হয় তত্ত্বাবধায়ক, নয় হাসিনার বিদায়

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩৩
 প্রধানমন্ত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে, তার চিকিত্সা প্রয়োজন  পালাবার পথ ঠিক করে রাখুন  নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচন হতে দেয়া হবে না  নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন  হেফাজতের ওপর গুলির বিচার হবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আবারও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, সরকার যদি নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে না নেয় তা হলে লাগাতার হরতাল অবরোধ কর্মসূচি দেবো। হয় তারা তত্ত্বাবধায়ক দেবে, না হয় হাসিনা বিদায় নেবে। তত্ত্বাবধায়ক মানবেন, না হয় পালাবার পথ তৈরি করবেন। বিজয় আমাদের হবেই ইনশাল্লাহ। খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, আমাদের একটি অপদার্থ, আজ্ঞাবহ, মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন আছে। সরকার ক্ষমতায় থাকলে এরা জি হুজুর, জি হুজুর করবে। তুমি পদত্যাগ কর। তোমার মতো জি হুজুর মার্কা কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। গতকাল রবিবার নরসিংদীর বালুর মাঠে জেলা ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত বিশাল জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া গুলশানের বাসাথেকে অপরাহ্ন দেড়টায় বিশাল গাড়ি বহর নিয়ে যাত্রা করে বিকেল ৫টায় সমাবেশ মঞ্চে আরোহণ করেন। ৪০ মিনিটের বক্তব্যজুড়ে ছিলো সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র শ্লেষ, দুর্নীতি, দুঃশাসন, হত্যা, খুন, গুমের কঠোর সমালোচনা, আগামীতে নতুন ধারার সরকার গঠনের প্রত্যয়, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার। সমাবেশে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়কের দাবি না মানলে হরতাল অবরোধসহ লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। খালেদা বলেন,‘ প্র্রধানমন্ত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তার মাথায় গন্ডগোল আছে। আগে হাইকোর্ট বলেছিল সে রং হেডেড। মাথা খারাপ হলে তার চিকিত্সা ও বিশ্রাম দরকার। আমরা তার শুভাকাঙ্ক্ষী। আমরা তার ভাল চাই। কারণ এই রং হেডেডকে দিয়ে ভালো কিছু আসা করা যায় না। খালেদা জিয়া সমাবেশের উদ্দেশে বলেন,‘আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে আজকে প্রশ্ন করেন, ১৯৯৬ সালে কি সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল? সেদিন তিনি গায়ের জোরে বলেছেন, বিএনপির অধীনে নির্বাচনে যাব না, হতে দেব না। ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল, জ্বালাও পোড়াও করে মানুষ মেরেছে। এই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গান পাউডার দিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন,‘সংবিধানে তো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল। তাহলে কেন তিনি তুলে দিলেন। এখন তিনি আদালতের দোহাই দিচ্ছেন। কিন্তু আদালতও রায়ে আরও দুই-তিনবার তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনের কথা বলেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আদালতের কথা না মেনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করলেন। তিনি একবারও আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেননি। সুশীল সমাজের সঙ্গেও আলোচনা করেননি। তিনি বলেন, চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে শেখ হাসিনা সংবিধান সংশোধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, মন্ত্রীরা থাকবেন, এমপিরা থাকবেন। এমন নির্বাচন কোন দেশে হয় না। এদেশেও হবে না। সংসদে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। সংসদে বিল এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করুন। আমরা কোন অযৌক্তিক দাবি করছি না। শুধু ১৮ দল জোটই নয়- কাদের সিদ্দিকী, ড. কামাল বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তিন চার মাস আগে একটি জরিপে ৯০ ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করেছিল। এখন তা ৯৮ ভাগ হয়ে গেছে। খালেদা জিয়া বলেন, ‘নরসিংদীবাসী আপনারা বলুন, আমরা কি অযৌক্তিক দাবি করছি। আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেব না। তার মানে