নির্বাচনে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে বর্জন করুন

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫০
জঙ্গিবাদ ও সামপ্রদায়িক আগ্রাসনে অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে দেশ এখন বেশি সঙ্কটাপন্ন বলে মনে করে ‘সামপ্রদায়িক-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চ’। মঞ্চের দ্বিতীয় জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা বলেছেন, যে অসামপ্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তা সামপ্রতিক জঙ্গি তত্পরতার কারণে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। এর ফলে দেশে সংখ্যালঘুর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসামপ্রদায়িক ও মৌলবাদ বিরোধী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। আগামী নির্বাচনে তারা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে বর্জন করারও আহবান জানান। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘সামপ্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চে’র দ্বিতীয় জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কনভেনশন শুরু হয়। দুটি পর্বে বিভক্ত কনভেনশনের প্রথম পর্বে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের আহবায়ক অজয় রায়। এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য পবিত্র সরকার, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামাল, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারাকাত, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ড. সারওয়ার আলী, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি মইনুদ্দিন খান বাদল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর, পাকিস্তান আওয়ামী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফারুক তারেক, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী এডভোকেট রানা দাস গুপ্ত, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মঙ্গল কুমার চাকমা, গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, গত ৪২ বছরে বারবার দেশের ধর্ম নিরপেক্ষ ঐতিহ্য নষ্ট করার চেষ্টা চলেছে। আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মও আছে, আবার ধর্ম নিরপেক্ষতাও আছে। একই সাথে তা কিভাবে সম্ভব তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি গত এক বছরে জঙ্গি তত্পরতার বিরুদ্ধে সুশীল সমাজের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কথা স্বীকার করে জঙ্গিবাদ ও সামপ্রদায়িক সহিংসতার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আহবান জানান। পবিত্র সরকার উপমহাদেশের তিন দেশে জঙ্গি তত্পরতার কারণে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহতের আহবান জানান। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ৭১ এর চেয়েও বর্তমানের সঙ্কট আরও বেশি জটিল। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই জটিলতা প্রতিহত করতে হবে। এজন্য তিনি নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ভোট দেয়ার আহবান জানান। ড. সারওয়ার আলী বলেন, দেশে মতাদর্শগত বিভাজন গভীরতর হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি জাতি রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এখন সেই আদর্শের ওপর আঘাত আসছে। ৭১ সালে নারী ও সংখ্যালঘুদের উপর যেমন আঘাত এসেছিল এখনও তেমন হচ্ছে। তবে একটি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া দেশে এ উদ্দেশ্য সফল হবে না। তিনি এই অবস্থায় সচেতন নাগরিকদের নিরপেক্ষ থাকার কোন সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন। অধ্যাপক আবুল বারাকাত জঙ্গিবাদ বৃদ্ধির মূলে জামায়াতে ইসলামীর অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে দায়ী করে বলেন, দলগুলোর আগামী নির্বাচনের ইস্তেহারেই যেন জামায়াতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত করার কথা উল্লেখ থাকে। তিনি জামায়াতের ব্যাংক অডিট করে এর অর্থনৈতিক উত্স ও ব্যয়ের হিসাব বের করারও পরামর্শ দেন। এডভোকেট সুলতানা কামাল ভোটের সময় রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তন না করে নারী উন্নয়ন নীতির পূর্ণ বাস্তবায়নের আহবান জানান। এডভোকেট রানা দাস গুপ্ত মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আহবান জানান। ফারুক তারেক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য বাংলাদেশকে স্বাগত জানান এবং মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য পাকিস্তানিদের সম্মানিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ডা. ইমরান এইচ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান। আন্যান্য বক্তা আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করা এবং প্রগতিশীল রাজনীতি মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়ার আহবান জানান। ২৫টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সামপ্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের দিনব্যাপী এই কনভেনশনের দ্বিতীয় পর্বে সাংগঠনিক বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়।