নারীকে নিয়ে প্রথম থেকেই সাহিত্য চর্চা হয়ে আসছে। যার অধিকাংশ স্থানেই প্রাধান্য পেয়েছে নারীর অঙ্গ ও রূপ সৌষ্ঠব। আর এগুলোতে প্রভাবিত ছিলো পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। ফলে সাহিত্য থেকে মানব মুক্তির কথা বলা হলেও নারী মুক্তির বিষয়টি চাপা ছিলো সব সময়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ’ বিভাগের ‘ডি ডব্লিউ জি এস’ কোর্সের শিক্ষার্থীরা আয়োজিত এমিরেটস অধ্যাপক ড আনিসুজ্জামানের ‘বাংলা সাহিত্যে নারী শীর্ষক একক বক্তব্য’ অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁর মতে আমাদের নারীরা সব সময় পুরুষতান্ত্রিক নিয়ম পদ্ধতির মাঝে বেড়ে উঠছে।
সাহিত্য মানব মুক্তির কথা বললেও বাংলা সাহিত্য সব সময়ই প্রভাবিত হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা। ফলে কিছু নারী সাহিত্যিকের আগমন ঘটলেও তাদের সাহিত্য কর্ম পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টি ভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। এখনো আমাদের সাহিত্যে নারীর অবস্থান তার অঙ্গরূপ আর পুরুষের অধীনস্ত হিসেবেই বিবেচ্য হয়।
নারীর জন্যে নারীর দৃষ্টিভঙ্গি, নারীর চিন্তা চেতনা, তার চাহিদাকে প্রাধান্য করে কোন সাহিত্য সৃষ্টি হয় না। নারীরা আদি সময় থেকেই পুরুষের চিন্তা চেতনা আর ইচ্ছাকে নিজের ইচ্ছে বলে মনে করতো, এটা পুরুষ তান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার ফল। এখন নারীরা অনেক এগিয়েছে। ঘরে বাইরে আগের চেয়ে তাদের পদচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নারীরা ভূমিকা রাখছে। এগুলো আশার কথা হলেও নারীর মনোবিকাশে ভূমিকা রাখার মতো সাহিত্য এখনো এখানে সৃষ্টি হয়নি। বরং, আমাদের সাহিত্য নারীকে বার বার মনে করিয়ে দেয় যে, সে পুরুষের অধীনস্ত।
পুরুষের জন্যেই তার যাবতীয় চিন্তা ভাবনা ও কাজ কর্ম। ফলে নারীর বাহ্যিক মুক্তি পাওয়া গেলেও মানসিক মুক্তির দ্বার এখনো উন্মোচিত হয়নি। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বক্তব্যানুষ্ঠানে অধ্যাপক ড, আনিসুজ্জামান বর্তমান বাংলা সাহিত্যে নারীর অবস্থান এবং নারীর জন্যে সাহিত্যে চিন্তা ভাবনা কেমন হতে পারে এ বিষয়গুলো প্রাণবন্ত করে তুলে ধরেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. তানিয়া হক ও এমিরেটস অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী এবং ‘উইমেন স্টাডিজ’ ও অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকমন্ডলী উপস্থিত ছিলেন।
অনুলিখন: লাবিব নাজমুছ ছাকিব