হাসিনা ওয়ান সাইডেড নির্বাচন করতে চায়। তা হতে দেয়া হবে না। একদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে দেয়া হবে না। কারণ একদলীয় নির্বাচন মানেই বাকশাল। এ দেশে আর বাকশাল করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, আলোচনার পথ খোলা রেখেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সেই পথ বন্ধ করেছেন। আমরা তারপরও বলি- নির্বাচনের জন্য আলোচনা করুন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ৫ বছরে আপনাদের নরসিংদীতে কোন কাজ হয়েছে? হয়নি। সারাদেশেই এমন অবস্থা। তাহলে এ টাকা যায় কই? এ টাকা যায় সরকার দলের মন্ত্রী-এমপিদের পকেটে। আমার শোনা কথা, তারা অনেক টাকার মালিক। তাদের প্রত্যেকেই কানাডায়, মালয়েশিয়ায় বাড়ি করেছেন। অবস্থা বুঝে কেটে পড়বেন। তারা অগাধ টাকার মালিক। এদেশে থাকা ও রাজনীতি করা নিয়ে আর চিন্তা করছেন না। খালেদা জিয়া বলেন,‘আমরা নতুন ধারার রাজনীতি করবো। নতুন ধারা কি, একটু অপেক্ষা করেন। সময় আসুক আমরা পরিষ্কার করে বলব। না হলে তারা এটা নিয়ে প্রচার শুরু করে দেবেন। তিনি বলেন,‘শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে চান না কারণ ক্ষমতায় না থাকলে পুলিশকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। র্যাব, বিডিআর, প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। ডিসি এসপি টিএনও তারা কথা শুনবে না। তাই ক্ষমতায় থাকতে চায়। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া তাতে আমরা অংশ নেবো না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে খেলা জমে না। মাঠ সমানে হতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকারের আমলে ২৩ হাজার মানুষ খুন হয়েছে। শেয়ারবাজারের ৩৩ লাখ মানুষ পথে বসেছে। ডেসটিনি ও হলমার্কের টাকা কোথায় গেল? আওয়ামী লীগ সরকারকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনারা তো নির্বাচনী ইশতেহারে কয়েকটি কথা বলেছিলেন। মঈন-ফখরুদ্দিনের আমলের দ্রব্যমূল্য কমাবেন। তিনি বলেন, ‘মঈন-ফখরুদ্দিন কে? আমাদের সময় চালের দাম ছিলো ১৭-১৮ টাকা। মঈন-ফখরুদ্দিনের সময় ৪০ টাকা হয়েছিলো। তারা ছিলেন শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল। তাই তিনি তাদের সকল কাজের বৈধতা দিয়েছেন। গ্রেপ্তার, হত্যা ও অর্থ আদায়ের বৈধতা দিয়েছেন। তাদের সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যত মামলা দেয়া হয় তা তুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে নতুন নতুন মামলা। খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলেছিল, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। দিয়েছে? এসময় পুরো সমাবেশ থেকে একক কণ্ঠে আওয়াজ ওঠে: না-দেয়নি। তাহলে কি প্রধানমন্ত্রীকে আমরা মিথ্যাবাদী বলতে পারি না? প্রবাস থেকে শ্রমিকরা ফিরে আসছে। কারণ বিদেশের সাথে সম্পর্ক খারাপ। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকদের বিনামূল্যে সার দেবে বলেছিল। কিন্তু এখন সারের দাম আমাদের সময়ের চেয়ে তিনগুণ বেড়েছে। কুইক রেন্টালের মাধ্যমে বিদ্যুতের কথা বলে সরকার জনগণের টাকা লুটছে। কিন্তু মানুষ বিদ্যুত্ পাচ্ছে না। নরসিংদীতে কয়েকদিন আগে বিদ্যুত্ নিয়ে মানুষ প্রতিবাদ করেছে। এ সরকারের আমলে ৫০০ গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবসময় সংবিধানের কথা বলেন। অনির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা দেয়া যাবে না। কিন্তু ঢাকা সিটি করপোরেশনে নিজেদের দুইজন প্রশাসক বসিয়েছে। সাদেক হোসেন খোকাকে কেন সরানো হয়েছে। তাকে সরানোর পর নির্বাচন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা টালবাহানা করে নির্বাচন দেয়া হয়নি। কারণ তারা পরাজিত হবে। খালেদা জিয়া বলেন, ‘নরসিংদীর পৌর মেয়র ছিলো লোকমান, তাকে খুন করা হয়েছে; কিন্তু তার আসল খুনিকে এ সরকার ধরেনি। