হর্টিকালচার
অধ্যাপক
ড. কামরুল হাসান
জাতীয় পরামর্শক, বিশ্ব খাদ্য ও
কৃষি সংস্থা, জাতিসংঘ
সত্তরের দশকের আগে যেখানে আট কোটি মানুষের মুখে সঠিকভাবে খাবার জুটত না। কিন্তু বর্তমানে কৃষিকে আধুনিকায়ন করে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উন্নত মানের বীজ উত্পাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিবিদরা ষোল কোটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের এই পেশার প্রতি আগ্রহ রয়েছে ব্যাপক। তাই এবার একজন সফল কৃষিবিদের কাছে জানব এই পেশায় সফল হওয়ার নানা পরামর্শ
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার জাতীয় পরামর্শক অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাটি ও ফসলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানেই ‘পিছিয়ে পড়া’ ভাবতেন অনেকে। কৃষিকে উচ্চশিক্ষা ও পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া যায়—এমন কথা চিন্তাও করতে পারতেন না শহুরে আধুনিক তরুণ-তরুণীরা। এ ভাবনাগুলো আজ অচল। কৃষি খাত আজ শিক্ষিত তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় পেশা। বিশ্বজুড়ে কৃষি খাতকে বলা হচ্ছে সম্ভাবনাময় ‘সবুজ পেশা’র ক্ষেত্র। কৃষি এমন একটি ক্ষেত্র যা থেকে আমাদের মৌলিক চাহিদার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি পূরণ হচ্ছে, তা হলো খাদ্য। আমাদের মতো ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার দেশে খাদ্য ঘাটতি পূরণ একটি কঠিনতম চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে এই কৃষিবিদরা। তারা বিভিন্ন গবেষণা, প্রযুক্তি আর তথ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন নতুন সব তথ্য উপস্থাপন করছেন।’ কামরুল হাসান উদ্যানতত্ত্বে দারুণ কাজের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘হর্টিকালচার কর্মীদের উদ্ভিদ এবং বাগান বিষয়ক ব্যাপক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। সাধারণ নার্সারি থেকে প্রচুর রোজগার করার সুযোগ রয়েছে। একজন উদ্যানবিজ্ঞানী শিল্পাঞ্চল, সরকারি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন। শস্যাদি উত্পাদন প্রকৌশলী, ফল শাক-সবজি বা অলংকৃত ফুল বা চারাগাছের টিস্যু কালচার স্পেশালিস্ট, ক্রপ পরিদর্শক বা উত্পাদন উপদেষ্টা, প্রোডাকশন ও কৃষি সম্প্রসারণ বিশেষজ্ঞ, বৃক্ষ বংশবিদ, গবেষণা বিজ্ঞানী বা শিক্ষক হিসেবে কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন।’
চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস
শেখ আসিক ইকবাল
সহকারী ব্যবস্থাপক, ডিট অ্যান্ড অ্যাডভাইজরি সার্ভিস
কেপিএমজি রহমান রহমান হক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস
আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্যে সম্প্রসারণের ফলে লেনদেন যেভাবে বাড়ছে ঠিক একইভাবে বেড়ে চলেছে জটিলতা। ফলে একজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ অ্যাকাউন্টিং প্রফেশনাল যেকোনো ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের চাহিদা অনেক এবং এই প্রজন্মের কাছেও এই পেশা জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তা এই প্রজন্মের তেমনই কয়েকজন মেধাবী চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের কাছে জানব এই পেশায় সফল হওয়ার ক্ষেত্রে তার পরামর্শ
নিজের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার আঙ্গিনায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিংয়ের বীজ বোনেন শেখ আসিক ইকবাল। সেই থেকেই তার স্বপ্ন-চিন্তা সবকিছুই যেন এই বিষয়টিকে ঘিরেই। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে তার আকাঙ্ক্ষিত এ বিষয়টিতে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। এরপর বাংলাদেশ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং এসোসিয়েশনের মেম্বার হন। আমাদের দেশে বর্তমানে এই পেশার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘আমাদের দেশের লোকজন এখন পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দারুণ সচেতন। বিশেষ করে চ্যালেঞ্জিং পেশার ক্ষেত্রে দারুণ আগ্রহী। এখনকার প্রজন্ম তাই অ্যাকাউন্টেন্ট পেশাতে নিজেদেরকে নিয়োগ করছে দারুণ উত্সাহ নিয়েই। আশার কথা এই হার ক্রমেই বেড়ে চলছে। এ ছাড়া যেখানে আমাদের দেশের সাথে বাইরের দেশগুলো বাণিজ্য করতে বেশি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে সেখানে স্বভাবতই এ পেশার চাহিদা আরও বেড়ে যাবে।’ নতুন যারা এই পেশায় আসছে তাদের কাজের মূল্যায়ন এবং তাদেরকে পরামর্শ দিতে গিয়ে এই চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বলেন, ‘নতুনরা অনেক নিজেদের দক্ষতা প্রমাণে সবসময় বেশি সচেষ্ট থাকে। তবে নতুনদের নিজের দক্ষতা বাড়াতে অবশ্যই পড়াশোনা ও অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে। আর বেশি বেশি সঙ্কট মোকাবেলার মাধ্যমেই নতুনরা একসময় অভিজ্ঞ হবেই।’
