নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় স্কুল ছাত্র নাজমুল আলম হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করেছে স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের ক্ষোভ। ওই ইউপি সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে অপমান আর তার ছেলেকে মারধরের ক্ষোভেই হত্যা করা হয় নাজমুলকে। এই কাজে ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তারই দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে। দেড় লাখ টাকা চুক্তিতে ওই ইউপি মেম্বারের কথায় ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু নাজমুলকে হাত-পা বেঁধে কুপিয়ে হত্যা করে।
ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত এক বন্ধু মাসুদ ওরফে চুইল্লা মাসুদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদের আদালতে মাসুদের এ জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা হোসেনের আদালতে কিলিং মিশনে থাকা অপর বন্ধু আলামিন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
আদালতে দেয়া দুইজনের জবানবন্দি ছিল অভিন্ন। তাদের জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নাজমুল ছিল উচ্ছৃঙ্খল। এ কারণে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) আলী হোসেনের সঙ্গে তার কয়েক দফা বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আলী হোসেনকে এলাকার লোকজনের সামনে গালমন্দ করে নাজমুল। এ নিয়ে সালিশী বৈঠক হওয়ার পরেও দ্বিতীয় দফায় রাস্তায় আলী মেম্বারকে নাজেহাল করে নাজমুল। তখন থেকেই আলী হোসেন নাজমুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে মাসুদ ও আলামিনকে এ কাজে সংশ্লিষ্ট করা হয়।
নয় জুলাই দিনের বেলায় পাগলা ক্যানেল পাড় এলাকায় আলী মেম্বারের ছেলে নাহিদকে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মারধর করে নাজমুল। আর ওই রাতেই নাজমুলের বাবা ও মা ফরিদপুরে চলে যায়। এই সুযোগে রাতে একটি দোকানে চা পানের সময় নাজমুলের বাসায় রাত যাপনের প্রস্তাব দেয় আলামিন ও মাসুদ। নাজমুল রাজি হয়। তারপর আলামিন ও মাসুদ মিলে আলী মেম্বারের সঙ্গে দেখা করে তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে আসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সারারাত তারা তিনজন মিলে কার্ড খেলে। ভোরে নাজমুল ঘুমিয়ে গেলে আলামিন ও মাসুদ মিলে তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ঘরে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ভোরে দুইজন বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। আলামিন পরে শরীয়তপুর চলে যায় আর মাসুদ থাকে এলাকাতে।
নাজমুল হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আনিসুর রহমান জানান, গত ১০ জুলাই ফতুল্লার পাগলার বাসা থেকে নাজমুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শরীয়তপুর এলাকা হতে আলামিনকে গত রবিবার গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পরে মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত নাজমুল ফতুল্লার পাগলা নয়ামাটি মুসলিমপাড়া এলাকার আবদুর রবের ছেলে এবং পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র।
