বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়েই আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে রাজি নয়। দেশে নির্বাচন হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জামানত হারাবে।
গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মাহমুদুর রহমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে বার বার সংবিধান পরিবর্তন করেছে। এবার জনগণের দাবিতে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে।
ফেলানী হত্যা মামলায় আসামির মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের নতজানু পররাষ্ট নীতির কারণে ফেলানীর পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ সরকারের আমলে আমাদের ৪০০-৫০০ নেতা-কর্মী নিহত হয়েছে। ইলিয়াস আলীসহ ৬১ জন নেতা-কর্মী গুম হয়েছে।
সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যদের নির্দোষ ঘোষণার সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ভারতের জন্য এটা ঠিকই আছে। ভারতের আদালত ফেলানী হত্যার আসামিকে নির্দোষ প্রমাণ করেছে। কিন্তু আমার দুঃখ হচ্ছে, আমাদের সরকার এর বিরুদ্ধে জোরালো ভাষায় কোনো প্রতিবাদ করেনি। সব সময় নতজানু অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেন বিএনপি কী করছে? বিরোধী দল বিরোধী দলের কাজ করছে। আমরা বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। আমরা কোনো হঠকারী বা সশস্ত্র দল নই। আমরা বিপ্লব করে ক্ষমতায় যেতে চাই না। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তন চাই।
ফখরুল বলেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর সরকারের রাগ বেশি। কারণ তিনি সরকারের আসল চেহারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন,দেশ একটি ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বোঝা যাবে সরকার ও বিরোধী দল এ সংকট নিরসনে কী করছে।
অনুষ্ঠানে বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, সত্য কথা বলায় মাহমুদুর রহমানকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাবের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক প্রকৌশলী আ.ন.হ আখতার হোসেন পিইঞ্জ। আরো বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের নেতা মিয়া মো. কাইয়ুম, বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান প্রমুখ।
