সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের নেহার মার্কেটে স্বর্ণের দোকানে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় জড়িতরা গ্রেফতার না হলে আগামীকাল রবিবার ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহসপতিবার রাতে সিলেটের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভা থেকে এই আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়।
গত বুধবার সন্ধ্যায় ব্যস্ততম জিন্দাবাজারের নেহার মার্কেটে ককটেল ফাটিয়ে, অনবরত গুলি ছুঁড়ে বেশ কয়েকটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাত দল দোকানের কয়েকজন কর্মচারীকে গুলি করে প্রচুর পরিমাণের স্বর্ণ লুটে নেয়। এ সময় কর্তব্যরত সিকিউরিটি বাদশা মিয়া এগিয়ে আসলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এদিকে বুধবারের ডাকাতির ঘটনায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। সিলেটের অনেকেই বলেছেন, এ ধরনের ঘটনার পিছনে ‘বড় হাত’ থাকতে পারে। তদন্ত হলে রহস্য উদঘাটিত হবে। সিলেট ডিবি পুলিশ এই ঘটনার রহস্য বের করতে ও জড়িতদের ধরতে মাঠে কাজ করছে বলে সূত্র জানায়। ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি স্রেফ ডাকাতি না অন্য কিছু সেদিকেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার সাথে রাজনৈতিক কর্মীদের কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা সেদিকেও নজর রাখছে ডিবি।
সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কেউ থানায় মামলা করেননি। এসএমপির একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার সারাদিন তিনি নিজে কতোয়ালী থানায় বসেছিলেন মামলা নেয়ার জন্য। কিন্তু তারা আসেননি। এমনকি এসব দোকান থেকে কত ভরি স্বর্ণ খোয়া গেছে এ সম্পর্কেও পুলিশকে অবহিত করা হয়নি। যদিও ডাকাতির পর বিভিন্ন মিডিয়ায় হাজার ভরির কথা প্রচার হয়েছে। পুরো বিষয়টি ধূম্রজালে আটকা আছে বলে অনেকে মনে করছে।
শুক্রবার রাত ৯ টায় এসএমপির কমিশনার ক্ষতিগ্রস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানান তার অফিসে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রতিবাদে পর দিন সিলেট শহরের সবকটি স্বর্ণের দোকান বন্ধ থাকে এবং নগরীর ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে আসেন। পুলিশ এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে তাদের নিকট থেকে এখন পর্যন্ত কোন তথ্যই উদ্ধার হয়নি। তবে পুলিশ মালামাল উদ্ধার ও আসামি ধরার ব্যাপারে আশাবাদী। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি শেখ মো. মখন মিয়ার সভাপতিত্বে এবং জেলা সাংগঠনিক সমপাদক এইচএ তাফাদার রুহেল ও মহানগর শাখার সাংগঠনিক সমপাদক মো. নাজমুল হকের যৌথ পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সমপাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তুরন মিয়া, মহানগর শাখার সাধারণ সমপাদক চন্দন সাহা, চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ মিছবাহ, সাবেক পরিচালক লায়েছ উদ্দিন, নূরুল ইসলাম, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আলতা মিয়া, সাধারণ সমপাদক বাবুল আহমদ প্রমুখ।
