অন্য তারুণ্য

প্রযুক্তিতে তারুণ্য

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩৬
বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নবীন দল ছিলেন তারা। তাদের প্রোজেক্টা ছিল ক্যানভাস লাইভ। যেটা একটা ওয়েব অ্যাপস। অটিস্টিক শিশুদের ছবি আঁকা এবং ছবি দেখে শেখার জন্য উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম এটি। এটি আসলে অটিস্টিক শিশুদের রঙিন জগতটাকে তুলে আনবে সকলের সামনে। দলের অন্যতম সদস্য শুভ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়ছেন। তার প্রোগ্রামিংয়ের শুরুটা স্কুলজীবন থেকেই। গেমস কিভাবে বানাতে হয়, এই প্রশ্ন থেকেই প্রোগ্রামিং শুরু করেন। তার প্রোগ্রামিংয়ের ভিত্তি গড়ে দেন তার মামাতো ভাই। শুভর নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে। গেমস নিয়ে কাজ করতেও খুব ভালোবাসেন। আগামীতে তার প্রোগ্রামিং জ্ঞানকে কৃষি কাজে লাগাতে চান। শুভ মনে করেন, বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিংয়ের পরিস্থিতি খুব ভালো। তবে নিজেদের পণ্যের উপর কাজ করতে হবে অনেক বেশি। নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে হবে। তাহলেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে। শুভরা দুই ভাই আর এক বোন। তিনি সবার ছোট। নূরুল ইসলাম আর সুফিয়া ইসলামের ছেলে শুভ অনেকদূর এগিয়ে যাবেন, এই প্রত্যাশা আমাদের। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈয়দ ইমাম হাসানকে স্কুলজীবন থেকেই উদ্ভাবনমূলক কাজ আকর্ষণ করত। বিভিন্ন বিজ্ঞান মেলা ঘুরে দেখতেন তিনি। একসময় নিজেই বিজ্ঞান মেলায় অংশ গ্রহণ করা শুরু করেন। বুয়েটে পড়ার সুযোগ পাওয়ার পর এই ইচ্ছাটা আরও বেড়ে যায়। তড়িত্ কৌশল অনুষদের ছাত্র ইমাম পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চান। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আয়জিত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(রোবটিক্স)-এর উপরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। প্রায় সবগুলো প্রতিযোগিতায় তাদের টিম বেশ ভালো করায় বড় ভাইয়া এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পান। ইমাম মনে করেন, এই পেশাটা অনেক সৃজনশীল। এখানে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। নতুনরাও দিন দিন উদ্ভাবনী কাজের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে। ইমামের বাবা একজন ইলেকট্রিকাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার আর মা একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। তিন ভাইবোনের মাঝে তিনি সবার বড়। শেখ তানভীর আহমেদ মুন্নার প্রোগ্রামিংয়ের উপর আগ্রহ জন্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে আসার পরে। তারপর অনলাইনে বিভিন্ন কোর্স এবং অনেক মানুষের সাথে আনাগোনার ফলে জানার এবং শেখার পরিধি বাড়তে থাকে। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো একটা কাজ ভালোভাবে করার জন্য দলীয় কাজটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রোগ্রামিং করতে ভালোবাসেন, নতুন নতুন আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মধ্যে সৃষ্টির যে আনন্দ পাওয়া যায় তা বলে বোঝানো যাবে না। তাছাড়া তার অন্যতম আকর্ষণের দিক হলো রোবটিক্স। তার পরিবারে আছেন বাবা-মা আর ছোট বোন। তারা সবাই তাকে সবসময় উত্সাহ দেন। তার শৈশব আর কৈশোর কেটেছে দেশের বাড়ি সাতক্ষীরাতে। তানভীর তার আশপাশের মানুষগুলোর আইডিয়া এবং কাজের ব্যাপ্তি দেখে বুঝতে পারেন শুধুমাত্র অল্পকিছু সাহায্য আর সহযোগিতা থাকলে এদেরকে নিয়ে বিশ্বজয় করা সম্ভব। নতুনদের জন্য নতুন প্লাটফর্ম তৈরি করা, তাদের কাজের সুযোাগ করে দেওয়াই তার স্বপ্ন। শেষটায় সবাই জানালেন তাদের এই পর্যায়ে আসার কথা। প্রতি পদে নানা সময় নানা বাধা এসেছে এবং আসছে। তবে সব সময় তাদের পাশে থেকে প্রতিটি কাজে অনুপ্রেরণা দিয়ে সাহায্য করেছেন তাদের শিক্ষক ডক্টর সিলিয়া সাহানাজ। ভারতের ওখানকার কোমাগুরু কলেজ অব টেকনোলজিতে তারা ছিলেন প্রায় এক সপ্তাহ। কম্পিটশনের পাশাপাশি চলছিল আর্ন্তজাতিক কনফারেন্স। বড় বড় মানুষদের সান্নিধ্যে আসা তাদের কাজ সম্পর্কে জানার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। তারা এ ধরনের কাজে সফল হয়ে আমাদের দেশকে আরও প্রশংসিত করবেন বিশ্বদরবারে, এটাই প্রত্যাশা।