শিহাব উদ্দিন
সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, বিজেআইটি লিমিটেড
মো. শিহাব উদ্দিন
ডাক নাম :রাসেল
মায়ের নাম :ফাতেমা বেগম
বাবার নাম :মো. সালেহ উদ্দিন
জন্ম তারিখ :৩১ ডিসেম্বর
প্রথম স্কুল :বানাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রিয় মানুষ :বাবা-মা
প্রিয় উক্তি :Honesty is the best polilcy.
প্রিয় পোশাক :শার্ট-প্যান্ট
অবসর কাটে যেভাবে :বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :যা যেভাবে চাইছি, সেভাবে করতে পারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। এরপর যথারীতি কাজ শুরু করেন। আর কাজের ক্ষেত্রে তার প্রথম পছন্দ ছিল অ্যান্ড্রয়েড। কারণ এটা নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে, আর এই কাজে সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগও আছে। কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এই কাজে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু কাজটা সৃজনশীল, তাই এখানে অনেক কিছু করার সুযোগ থাকে। আর অনেক পরিশ্রমের পর যখন সাফল্য আসে তখন তা ভিন্ন আনন্দ এনে দেয়। কাজটাকে যেহেতু ভালোবাসি তাই এ নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ রয়েছে ষোলআনা।’ এ পেশায় নতুনদের কাজ সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে শিহাব বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন এখনকার মতো শেখার জন্য রিসোর্স মেটারিয়েলস ছিল না। কিন্তু এখন সবকিছু হাতের মুঠোয়। এখন বাংলা ভাষায়ও ভালো ভালো সাইট আছে যেখান থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। আর নতুনরা আসলেই এখন অনেক ভালো করছে এই ইন্ডাস্ট্রিতে। তারা নতুন নতুন টেকনোলজি নিয়া কাজ করে সফলও হচ্ছে। আসলে এখন টেকনোলজির এত দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে, সবাইকে এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে, সে পুরোনো হোক বা নতুন। এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে না নিলে এই ফিল্ডে টিকে থাকা যায় না।’ এরপর নতুনদের উদ্দেশ্যে শিহাব পরামর্শ হিসেবে বললেন, ‘আসলে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে হলে আপনাকে আপ টু ডেট থাকতে হবে, আর কিছুটা বিজনেস জ্ঞান তো থাকতেই হবে, নয়তো পিছিয়ে পড়তে হবে। আর অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে যে কাজ হচ্ছে সেগুলার উপর ধারণা রেখে প্রস্তুতি নিতে হবে ইন্টাভিউয়ের জন্য। জ্ঞান শেয়ার করতে হবে, শেয়ার করলে অনেক নতুন বিষয়ও জানা যায়। যেকোনো বিষয়ের গভীরে ঢুকতে হবে। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নিজের কাজকে ভালোবাসা। তাহলেই ভালো একটা অবস্থানে যাওয়া যাবে।’ এই পেশার ভবিষ্যত্ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি দিনকে দিন অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। এর সাথে সাথে নিজেকেও এগিয়ে নিতে হবে। এখন পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েড সফটয়্যার নিয়ে অনেক বেশি কাজ হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে কাজের সুযোগ বাড়বে বৈ কমবে না।’ শিহাবের শৈশব কেটেছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে এসএসসি আর নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদায়লয়ে। তিনি নিজে যে ধরনের কাজ করছেন, এই ধরনের কাজের চাহিদা দিনকে দিন আরও বাড়বে এই আশাবাদ তার। একদিন বাংলাদেশের এই প্রযুক্তি খাতে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখবেন এই স্বপ্ন দেখেন শিহাব।
ওয়াহিদ মুরাদ
সিনিয়র প্রোগ্রামার, ডাটাসফট সিস্টেমস
মু. ওয়াহিদ মুরাদ
ডাকনাম :জুয়েল
জন্মতারিখ ও স্থান :৪ নভেম্বর, চট্টগ্রাম
মায়ের নাম :চেমন আরা বেগম
বাবার নাম :মু. হাসেম
প্রথম স্কুল :চান্দগাঁও এনএমসি মডেল হাই স্কুল, চট্টগ্রাম
প্রিয় মানুষ :আমার মা
প্রিয় উক্তি :If you think you can, you can. And if you think you can’t, you’re right.
