এপারে গোপালপুর উপজেলার ডুবাইল। আর ওপারে ঘাটাইল উপজেলার শালিয়াজানি। মাঝখানে মরা নদী শালিয়া। এপারে বিদ্যুত্ সরবরাহ করে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুত্। আর ওপারে টাঙ্গাইলের পিডিবি। এপারে গ্রাহকরা ২৪ ঘণ্টায় তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুত্ পায় না। পল্লী বিদ্যুত্ আর পিডিবি’র গ্রাহক হওয়ার ভিন্ন পরিচয়ে বিদ্যুত্ সরবরাহে এ নজীরবিহীন বৈষম্য চলছে একটানা ৮ বছর ধরে। ২০০৫ সালে সরকারি সিদ্ধান্তে পিডিবি’র সার্ভিস এলাকা পল্লীবিদ্যুতের কাছে হস্তান্তর হওয়ার পর থেকেই এ চরম বৈষম্য চলছে। পার্শ্ববর্তী মধুপুর ও ধনবাড়ি উপজেলাও পল্লী বিদ্যুতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানকার গ্রাহকরাও চরম বিদ্যুত্ সঙ্কট মোকাবেলা করছে। পল্লী বিদ্যুতের গোপালপুর ও মধুপুর জোনাল অফিস জানায়, এ তিন উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২৬ মেগাওয়াট। পিডিবি’র জামালপুর ও টাঙ্গাইল গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হয় ৪/৫ মেগাওয়াট। আবার পিক আওয়ারে কোন কোন দিন সরবরাহ জিরো রাখা হয়। পল্লী বিদ্যুত্ সরবরাহ পাওয়া এক পঞ্চমাংশ বিদ্যুত্ ১২টি ফিডারে পর্যায়ক্রমে চালায়। এজন্য এক ফিডারে বিদ্যুত্ চালু হলে বাকি ১১ ফিডার বন্ধ থাকে। পর্যায়ক্রমে সকল ফিডার চালু রাখতে ২৪ ঘণ্টায় ৩/৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুত্ গ্রাহকরা পাচ্ছে না। বিদ্যুতের দাবিতে অফিস ভাংচুর, অবস্থান ধর্মঘট এবং হরতাল পালন করেও গ্রাহকরা নিষ্কৃতি পায়নি। গোপালপুর জোনাল ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। ঘাটাইল পিডিবি’র কর্মকর্তারা জানান, পিডিবির গ্রাহকদের নিয়মিত বিদ্যুত্ সরবরাহ করা তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। বাড়তি বিদ্যুত্ থাকলে পল্লী বিদ্যুত্ পাবে। এ ক্ষেত্রে তাদের করণীয় কিছু নেই।
