নতুন এক গানের ধারার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল শিলং চেম্বার কয়্যার। ভারতের এসময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই দলটি পরিচিত অনেক গানকেই তারা অপরিচিত সুরের দোলায় গাইলো যে সে দোলায় দুলে উঠলো পুরো স্টেডিয়াম। কয়্যার গানের সুরের দোলায় ভাসতে ভাসতেই পরিচিত হলো রিভ্যাম্প ধারার সঙ্গে। কয়েকটি গানকে মিলিয়ে পরিবেশনের এই অনন্য ধারার সঙ্গে পরিচিতিই ছিল না বাংলাদেশের শ্রোতাদের। হিন্দি ও ইংরেজি গানের মিশেলে তাদের পরিবেশনা আনন্দের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল। তারা শুরু করেছিল মেলোডি গান দিয়ে। এরপর ধীরে ধীরে ভারতীয় মাসালা গান গেয়ে শোনায়। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ মিরপুরের ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজন করেছিল শিলং চেম্বার কয়্যারের ‘গ্র্যান্ড মিউজিক কনসার্ট’।
সেই সঙ্গীতযাত্রায় বুঁদ হয়ে ছিল স্টেডিয়াম উপচে পড়া দর্শক। রিভ্যাম্প দর্শকদের বেশি মাতোয়ারা করে তুললেও নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি আপ্লুত করেছে যখন তারা বাংলা গান গেয়েছেন। ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই, সে যে ডাকাতিয়া বাঁঁশি’, আর ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’। এ দুটো গানের সময় দর্শকদের আনন্দ চিত্কারের ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম।
স্বাগত কথা বলতে গিয়ে এ দলের প্রধান সমন্বয়ক নিল নংরি বললেন, তাদের এই প্রয়াস হচ্ছে বন্ধুত্ব, শান্তি-সংহতি ও সহাবস্থানের জন্য। অনুষ্ঠানে দর্শক সারিতে বসে থাকা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনার উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিল নংরি বলেন, দু’বছর আগে আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওমাবামাকে গান শুনিয়েছি। আজকে আপনাকে এখানে পেয়ে খুব আপন লাগছে। আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও বাংলাদেশ মিলে এক নতুন বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবে, উদযাপনের উপলক্ষ তৈরি করে দেবে — এটাই প্রত্যাশা।
‘তু আশিকী হ্যায়’ গান দিয়ে শুরু হয় কনসার্ট। একে একে তারা গেয়ে শোনান ‘আজিব দাস্তা হ্যায় ইয়ে’, ‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে’, ‘স্ট্যান্ড বাই মি’, ‘কাল হো না হো’, ‘বাই দ্য রিভার্স অব ব্যাবিলন’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় সব গান। প্রায় আড়াই ঘণ্টা তাদের গানে ভেসে যায় শ্রোতা-দর্শক।
গতকাল দর্শক আসনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, বিএনপির কেন্দ ীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী মঈন খানসহ কূটনীতিক ও দেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
ভারতীয় সঙ্গীতে শিলং চেম্বার কয়্যার এক নতুন ধারার জন্ম দিয়েছে। পশ্চিমা সঙ্গীত ধারার কয়্যার সঙ্গীতকে ভারতের আধুনিক সঙ্গীতে নতুন করে তুলে ধরেছে তারা। বাংলাদেশের খুব কাছেই পাহাড়ী শহর শিলং-এ গড়ে ওঠা এই দলটি এখন সারা ভারতে জনপ্রিয় একটি দল। দলের শিল্পীরা তাদের সুরের জাদুতে মুগ্ধ করে চলেছেন বিভিন্ন শহরের শ্রোতা-দর্শকদের। কয়্যারের সম্ভারের মধ্যে রয়েছে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল সঙ্গীত। এরমধ্যে রয়েছে হান্ডেল, বাক, গার্সউইন, মোত্জার্ট। ভারতীয় সিনেমার সঙ্গীতকে কয়্যারের ধারায় পরিবেশন করে তারা তরুণ প্রজন্মের যেমন মন জিতে নিয়েছেন তেমনি সঙ্গীতবোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
খুব অল্প সময়ে শিলং চেম্বার কয়্যার ভারতের গানের জগতে নতুন করে নিজের অবস্থান করে নিয়েছে। ২০০১ সালে শুরু করার পরে তাদের জনপ্রিয়তা এমনভাবে পুরো ভারতে ছড়িয়েছে যে, ২০১১ সালে তাদের প্রকাশিত এলবাম সিনেমা গানের বাইরে সবচেয়ে বেশি বিক্রীত এলবাম। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে দু’দুবার গান শোনানোর আমন্ত্রণ পেয়েছে দলটি। একবার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামার সম্মানে রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান শোনান তারা। তাদের গানের সুরে পুরো ভারত যেমন মেতেছে, তেমনি বিশ্ব সঙ্গীতেও তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখে এসেছে। ২০১০ সালে চীনের সাংহাই শহরে আয়োজিত বিশ্ব কয়্যার প্রতিযোগিতায় তারা তিনটি বিভাগে সোনা জেতে। হিন্দি সিনেমাতে তাদের গান স্থান পেয়েছে। পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা।
প্রধান সমন্বয়ক নিল নংরির নেতৃত্বে শিলং কয়্যারের যাত্রা শুরু। এখন ২৫ জনের এ দলটিতে ১৫ জন শিল্পী। অন্যরা সুরকার ও বাদনশিল্পী। ২০০১ সালে পাইনউড হোটেলে দুদিনের অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে যে নতুন ধারা ভারতীয় সঙ্গীতে নিয়ে আসে দলটি তা দিন দিন তাদের জনপ্রিয়তার পরিধি বাড়িয়ে চলেছে। ভারতের গন্ডি ছাড়িয়ে দলটি ইংল্যান্ড, পোল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড. শ্রীলঙ্কা, ইতালিতে কনসার্টে অংশ নেয়।
