মাইক্রোসফট ভাইস প্রেসিডেন্ট জুলি লারসন গ্রিন

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:০১
মাইক্রোসফট কর্পোরেশন একটু একটু করে এগিয়ে চলছে সফলতার হাত ধরে। আর এই কোম্পানির কথা জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে। অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সম্পদ বা রিসোর্স ব্যবস্থাপনাকারী কতগুলো কম্পিউটার প্রোগ্রামের সমষ্টি। অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটার ও ব্যহারকারীদের ইনপুট নেয় এবং বিভিন্ন টাস্ক ও কম্পিউটারের আভ্যন্তরীণ সিস্টেম সম্পদগুলো বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা করে ব্যবহারকারী ও অন্যান্য পে প্র্রোগ্রামকে সেবা প্রদান করে। মেমোরি বণ্টন ও নিয়ন্ত্রণ, সিস্টেম অনুরোধগুলোর অগ্রাধিকার নির্ণয়, ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ও ফাইল সিস্টেম ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সবকিছু অপারেটিং সিস্টেমের কাজ। উইন্ডোজ, লিনাক্স, ইউনিক্স, ম্যাক ওএস ও অ্যানড্রয়েড প্রচলিত কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম। অপারেটিং সিস্টেম অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামগুলো চালানোর জন্য পরিবেশ তৈরি করে। ব্যবহারকারীর কাছে অপারেটিং সিস্টেমের সবচেয়ে দৃশ্যমান রূপ হলো কম্পিউটারের ইন্টারফেস। এরপর আসা যাক, মাইক্রোসফট কোম্পানি সম্পর্কে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কম্পিউটার প্রযুক্তি কর্পোরেশন। এটি বিভিন্ন কম্পিউটার ডিভাইসের জন্য সফটওয়্যার তৈরি, লাইসেন্স দেওয়া এবং পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। এটির সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের রেডমন্ড শহরে অবস্থিত। এদের সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যারগুলো হলো মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এবং মাইক্রোসফট অফিস। ১৯৭৫ সালের ৪ এপ্রিল মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠিত হয়। এদের প্রত্যেকটি সফটওয়্যারই ডেস্কটপ কম্পিউটার বাজারে প্রায় সর্বব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে। এ ছাড়াও মাইক্রোসফট এমএসএনবিসি ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, এমএসএন ইন্টারনেট পোর্টাল, মাইক্রোসফট এনকার্টা মাল্টিমিডিয়া বিশ্বকোষের মালিক। মাইক্রোসফট কম্পিউটার হার্ডওয়্যার যেমন মাইক্রোসফট মাউস এবং হোম এন্টারটেইনমেন্ট যেমন এক্সবক্স, এক্সবক্স ৩৬০ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের বহুল ব্যবহূত অপারেটিং সিস্টেম। গ্রাফিক্যাল অপারেটিং সিস্টেমের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৫ সালের নভেম্বরে মাইক্রোসফট তার ডস (ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম)-এর বাড়তি সুবিধা হিসেবে উইন্ডোজ বাজারে আনে। এর পর এখন পর্যন্ত এটি ব্যক্তিগত বা ডেস্কটপ কম্পিউটারে ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। ঁজুলি লারসন গ্রিন ও মাইক্রোসফট কিছুদিন আগেই মাইক্রোসফট ছেড়ে চলে গেছেন স্টিভেন সিনোফস্কি। উইন্ডোজ ফ্র্যাঞ্চাইজকে পুনর্জীবন দানকারী এবং উইন্ডোজ এইট কার্যক্রমকে সফলভাবে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিটি মাইক্রোসফট ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন আগেই। প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাওয়ার তার এই সিদ্ধান্তকে মিউচুয়াল বলে দাবি করা হলেও ঘোষণার আকস্মিকতা অনেকের মনে ভিন্ন প্রশ্ন জাগ্রত করেছেন। মাইক্রোসফট ছেড়ে স্টিভেন সিনোফস্কি বিদায় নেওয়ার পর এ দায়িত্ব পেয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রকৌশলী জুলি লারসন গ্রিন। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থাকবে গ্রিনের অধীনে। তিনি সরাসরি মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী স্টিভ বলমারের কাছে জবাবদিহি করবেন। জুলি লারসন গ্রিন ততটা পরিচিত না হলেও মাইক্রোসফটে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। উইন্ডোজ বিভাগের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে জুলি লারসন গ্রিন মাইক্রোসফটের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। উইন্ডোজের সঙ্গে জড়িত আছেন এমন এক হাজার ২০০ জন প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক, গবেষক, কনটেন্ট ব্যবস্থাপকেরা তাদের কাজের জন্য লারসন গ্রিনের কাছে জবাবদিহি করতেন। লারসন গ্রিন ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করার পরপরই মাইক্রোসফটে যোগদানের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেসময় তিনি মাইক্রোসফটে চাকরি পাননি। এরপর তিনি ডেস্কটপ-পাবলিশিং-সফটওয়্যার নির্মাতা আলদুস এর কল লাইন সাপোর্ট টিমের সদস্য হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৩ সালে ভিজুয়াল সি++ দলের সদস্য হিসেবে মাইক্রোসফটে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার টিম এবং ১৯৯৭ সালে ফ্রন্ট পেজ নিয়ে কাজ করার জন্য অফিস টিমের সঙ্গে যোগ দেন। এখানে তিনি প্রোগ্রাম ম্যানেজারের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি অফিস এক্সপি, অফিস ২০০৩ এবং অফিস ২০০৭-এর ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন বিভাগটি পরিচালনা করেন। সর্বশেষ উইন্ডোজ ৭ এবং উইন্ডোজ ৮-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ইন্টারফেস ডিজাইন, গবেষণা এবং ডেভেলপমেন্টেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। উইন্ডোজ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিনোফস্কির প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে ভোলেননি লারসন। তিনি বলেন, ‘মাইক্রোসফটকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে তার ভূমিকা কখনোই ভোলার নয়। উইন্ডোজ ৮ দিয়ে তিনি সর্বশেষ নিজেকে প্রমাণ করে গেছেন। তার দেখানো পথেই আমরা এগিয়ে যাব, শুধু ধরন খানিক বদলাবে।’