নব আঙ্গিকে ভাস্কর্য নির্মাণে নিবেদিতপ্রাণ ভাস্কর কে এস রাধাকৃষ্ণান। ব্রোঞ্জ মাধ্যমে গড়া তার ভাস্কর্যগুলো সহজেই নজর কেড়ে নেয় শিল্পানুরাগীর। পাওয়া যায় নতুনত্বের ছোঁয়া। শনিবার থেকে গুলশানের বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে শুরু হলো ভারতীয় এই প্রখ্যাত ভাস্করের ভাস্কর্য প্রদর্শনী। শিরোনাম কনফ্লিক্ট উইদিন—এ্যাসেন্ডিং ফিগারস। প্রদর্শনী আয়োজনে সহযোগিতা করেছে কলকাতার আকার প্রকার গ্যালারি ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশানস।
সন্ধ্যায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কে এস রাধাকৃঞ্চান, বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, কলকাতার আকার প্রকার গ্যালারির পরিচালক রিনা নাথ, বেঙ্গল গ্যালারির পরিচালক সুবীর চৌধুরী ও বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জের পরিচালক নওশীন খায়ের।
সব মিলিয়ে প্রদর্শনীতে রয়েছে ২৩টি ভাস্কর্য। অধিকাংশ ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে ব্রোঞ্জ মাধ্যমে। মাথার ওপর নৌকা, রেলিংয়ে গড়া সেতু, দ্বন্দ্বের ভেতর শিরোনামের শিল্পকর্মগুলো দারুণ মনোমুগ্ধকর। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রদর্শনী। প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে।
১৯৫৬ সালে ভারতের কেরালায় জন্মগ্রহণ করেন ভাস্কর কে এস রাধাকৃঞ্চান। ১৯৮১ সালে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাস্কর্যে এম এফ এ ডিগ্রী লাভ করেন। এ পর্যন্ত দেশ-বিদেশে তার ২৩টি একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সার্ধশত জন্মবর্ষের অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি
সংস্কৃতিবান বাঙালির কাছে ডি এল রায় বা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের নামটি অতিপরিচিত। কারণ, বাংলার ঐশ্বর্যময় শিল্প-সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধশালী করেছেন গুণী এই মানুষটি। একইসঙ্গে লিখেছেন গান, কবিতা ও নাটক। তবে নানা সৃষ্টির মাঝে তার রচিত দ্বিজেন্দ্রগীতি নামে পরিচিত গানগুলো পেয়েছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা। লিখেছেন পাঁচ শতাধিক গান। আর এই কবিকে তার সার্ধশত জন্মবর্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করে শুক্রবার থেকে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে কবির নানামুখী সৃষ্টিশীলতাকে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। আর সহযোগিতা করেছে কলকাতার শ্রী অরবিন্দ ইনস্টিটিউট অব কালচার।
শনিবার ছিল অনুষ্ঠানমালার শেষ দিন। এদিন গান ও কথামালায় স্মরণ করা হয় কবিকে। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন ভারতীয় হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী। আলোচনা শেষে ছিল পঞ্চকবির গানের পরিবেশনা। ইফফাত আরা দেওয়ান পরিবেশিত গানগুলোর শিরোনাম ছিল— তুমি যে হে প্রাণের বধূ, সুখের কথা বলো না ভাই, বসিয়া বিজনও বনে, সে কেন দেখা দিলো ও স্বপনে তাহারে। এছাড়াও বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে গান শোনান অদিতি মহসিন। ভারতের শিল্পীদের মধ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুপ্রীতি মুখোপাধ্যায় ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
