটি ২৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, উপকারভোগী নারীদের মাঝে মাসিক ভাতা হিসেবে ৪০০ টাকা হারে প্রতি দুই মাস পরপর ৮০০ টাকা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্য থেকে মাসিক ৫০ টাকা হারে ১০০ টাকা করে তাদের গ্রুপ একাউন্টে সঞ্চয় হিসেবে জমা রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রত্যেক নারী সদস্যেকে এককালীন ১৪ হাজার ৫’শ টাকা এবং বাড়ির পাশে শাক-সবজি চাষের জন্য আরো ১ হাজার টাকা করে প্রত্যেককে দেয়া হচ্ছে। অপরদিকে প্রান্তিক বর্গা চাষিদেরকে বীজ, সারসহ অন্যান্য উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রত্যেককে ৪ হাজার ১’শ টাকা করে এবং আয় বৃদ্ধির জন্য এককালীন ৬ হাজার ৫’শ টাকা করে দেয়া হচ্ছে। ২০ মাসের কর্মসূচির ইতোমধ্যে ১৪ মাস ভাতা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার চর অনুপনগর ইউনিয়নে উপকারভোগীদের মাঝে মাসিক ভাতা বিতরণকালে উপকারভোগীদের সাথে কথা বলেন এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ড. মোহাম্মদ আলী।