অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিরোধী জোট বিজয়ী হয়েছে। লেবার দলীয় প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড পরাজয় মেনে নিয়েছেন। ফল প্রকাশ হবার পর গতকাল ব্রিসবেনে তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী টোনি অ্যাবটকে টেলিফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।
গতকাল তিন চতুর্থাংশের বেশি ভোট গণনার পরপরই নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দেয়, অ্যাবটের নেতৃত্বাধীন লিবারেল-ন্যাশনাল জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিজয় ঘোষণার পর অ্যাবট তার ভাষণে নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ‘কথা দিয়ে নয় -কাজ দিয়েই জনগণ আমাদের সরকারকে বিচার করবে।’ তিনি আরো বলেন একবছরের মধ্যে তিনি বিতর্কিত কার্বন কর বিলোপ করবেন, এশিয়া থেকে নৌকায় অভিবাসীদের আসা তিনি বন্ধ করবেন এবং তার সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নীতির ফলে জনগণ উদ্ধৃত্ত বাজেট প্রত্যক্ষ করবে।টোনি অ্যাবট লিবারেল ন্যাশনাল জোটের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন ২০০৯ সালে।
গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের জায়গায় কেভিন রাডকে আবার প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরিয়ে এনেছিল লেবার পার্টি। জনমত জরিপে জুলিয়া গিলার্ডের নেতৃত্বে দলের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে পড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ার পর দল প্রধানমন্ত্রীর পদে রাডকে পুর্ননির্বাচিত করে। লেবার পার্টি প্রধানের পদ হারানোর পর জুলিয়া গিলার্ড অবসর নেন। ২০১০ সালে কেভিন রাডকে সরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন গিলার্ড।
এই নির্বাচনে প্রধান ইস্যু ছিল দেশের অর্থনীতি, অভিবাসন, ও বির্তকিত কার্বন ট্যাক্স । নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জে জুলিয়া গিলার্ডকে পরাজিত করার পর কেভিন রাড নির্বাচন ডাকলেও নির্বাচনী প্রচারাভিযান তার জন্য ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জের। কারণ তিনি প্রচারাভিযান চালিয়েছেন এমন এক পরিস্থিতিতে যখন দলের গ্রহণযোগ্যতা একেবারে তলানিতে পৌঁছে গেছে।
