ভিনদেশি

নিকের নিউজ বুম

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪১
স্কুলের গণ্ডি এখনও পার করেননি তিনি। পড়াশোনা চলছে। পাশাপাশি চলছে প্রোগ্রমিংয়ের চর্চাও। এরই মধ্যে হঠাত্ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে তিনি নিয়ে এলেন সামলি নামের একটি অ্যাপ্লিকেশন। অ্যাপসটি তৈরি করা হয়েছে আইওএস প্ল্যাটফর্মের জন্য। লন্ডনের নিক ডি অ্যালিওসিও নামে ১৭ বছরের তরুণ সামলি নামের এ অ্যাপ তৈরি করেছেন। স্মার্টফোনের জন্য তৈরি অ্যাপ্লিকেশনটি মুহূর্তেই সংবাদ সংক্ষেপ তৈরি করে পাঠকদের জানাতে পারে। অ্যাপস্টোরে শীর্ষ ৯-এ স্থান পাওয়া অ্যাপ্লিকেশনটির জন্য রুপার্ট মারডকসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ সহায়তা পেতে যাচ্ছে লন্ডনে বসবাসকারী নিক ডি অ্যালিওসিও। বিনামূল্যের অ্যাপ্লিকেশনটি স্মার্টফোনে ডাউনলোড করলেই অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের সারসংক্ষেপ প্রদর্শন করে। নিক যখন এ অ্যাপটি তৈরি করেন তখন অনেকেই বলেছেন, এটি ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে। কিন্তু এরই মধ্যে ব্যবহারকারীদের কাছে এ অ্যাপ দারুণ সাড়া ফেলেছে। ক্যারিয়ারের শুরুটা যেভাবে নিক একজন ব্রিটিশ-অস্ট্রেলিয়ান কম্পিউটার প্রোগ্রামার এবং একই সাথে একজন উদ্যোক্তা। ‘সামলি ডট কম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও। অল্প বয়সী এই কিশোরের খুব ছোটবেলা থেকেই আগ্রহ ছিল প্রোগ্রামিং নিয়ে। স্কুলে থাকাকালীন মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি বেশ কিছু প্রোগাম বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সবাইকে। তার প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের দক্ষতা সবাইকে মুগ্ধ করে। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিং কন্টেস্টে বেশকিছু পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। লন্ডনের কিংস কলেজে পড়াশোনা করতেন তিনি। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা লন্ডন শহরেই। ১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া নিক তার বাবা লউ ও মা ডিয়ানার সাথে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়াতে। সেখানে গিয়ে মেলবোর্ন শহরে বসবাস শুরু করেন। ২০১১ সালের মার্চে নিকের হাত ধরে মেলবোর্নের মাটিতে জন্ম নেয় আরও একটি অ্যাপস, ‘ট্রিমিট’। এটা পরবর্তীতে অ্যাপস স্টোরে যোগ করা হয়। অ্যাপসটির মূল কাজ হলো, নোট লেখা। তার এসব অ্যাপসই তাকে সহায়তা করে, ‘সামলি’ তৈরির কাজে। হংকংয়ের বিলিয়নিয়ার, লি কা সিং প্রায় ২৫০০০০ ডলারের মতো অর্থ ফান্ডিং করেন। বর্তমানে খ্যাতির তুঙ্গে থাকা নিকের ছোটবেলাটা এত মধুর ছিল না। ছোটবেলায় তার বাসায় কম্পিউটার না থাকায় বন্ধুদের বাসায় গিয়ে গেম খেলতেন, আঁকাআঁকি করতেন। তাদের বাসায় যখন প্রথম কম্পিউটার আনা হয় তখন তার বয়স ছিল ৯ বছর। কম্পিউটার হাতে পেয়েই তিনি প্রথম যে কাজটি করেন তা হলো, মুভি এডিটিং। ফাইনাল কাট প্রো নামের সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে তিনি একটি মুভি এডিট করেন। এরপর তিনি শুরু করেন প্রোগ্রাম লেখার কাজ। ২০০৮ সাল, তার বয়স তখন ১২ বছর, তিনি তার প্রথম অ্যাপসটি লেখেন। স্কুলের প্রোজেক্টের কাজ ছিল সেটা। কিন্তু তা তাকে এনে দিয়েছিল ভিন্ন মাত্রা। সেইসময়ে তার অ্যাপসটি অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনে বেশ সফল ছিল। বর্তমানে তিনি নিজের কোম্পানির সিইও। সামলি ডট কম নামের কোম্পানিটি বেশ ভালোভাবেই কাজ করছে। এ মুহূর্তে নিক সামলির প্রতিষ্ঠাতা এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি অ্যাপসটির নতুন আপডেট দেওয়া হয়েছে। অ্যাপসটি সম্পর্কে আরও জানতে অথবা অ্যাপসটি ডাউনলোড করতে চলে যেতে হবে এই ঠিকানায় :http://summly.com