জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, আমাদের সম্পদ সীমিত, লুটপাট-আত্মসাত্ না করে স্বাধীনতার পর আমরা যদি সতর্কতার সঙ্গে এটুকু সম্পদেরও সদ্ব্যবহার করতে পারতাম তাহলে বর্তমানের চেয়ে অর্জন আরো বেশি হতো। গত ৪২ বছরে রাজনীতিবিদরা ঐক্যবদ্ধ না থাকায় দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন প্রত্যাশা অনুযায়ী করা যায়নি।
তিনি গতকাল পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) সদরে উপজেলা জেপির বিভিন্নস্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, আমি ৩৩ বছর ধরে দক্ষিণাঞ্চলসহ বাংলাদেশে যে কথা বলে আসছি সেখানে মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে সকল দলের ঐক্যের বিষয়ে সোচ্চার ছিলাম। এ ক্ষেত্রে বিশেষত দক্ষিণাঞ্চলের যতটুকু সফলতা অর্জন হয়েছে তা কম নয়।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলের অনেক নেতা অনৈক্য ও ঝগড়া-বিবাদের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি বলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন আশানুরূপ হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলে আমরা যদি নেতৃত্বের একতা ধরে রাখতে পারতাম, কেউ কেউ যদি অসহযোগিতা না করতেন তবে মানুষ অনেক বেশি উপকৃত হতো। রাজনীতিবিদদের মধ্যে দলীয় আদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়া কাম্য নয়।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমি এরশাদ সরকারের সাত বছর মন্ত্রী ছিলাম। তখন এলাকার উন্নয়নে সচেষ্ট থেকেছি। ’৯৬ সালে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় থাকাকালে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারা বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিনির্মাণে যে দায়িত্ব পালন করেছি সেক্ষেত্রে কোন নির্বাচনী রাজনীতি আমাদের মানসিকতায় ছিল না। আজ সবাই যেন ভোটে জেতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যেসব রাজনীতিক নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের জন্য উদগ্রীব-উদ্বিগ্ন থাকেন তাদের রাজনীতি ও নির্বাচনে আসা উচিত নয়।
তিনি বলেন, যেখানে দেশে নির্বাচন হবে কি হবে না এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার প্রধান এজেন্ডা তথা সরকার পতনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নানা আয়োজন চলছে সেখানে ভোটের জন্য প্রস্তুতির কথা তো অনিশ্চিত। চলমান রাজনীতিতে নতুন মাত্রাও লক্ষণীয়। ২৫ বছর আগে রাজনীতির চেয়ে উন্নয়ন সরকারের প্রধান কাজ হিসেবে বিবেচিত হতো। আজ ধর্ম, জঙ্গিবাদ, আন্তর্জাতিক ভারসাম্য রাজনৈতিক অঙ্গনে খুব বেশি করে প্রাধান্য পাচ্ছে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমরা পরাধীন ছিলাম, সংগ্রাম-যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছি। স্বাধীনতার সুফল মানুষকে পেতে হবে। তার মানে এ নয় স্বাধীনতার ফল মানুষ পায়নি। আমরা রাজনীতিবিদরা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের মানুষের জন্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে সকল রাজনৈতিক মহলের একটি বিষয়ে চেষ্টা থাকা উচিত যে, কিভাবে দেশ ভাল চলার পথ খুঁজে বের করা যায়।
সংগঠনের উপজেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেপি উপজেলা আহ্বায়ক নাজমুল ইসলাম সাঈদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি জেপির কেন্দ ীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, কেন্দ ীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, যুব সংহতির কেন্দ ীয় সদস্য মো. রমিজুল ইসলাম সোহাগ, নাজিরপুর উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মোসলেম, নেছারাবাদ উপজেলা সদস্য সচিব কাজী আনোয়ার সাদাত পিয়াল, পৌর কমিটির সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী, সম্পাদক মো. তুহিন আহসান, সাংগঠনিক সম্পাদক রতন কর্মকার, বলদিয়া ইউনিয়ন জেপি সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সোহাগদল ইউনিয়ন জেপি সম্পাদক মিল্টন মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন ও গুয়ারেখা ইউনিয়ন জেপি নেতা আবদুল কাইউম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুম আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মাসুম ফরাজী, জেপি নেতা আব্দুর করিম ভুঁইয়া, নাজিরপুর উপজেলা জেপির সভাপতি ডা. নাসির উদ্দিন, বলদিয়া ইউনিয়ন জেপি সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম, দৈহারী ইউনিয়ন সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন সম্পাদক মো. দুলাল সিকদার, সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন জেপি সম্পাদক মো. নূরুজ্জামান বেপারী, জলাবাড়ি ইউনিয়ন জেপি সম্পাদক মো. মোস্তফাজামান, সারেংকাঠি ইউনিয়ন জেপি নেতা আশরাফ আলী আকন, সোহাগদল ইউনিয়ন জেপি নেতা মো. রুহুল আমিন, মো. রকিব আহমেদ, স্বরূপকাঠি ইউনিয়ন জেপি সভাপতি ইউপি সদস্য মো. আলতাফ হোসেন, আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন জেপি সভাপতি ইউপি সদস্য বাবুল মন্ডল, গুয়ারেখা ইউনিয়ন সভাপতি মামুন শেখ, সম্পাদক রফিকুল ইসলাম নান্টু প্রমুখ।
নেছারাবাদ সফরকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সাথে ছিলেন কেন্দ ীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেনু, কেন্দ ীয় নেতা ও ভান্ডারিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, জেপি কেন্দ ীয় সদস্য ইউসুফ আলী আকন, ভিটাবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান মৃধা প্রমুখ।