প্রিয় পোশাক :জিন্স, টিশার্ট
অবসর কাটে যেভাবে :ট্রাভেলিং, আড্ডা, মুভি দেখা
সাফল্যের সংজ্ঞা :যেকোনো লক্ষ্য অর্জনই সাফল্য।
তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ বর্ষের শেষের দিকে পড়েন মুরাদ। পাবলিক ভার্সিটির সেশনজটের শিকার হয়ে বসে আছেন নিদারুণ হতাশা নিয়ে। তখন একদিন চট্টগ্রামের একটি আইটি ফার্ম ডাটাসফেট ইন্টারভিউ দিতে গেলেন। ওই অফিসটা ছিল ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে। যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি কোরের জন্য ট্রেনিং সিমুলেটর সফট্ওয়্যার ডেভেলপ করা হচ্ছিল। ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে বিশাল বিশাল আকারের কম্পিউটারগুলো দেখে একটু ভয় পেয়ে গেলেন। আরও ভয় পেলেন যখন শুনলেন আর্টিলারি কামান নিয়া কাজ করতে হবে। এই কামানগুলো যুদ্ধের ময়দানে যেভাবে কাজ করে সেভাবেই সিমুলেশন করতে হবে। প্রথমে ভয় পেলেও চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য অস্থির হয়ে গেলেন মুরাদ। এ ছাড়া ডাটাসফেটর মতো নামকরা কোম্পানিতে কাজ করার আগ্রহ ছাত্রজীবন থেকেই লালন করে আসছিলেন, তাই সুযোগ পাওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। এভাবেই শুরু করে দিলেন প্রজন্মের মেধাবী এই অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপার।
মুরাদ ডাটাসফট সিস্টেমস বাংলাদেশ লিমিটেডে সিনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত আছেন। তাদের প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক এবং সরকারি পর্যায়ে অভিনব ও সাশ্রয়ী মূল্যে টেকনিক্যাল সার্ভিস দিয়ে থাকে। অন্যভাবে বললে, সফটওয়্যার সলিউশন প্রোভাইডার বলা যায় তাদের। সফটওয়্যার সম্পর্কিত যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে তারা ভয় পান না। এই মুহূর্তে তারা ডেস্কটপ, ওয়েব এবং মোবাইল টেকনোলজি নিয়ে কাজ করছেন।
মুরাদের শৈশব কেটেছে চট্টগ্রামে দাদুর বাড়িতে। জানালেন তার শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি মানেই বন্ধুদের সাথে আড্ডা আর খেলাধুলা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামেই ছিলেন। তার বাবা ব্যবসায়ী আর মা গৃহিণী। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি মেজো। মা-বাবা, ভাই-বোন সবাই চট্টগ্রামেই থাকেন। এইচএসসি পাস করেছেন ঐতিহ্যবাহী সরকারি মহসিন কলেজ থেকে। ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছা ছিল বিজ্ঞানী হবেন। তাই ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে। এরপর থেকেই কম্পিউটার নামক যন্ত্রটির সাথে ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। মুরাদ তার স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতেই থাকতে চাই অবশ্যই। আরও নতুন নতুন টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে চাই এবং নিজেকে আলাদাভাবে পরিচিত করতে চাই এই ইন্ডাস্ট্রিতে।’
দেবব্রত দত্ত
অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপার, ব্যাটেলশিপ বিডি
দেবব্রত দত্ত
ডাকনাম :দেব
জন্মতারিখ ও স্থান :২৪ জানুয়ারি, ঢাকা
মায়ের নাম :পূর্ণিমা দত্ত
বাবার নাম :অধীর কুমার দত্ত
প্রথম স্কুল :উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
প্রিয় মানুষ :মার্ক জুকারবার্গ
প্রিয় উক্তি :Do whatever you dream
প্রিয় পোশাক :টি-শার্ট ও জিন্স।
অবসর কাটে যেভাবে :মুভি, গেমস
সাফল্যের সংজ্ঞা :ব্যতিক্রম কিছু করা, সফল কিছু করা।
সফটওয়্যার নিয়ে কাজের প্রতি দুর্নিবার আগ্রহ ছিল আগে থেকেই। এরপর অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে কাজ শুরু করেন দেব। কাছের মানুষদের কাছে দেব নামে পরিচিত দেবব্রত দত্ত কাজ করছেন ব্যাটলশিপের অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপার হিসেবে। দেশে বিদেশে তার করা কিছু কাজ ইতোমধ্যেই সুনাম কুড়িয়েছে।
অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে কাজ করতে হলে নিজের দক্ষতার পাশাপাশি সৃজনশীলতা প্রয়োজন। নতুন একটা বিষয় নিয়ে কাজ করে তাই অন্যরকম এক আনন্দ পান দেব। খুব উপভোগও করেন এই কাজগুলো। নিজের করা কাজ যখন সফলভাবে চালিত হয়, সেটা থেকেই কাজের আগ্রহ তৈরি হয়, উত্সাহ বাড়ে। পেশা হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট আমাদের দেশে কতটা উপযোগী জানতে চাইলে দেব বলেন, ‘এখানে কাজের অনেক সুযোগ যেমন আছে, তেমনি চাহিদা রয়েছে নতুন নতুন ডেভেলপারের।’ দেব আরও বলেন, ‘অ্যান্ড্রয়েড জগতে তিনি নিজেকেও নতুন হিসেবেই ভাবতে চান। কারণ এখনকার দিনে যেভাবে প্রযুক্তি এগিয়ে চলছে তাতে সব সময় নিজেকে একেবারে নতুন হিসেবেই মনে হয় তার। আর অ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তি মূলত ব্যবহার করেন তরুণরা, আর তারা সব সময়ই নতুন কিছুর জন্য মুখিয়ে থাকেন। এই দিক বিবেচনায় তরুণদের কাজের দারুণ সুযোগ আর সম্ভাবনা রয়েছে এখানে।’
দেব বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন অনেকেই অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস নিয়ে ভালো করছে। এমন অনেকেই আছে যারা নিজেরাই ঘরে বসে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে অনেক ভালো এগিয়ে চলেছে। আর অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে কাজ করার জন্য ইন্টারনেটে দারুণ সুযোগও রয়েছে।
তবে আমাদের আরও অনেক প্রচারণার মাধ্যমে এই বিষয়টিকে নতুনদের মাঝে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের পাশের দেশ ভারত ও চীন এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের ওদের কাছ থেকে অনেক শেখার আছে এটাকে পপুলার করার ক্ষেত্রে।’
নিজের ভবিষ্যত্ স্বপনের কথা জানতে চাইলে দেব বলেন, ‘আরও শিখতে চাই। অ্যান্ড্রয়েডের জগতে কাজ করার অনেক জায়গা, সেগুলো নিয়ে ভালোভাবে অধ্যয়ন করে নতুন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত করতে চাই।’
