লিগেও স্মরণীয় ফুটবল উপহার দিতে চায় আবাহনী

আপডেট : ১৬ মে ২০১৯, ২১:৪১

এএফসি কাপ ফুটবলে আবাহনীর উজ্জীবিত ফুটবল নৈপুণ্য এবার লিগে দেখতে পাবে দর্শক। আবাহনীর ফুটবলারদের শপথ লিগের পারফরম্যান্স আরো ভালো করতে হবে। কারণ সামনে আবাহনীর বড় ম্যাচ। রবিবার বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে লড়াই। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা হবে। সেই খেলায় লিগ ট্রফি জয়ের পথও অনেকটা পরিষ্কার হবে। ট্রফি কার ঘরে যেতে পারে, সেই রেখা দেখা যাবে। কারণ বসুন্ধরা কিংস সবার আগে রয়েছে। যদিও ফিরতি পর্ব মাত্রই শুরু হয়েছে। তারপরও বসুন্ধুরা কিংস এবং আবাহনীর লড়াইটির উপর নির্ভর করছে লিগ ট্রফি জয়ের সম্ভাব্য দল।

আবাহনী দারুণ উজ্জীবিত। এএফসি কাপ ফুটবলে ঘরের মাঠে সেদিন ভারতের চেন্নাইন এফসিকে দারুণ ভাবে হারিয়েছে। বুধবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠে আবাহনী যেন স্মরণীয় খেলা খেলেছে। ৬ মিনিটে গোল হজম করে গোল শোধ করে এগিয়ে থাকা আবাহনী দ্বিতীয় গোল হজম করেছিল। সেখান থেকে গোল করে ম্যাচ জিতেছে আবাহনী। বেলফোর্ট প্রথম গোল শোধ করেন, মাসিহ সাইঘানী সেটপিস থেকে ছবির মত গোল করেন। মামুনুল ইসলাম ম্যাচ জয়ের গোলটি করে আবাহনীকে এএফসি কাপ ফুটবলে টিকিয়ে রাখলেন। পরিসংখ্যান বলছে সাইঘানী যে ম্যাচে গোল করছেন সেই ম্যাচে আবাহনী হারেনি। লিগ কিংবা এএফসি কাপ দুটোই।

এএফসি কাপ ফুটবলে গ্রুপ হতে ১টি দল পরবর্তী রাউন্ডে উঠবে। সেরা রানার্সআপ হওয়ার সুযোগ থাকবে সব দলের জন্য। আবাহনী যদি চেন্নাইনের বিপক্ষে হেরে যেত তাহলে বিদায়টা হয়ে যেত। সেখান থেকে অসম্ভব একটা জয় তুলে নিয়ে আবাহনী এখনো এএফসি কাপে নিজেদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে। চেন্নাইন এফসি যদি আবাহনীকে হারাতো তাহলে তাদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে যেত। এই স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসা চেন্নাইনের স্বপ্ন ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে আবাহনীর ফুটবলাররা। হাইতির বেলফোর্ট, নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবা, আফগানিস্তানের মাসিহ সাইঘানী, রায়হান, জুয়েল রানা, জীবন, সোহেল রানা, ওয়ালী ফয়সালরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করেছেন। দলের মধ্যে এতো ইনজুরি। তপু বর্মন, ফাহাদ, টুটুল হোসেন বাদশা ইনজুরিতে দলের সবচেয়ে বাজে সময়। রক্ষণভাগ পুরোই খালি ছিল। সেখানে উইংব্যাক রায়হান  মুল স্টপারের দায়িত্ব পালন করেন। শুধু তাই নয় এই ডিফেন্ডারের লম্বা থ্রোয়ে আতংকিত ছিল চেন্নাইন এফসি। তাদের উপর মরণ কামড় বসিয়ে বুধবারের রাতটা রাঙ্গিয়ে তুলেছেন আবাহনীর ফুটবলাররা। একটা জয় খাদের কিনারা হতে তুলে এনে আবাহনীকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

চেন্নাইনের ইংলিশ কোচ জন গেগরী বলছিলেন আবাহনীর মাসিহ সাইঘানীর ফ্রি কিক এবং মামুনুলের একটা ভয়ংকর শট খেলার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। আবাহনী নিয়ে এই কোচ বললেন, ‘আবাহনী প্রথম গোল খাওয়ার পর ধরে নেয় হারাবার আর কিছু নেই। এখন মরণ কামড় দিতে হবে। সেটাই করেছিল তারা।’ রায়হানের লম্বা থ্রোয়ের প্রশংসা করেছেন ইংলিশ কোচ। মামুনুল যে গোলটি করেছেন সেই বলটা রায়হানের লম্বা থ্রো হতে এসেছিল। হতাশ হয়ে কোচ বলছিলেন,‘অন্তত ড্র হলেও কথা ছিল। হারের কারণে এখন একটা চাপ থাকবে। কারণ গ্রুপের অন্য খেলায় ভারতের মিনারভা পাঞ্জাব এবং নেপালের মানাংমারসিয়াংদি ড্র করেছে।’

ম্যাচ জয়ের পর আবাহনীর পর্তুগীজ কোচ মারিও লেমসের আনন্দ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের শ’দুয়েক দর্শককে আবেগে ভাসিয়েছে। ইফতারের পরই খেলা শুরু হয়। যারা মাঠে যাননি তারা স্মরণীয় খেলাটার সাক্ষী হতে পারেননি। ভাঙাচোরা একটা দল নিয়ে আবাহনী কি অসাধারণ ফুটবলই না খেলেছে। সেই আনন্দে আবাহনীর কোচ মারিও লেমস গ্যালারির কাছে গিয়ে সমর্থকদের আবেগে নাড়িয়ে দেন। কোচ বলেছেন, ‘গ্রেট ফর আবাহনী, গ্রেট ফর কান্ট্রি।’ এক গোলেই আবার আলোচনায় মামুনুল ইসলাম। বললেন,‘ এমন গোল আরো আছে। মানুষ ভুলে যায়।’ মামুনুল আশার বাণী শুনিয়ে গেছেন ‘বাংলাদেশের ফুটবল কিছুই হারায়নি। অপেক্ষা করছে কিছু পাওয়ার জন্য।’ মামুনুল আশা জাগিয়ে রাখতে চান। চেন্নাইন এফসি এবং আবাহনীর ৭ পয়েন্ট করে। গোল গড়ের পার্থক্যে চেন্নাইন উপরে। আরো দুই ম্যাচ আছে। অংকের হিসাবও রয়ে গেছে। পাল্টে যেতে পারে হতাশার ছবি।