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আসল খুনিদের ধরা হবে। সিলেটে ১০ মিনিটে স্বর্ণের দোকান লুট করেছে; কিন্তু ধরেনি। কারণ ধরলে যদি বেরিয়ে পড়ে তারা আওয়ামী লীগের লোক? তিনি বলেন, ‘লোকজন বলে, ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। আজ নরসিংদীতে আসতে দেরি হওয়ার কারণ যানজট; কিন্তু ভবিষ্যতে আমরা ঢাকা শহরকে এমনভাবে গড়ব যাতে বিদেশিরা বলবে, এ শহরে বসবাস করা যায়। বিনিয়োগও করতে হবে। আমরা বিদেশি বিনিয়োগ উত্সাহিত করব। বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। গার্মেন্টস খাতে চীন এক নম্বরে, বাংলাদেশ দুই নম্বরে; কিন্তু বাংলাদেশ দিনদিন পিছিয়ে যাচ্ছে। রানা প্লাজার ঘটনা দেখেছেন। তার মালিককে সরকার ধরেছে; কিন্তু কারাগারে জামাই আদরে রেখেছে। তার সঙ্গে মুরাদ জংকে এখনো ধরেনি। খালেদা জিয়া গত ৫ মে শাপলা চত্বরে ব্লাক-আউট করে হেফাজতের উপর গণহত্যা চালানোর দৃশ্যপট বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরে বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ইন্টারনেটে, ব্লগে চরম অশোভন-বিকৃত কথা-বার্তা লেখার কারণে স্বাভাবিকভাবেই মুসলমানদের ঈমান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম এর প্রতিবাদ করেছে। এই কুলাঙ্গারদের শাস্তি দাবি করেছে। হেফাজতে ইসলাম শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে। তারা এদেশে আলেম-ওলামা, হাফেজ, ক্বারী, পীর মাশায়েখ। তারা ছিলো নিরীহ, নিরস্ত্র। তাদের হাতে ছিলো তসবি, জায়নামাজ, পবিত্র কোরআন শরিফ। তাদের উপর আওয়ামী গুণ্ডারা আক্রমণ করেছে। আল্লমা শফী সাহেবের জন্য, তার বক্তব্য শোনার জন্য হেফাজতের আলেমরা শাপলা চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন। সরকার শফী সাহেবকে পরিকল্পিত ভাবে আটকে রেখে সেখানে আসতে দেয়নি। রাতের বেলায় বিদ্যুত্ বন্ধ করে দিয়ে তাদের উপর সরকার আক্রমণ চালায়। এসময় তারা নামাজ পড়ছিলেন, কেউ তসবি, কেউ তাহাজ্জত নামাজ পড়ছিলেন। দিগন্ত ও ইসলামী টিভি এ দৃশ্য সম্প্রচার করছিলো। টেলিভিশন দুইটি বন্ধ করে দেয়া হলো। হেফাজতের উপরে ১ লাখ ৫৫ হাজার রাউন্ড গুলি চালিয়ে গণহারে গণহত্যা করেছে। এর জন্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মুফতি ওয়াক্কাসের মুক্তি দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সত্য কথা বলার জন্য মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আদিলুর রহমানকেও তারা গ্রেফতার করছে। খালেদা জিয়া বলেন, আমরা প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না। নতুন ধারার রাজনীতি করবো। খুন, গুম বন্ধ করবো। দুর্নীতি বন্ধ করবো। আমরা সরকার গঠন করলে মন্ত্রী-এমপিদের হিসাব নেয়া হবে, জবাবদিহিতা থাকবে। দুর্নীতি করলে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করবো। খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকার পদ্মা সেতু করতে পারেনি, আমরা ক্ষমতায় গেলে একটা নয় দুইটা পদ্মা সেতু করবো আমরা প্রায়োরিটি দিয়ে রেখেছি। সরকারকে বলতে চাই, কারও কথার ধার ধারি না। দেশের মানুষের কথায় চলব। কোন দেশ কি বলল তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা বলেছি, বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে যাব না। জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ড. এম ওসমান ফারুক, যুগ্ম-মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দল সভানেত্রী নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব প্রমুখ। এছাড়া বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মঞ্জুর এলাহী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মো. জয়নাল আবেদীন, ফেরদৌস আহমেদ খোকন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। ১৮ দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামের ড. রেদওয়ান উল্লাহ শাহীদি, এম শামছুল ইসলাম এমপি, আমিনুল ইসলাম, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ইসলামী ঐক্য জোটের সভাপতি আব্দুল লতিফ নেজামী, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ প্রমুখ। নরসিংদী জনসভার প্রধান সমন্বয়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী প্রাক-প্রচারণার জন্য বেগম খালেদা জিয়া গতকাল নরসিংদীর জনসভার মধ্য দিয়ে সারাদেশে ৮টি জনসভা করার কর্মসূচি শুরু করেছেন। খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর মধ্যে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়েকশ তোরণ নির্মাণ করা করা হয়। আর রাস্তার দুই ধারে শোভা পাচ্ছিল খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ঢাউস আকৃতির বর্ণিল ব্যানার-ফেস্টুন। গোটা শহর মোড়ানো ছিলো জনসভার পোস্টারে। নরসিংদীর ছয় উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই জনসভায় যোগ দেয়।