বংশাই নদীতে কয়েকটি স্থানে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর এলাকায় ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করছে। তীব্র ভাঙ্গনের ফলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উত্তরাঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) ১১ কিঃ মিঃ বেড়িবাঁধ ও রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। সেই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে সদ্য বংশাই নদীর ত্রিমোহন এলাকায় নির্মিত ৩০০ মিটার পাকা ব্রিজ। ইতিমধ্যে মির্জাপুর শহর রক্ষা বাঁধটির ভাঙ্গনের ফলে মির্জাপুর-পাথরঘাটা ও লতিফপুর-তরফপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ঐ এলাকায় বেড়িবাঁধ, শতশত একর ফসলী জমি, বাড়িঘর বিলীন হচ্ছে বলে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ করেছেন। গত শুক্রবার বংশাই নদীর গোড়াইল, ত্রিমোহন, চাকলেশ্বর, থলপাড়া ও ফতেপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর আশপাশে ভাঙ্গনের ভয়াবহ চিত্র। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ভাঙ্গন ঠেকানোসহ বালুচোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শুক্রবার কয়েক শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. একাব্বর হোসেনের মির্জাপুর শহরের বাসায় অবস্থান নেয়। এমপি এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে ক্ষতিগ্রস্তদের জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে থলপাড়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আলী আযম, মো. হারুন অর রশিদ, সালাম মেম্বার ও তোফাজ্জল হোসেনসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, একটি মহল সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বংশাই নদীর ত্রিমোহন, গোড়াইল, চাকলেশ্বর, হিলড়া আদাবাড়ি, থলপাড়া, ফতেপুর, কোদালিয়া ও আজগানাসহ বেশ কিছু এলাকায় ২৫/৩০টি ড্রেজার মেশিন নদীর বুকে লাগিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা ইতিপূর্বে পৌর মেয়র, স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারপরও প্রভাবশালী মহলের খুঁটির জোরের কারণে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের সঙ্গে পাহাড়ি উত্তরাঞ্চলের ফতেপুর, তরফপুর, লতিফপুর, আজগানা, বাঁশতৈল ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষের যোগাযোগের অন্যতম রাস্তা মির্জাপুর-পাথরঘাটা সড়কটি। বংশাই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এই রাস্তাটি নদীতে ভেঙ্গে চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গত এক মাস ধরে ড্রেজার দিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ফলে উত্তরাঞ্চলবাসীকে ১৫/২০ মাইল ঘুরে পাথরঘাটা বাজারে যেতে হচ্ছে। তাদের দুর্ভোগ এখন চরম আকার ধারণ করছে। জরুরিভিত্তিতে ভাঙ্গন কবলিত বাঁধের আশপাশে ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বাঁধটি পুরোপুরি নদীতে বিলীন হবে বলে আশংকা করছে এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন সুলতানা এবং মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আকতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
