সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে চিকিত্সক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহ্নাজ সুলতানা হ্যাপির। সাদা এপ্রোন পড়ে কলেজ ক্যাম্পাসে হ্যাপি বুনতে শুরু করেছিল তার স্বপ্নের জাল। তার সেই স্বপ্নগুলো আজ এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হ্যাপিসহ ৪ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে হ্যাপির পা মাইক্রোবাসের চাকায় থেঁতলে যায়। প্রথমে তাকে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জীবন বাঁচানোর জন্য তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। এদিকে গতকাল রবিবার ‘নিরাপদ সড়ক চাই, হ্যাপির এই দুর্ঘটনার সাথে জড়িত চালকের বিচার চাই’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সকালে মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে ১ ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মেডিক্যাল মোড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাপিচ) রংপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. একেএম নূরুন্নবী লাইজু, ছাত্রলীগ মেডিক্যাল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সুমন প্রধান, কলেজের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সারওয়ার হোসেন, ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নূর-ই-সাবা আশা, মানতাকা রহমান, রাকিবুল আলম রাহাত প্রমুখ।
বর্তমানে মেধাবী শিক্ষার্থী হ্যাপির চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন করা এবং পরবর্তীতে তার কৃত্রিম পা সংযোজনের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। তার মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিপুল অংকের অর্থ যোগান দেয়া প্রায় অসম্ভব। হ্যাপির পিতা-মাতার স্বপ্ন ছিল তাদের মেয়ে একদিন বড় ডাক্তার হবে। তাদের সেই স্বপ্ন আজ ভেঙ্গে যেতে বসেছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের সকল সরকারি, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং ডেন্টাল ইউনিটসহ সমাজের হূদয়বান ব্যক্তিবর্গ এবং রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
