তরুণদের মাঝে কেনাকাটা মানেই নতুন জামা-কাপড়, নতুন জুতা। তবে চিরচেনা এ চিত্রে বর্তমানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। কেনাকাটার তালিকায় জামা-জুতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট আর নানা গ্যাজেট। সাধ্যের মধ্যে সেরাটা পাওয়ার জন্য আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় পরিকল্পনা আর কেনাকাটার প্রস্তুতি। তবে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গত ক’বছরে বাংলাদেশেও বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের ব্যাপক প্রসার হয়েছে। তরুণদের হাতের নাগালে এসেছে একসময়ের অনেক বিলাসবহুল পণ্য। ফলে প্রাথমিক কেনাকাটা শেষে ফুসরত পেলেই প্রযুক্তির বাজারে ছুটছেন তারা। যদিও সীমিত সাধ্যের মধ্যে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতেই হিমসিম খেতে হয় বেশিরভাগ মধ্যবিত্তকে। এরপরও জমানো টাকার সঙ্গে আরও খানিকটা জুড়ে দিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারের ইচ্ছা পূরণ করছেন কেউ কেউ। এমনকি সেজন্য জামা-কাপড়ের ওপর থেকে বাজেটও কমাচ্ছেন। অনেকে আবার প্রিয়জনকে উপহার দিচ্ছেন প্রযুক্তিপণ্য। এর আগে বাজারে ল্যাপটপের প্রাধান্য থাকলেও এবার তরুণদের কাছে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটই প্রাধান্য পাচ্ছে। এদিকে রকমারি পসরার জন্য বিখ্যাত বসুন্ধরা সিটির ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানগুলোয়ও বেশ ভিড় দেখা যায়। তবে এখানকার ক্রেতারা কিছুটা দামি,
খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের পণ্যের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। তরুণদের সঙ্গে মধ্যবয়সীদেরও ভিড় দেখা যায় বিভিন্ন দোকানে। বাবাকে অনুরোধ করে একটি দামি ফোন কিনে দেওয়ার জন্য রাজি করিয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএর শিক্ষার্থী জুনায়েদ কবির রিমন। তিনি বলেন, ‘প্রায় সময় তো জামা-কাপড় কেনা হয়। কিন্তু এখন সেগুলোর চেয়ে গ্যাজেটস কম প্রয়োজনীয় নয়। তাই স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছি গ্যালাক্সি এসফোর কিনে।’ এর আগে তরুণীদের শুধু অলঙ্কার আর ফ্যাশনের দোকানে দেখা গেলেও প্রযুক্তির টানে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানেও এখন ভিড়ছেন কেউ কেউ। একটি প্রাইভেট ইনস্টিটিউটে ফ্যাশন ডিজাইনের ছাত্রী ফারজানা লোপা বলেন, ‘ডিজাইনিংয়ে সুবিধার জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি ট্যাবের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলাম। এজন্য আমার প্রথম পছন্দ গ্যালাক্সির ১০ ইঞ্চি পর্দার নোট ট্যাবলেট। তবে বেশি দামের কারণে আপাতত সিমফোনির ট্যাব কিনেছি।’
গ্যাজেটের সাজসজ্জা
বাহারি সব নকশার পাশাপাশি পছন্দের মানুষের ছবিও লাগানো যাবে গ্যাজেটের গায়ে। নির্ধারিত নকশাগুলো পছন্দ না হলেও চিন্তা নেই, ক্রেতা তার পছন্দের ছবিটি এনে দিলে সেটিই হবে তাদের গ্যাজেটের নকশা। এই পদ্ধতিতে প্রথমে পছন্দের নকশাটি প্রিন্ট করে নেওয়া হয় ভিনাইল ফিল্মে। তারপর এটি পরিষ্কার করে লেমিনেশন করা হয় ছবির ওপর। এরপর ছবিটি লাগানো হয় গ্যাজেটের গায়ে। ঠিকমতো সেটে দেওয়ার জন্য ড্রায়ার দিয়ে ফিল্মটি একটু নরম করে নেওয়া হয়। সবশেষে প্রয়োজনমতো কেটে নিলেই কাজ শেষ। মোবাইল বা ছোট কোনো গ্যাজেট সাজাতে খরচ পরবে ৮০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ৮৫০ টাকার মধ্যে। ল্যাপটপ, নেটবুক, আইপ্যাড, গ্যালাক্সি ট্যাব বা বড় কোনো গ্যাজেট সাজানো যাবে ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে। এসব পণ্যে সমৃদ্ধ জিমাস্কের শাখা আছে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ার, গুলশানের পিংক সিটি শপিং মল, কাকরাইলের কর্ণফুলি গার্ডেন সিটি এবং উত্তরার আরএকে টাওয়ারে। যারা এতটা ঝামেলা করতে চান না, তাদের জন্য বাজারে আছে এসব গ্যাজেটের জন্য নানান নকশার কেইস। মোবাইলের জন্য আছে কার্টুন চরিত্রের কেইস। কোনটিতে আছে বাহারি সব পাথরের নকশা। আছে লেদারের কেইসও। আর ল্যাপটপ, নেটবুক, আইপ্যাড বা গ্যালাক্সি ট্যাবের জন্য আছে লেদার ও র্যাক্সিনের কাভার। কোনো কোনো কাভারের সঙ্গে আবার লাগানো আছে ব্লু-টুথ কি-প্যাড। দোকান ও মান ভেদে মোবাইল ফোনের বাহারি কেইস ও কাভারগুলোর দাম পড়বে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। ল্যাপটপ, নেটবুক, আইপ্যাড বা গ্যালাক্সি ট্যাবের কাভার পাওয়া যাবে ২ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।
যত্নআত্তি
দাম, প্রয়োজনীয়তা কিংবা ফ্যাশন—সব দিক দিয়েই গ্যাজেট এখন জনপ্রিয়। এর যত্ন তো নিতেই হয়। একে ধুলোবালি, পানি এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে দূরে রাখা দরকার। সে জন্য চাই ভালো একটা মোড়ক। একসময় কাপড়ের ব্যাগে নেওয়া হতো সেলফোন। কিন্তু কাপড় ধুলোবালি, পানি কিংবা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে গ্যাজেটকে পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে পারে না। তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বাজারে এসেছে হরেক রকমের মোবাইল কভার। সবাই এখন সুন্দর ও আকর্ষণীয় কভারে নিজের গ্যাজেটটি রাখতে পছন্দ করছেন। বিভিন্ন মোবাইল, হ্যান্ডহোল্ড কনসোল, ট্যাবলেটের আকৃতি ও মডেলের ওপর নির্ভর করে নানা ধরনের কভার পাওয়া যাচ্ছে—ব্যাক কভার, ফোল্ডিং কভার, বুক টাইপ কভার, ফোল্ডার কভার, ফান ব্যাগসহ বিভিন্ন রকমের কভার। লেদার, প্লাস্টিক ও ুমিনিয়ামের। বিভিন্ন রং ও ডিজাইনের। নিজের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে হয়। এটি যে কেবল মোবাইলের জন্যই, তা নয়। আজকাল হ্যান্ডহোল্ড গেমস, ট্যাবলেট ও ল্যাপটপের জন্য তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন আকৃতি ও ডিজাইনের কভার। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে চাবির রিং, কোথাও আলাদা ঝুনঝুনি আবার কোথাও অ্যাংরি বার্ডস। সব মিলিয়ে তারুণ্য এবার মজেছে বাহারি গ্যাজেট।
মডেল দোলা
