রাজধানীর পরীবাগে শুক্রবার মধ্যরাতে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ব্লগার আরিফ নূরকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে সন্ত্রাসীরা। আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত আরিফকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে, পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত আরিফের ঘনিষ্ঠ স্বজনরা জানান, আরিফ নূর ছিলেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী। হামলার আগে শাহবাগের বিভিন্ন শ্লোগান নিয়ে ব্যঙ্গ করছিল হামলাকারীরা। তাই এটি জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, হামলাকারীরা আরিফের কাছ থেকে কিছুই নেয়নি। মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ তার কাছেই ছিল। তার মাথায় ধারাল অস্ত্রের তিনটি জখম পাওয়া গেছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে- হত্যার উদ্দেশ্যেই আরিফের উপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে তার চিত্কারে পাশের পেট্রোল পাম্পের লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এদিকে আরিফ নূরের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে মশাল মিছিল করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, আগের ঘটনাগুলোর বিচার না হওয়ায় আরিফের উপর হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা।
আরিফের ঘনিষ্ঠ স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে আরিফ শাহবাগে আড্ডা দিয়ে পরীবাগে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে পরীবাগ ওভার ব্রিজের নিচে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা তার মাথায় ছুরিকাঘাত করে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আরিফ নূরের অবস্থা উন্নতির দিকে। তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত। তার মাথায় ছুরিকাঘাতের তিনটি জখম পাওয়া গেছে। ১৫টি সেলাই দেয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, ওভার ব্রিজের নিচে যাওয়ামাত্র আরিফের সামনে একটি মাইক্রোবাস থামে। মাইক্রোবাস থেকে চার-পাঁচজন বেরিয়ে এসে আরিফকে কোপাতে থাকে। পাশের সিএনজি স্টেশনের লোকজন তা দেখে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সটকে পড়ে।
গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক মারুফ রসুল বলেছেন, হামলাকারীরা প্রথমে শাহবাগের আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে আরিফকে ব্যঙ্গ করে। আরিফ তখন দৌড় দিলে পেছন থেকে তাকে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত আরিফকে প্রথমে পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনের নিয়মিত ও সাহসী কর্মী আরিফ। প্রতিক্রিয়াশীল জামায়াত-শিবির চক্র এ ঘটনার সাথে জড়িত। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের উপর হামলা শুরু থেকেই হয়ে আসছে। জামায়াত-শিবিরসহ যুদ্ধাপরাধীদের দোসররাই এ হামলার জন্য দায়ী।
শাহবাগে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুল ইসলাম সুমন, ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তানভীর রুসমত, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, ব্লগার মারুফ রসুল।
