নির্দলীয় সরকারের দাবির পক্ষে জনমত সৃষ্টি করে আন্দোলন জোরদারের লক্ষ্যে তৃণমূলে যাচ্ছে বিএনপি। এ সময় দলটি আগাম নির্বাচনী প্রচারণার কাজও এক ধাপ সেরে নেবে। এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামীকাল রবিবার থেকে তৃণমূল সফর শুরু করতে যাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে আটটি জেলায় তিনি জনসভা করবেন। কাল প্রথম জনসভা করবেন নরসিংদীতে। এসব জনসভায় তিনি আন্দোলন শক্তিশালী করার আহ্বানের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে নিজ দল-জোটের পক্ষে সমর্থনও চাইবেন বলে জানা গেছে।
বিরোধী দলীয় নেতার তৃণমূল সফর উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ১৮ দলীয় জোটের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন আমাদের পেছনে যাওয়ার সুযোগ নেই। আসন্ন ঈদের পর আমরা সরকার পতনের আন্দোলনে যাবো। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে জনমত গড়তে আট জেলায় খালেদা জিয়ার জনসভার কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
নোমান বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধানে নানা সংশোধনী এনে এটাকে ‘দলীয় সংবিধানে’ পরিণত করেছে। দলীয়করণ করে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বিনষ্ট করেছে। এ অবস্থায় বর্তমান প্রশাসনের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকার নিয়ে অর্থবহ সংলাপ হতে হবে। কোনো লোক দেখানো সংলাপে বিএনপি অংশ নেবে না। আমরা সরকারকে বলতে চাই, এখনো সময় আছে- সংকট সমাধানে নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা সংবিধানে সংযোজনের উদ্যোগ নিন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে বিএনপি কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোটের মহাসচিবদের বৈঠক হয়। বৈঠকে ১৮ দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার নরসিংদীসহ আট জেলা সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতের মজলিশে শুরা সদস্য রেদোয়ান উল্লাহ শাহেদী, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের, বিজেপি’র সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খন্দকার সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়ার তৃণমূল সফর নিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপিও গতকাল এক যৌথ সভা করেছে। সকালে নয়া পল্টনে মহানগর কার্যালয়ের ভাসানী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় নরসিংদী যাওয়ার পথে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে নয়াপল্টন থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর পর্যন্ত স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে বৈঠকে মহানগর সদস্য সচিব আব্দুস সালামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
