থ্রি-জির নিলাম

চার হাজার কোটি টাকার তরঙ্গ নিল ৪ অপারেটর

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪০
আনুষ্ঠানিক নিলামের মাধ্যমে মোবাইল ফোন অপারেটরদের স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) বরাদ্দ দেয়ার মধ্য দিয়ে থ্রিজি উন্মুক্ত হয়ে গেল। এখন স্পেকট্রামের টাকা জমা দিয়েই থ্রিজি সার্ভিস শুরু করতে পারবে অপারেটররা। যদিও থ্রিজি আগেই উন্মুক্ত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটকের পরীক্ষামূলক সেবাদানের মাধ্যমে। এবার উন্মুক্ত হল বেসরকারি খাতে। দেশে টেলিযোগাযোগ খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিলামের মধ্য দিয়ে পাঁচ বেসরকারি অপারেটরের মধ্যে চার অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল বরাদ্দ পেল থ্রিজি স্পেকট্রাম। ২ হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৪০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দের নিলামে গ্রামীণফোন নিয়েছে ১০ মেগাহার্টজ। বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল প্রত্যেকে নিয়েছে ৫ মেগাহার্টজ করে। ফলে বিটিআরসি আয়োজিত গতকাল রবিবারের নিলামে মোট স্পেকট্রাম বিক্রি হয়েছে ২৫ মেগাহার্টজ। এক ডাকের নিলামে প্রতি মেগাহার্টজ ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হিসেবে টাকায় এর মোট মূল্য ৪ হাজার ৮১ কোটি টাকা। নিলাম শেষে এক ব্রিফিংয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, এর আগে যেমন বিশেষজ্ঞদের সকল আশংকা ভুল প্রমাণিত করে গ্রামে গ্রামে মোবাইল ফোন ছড়িয়ে পড়ছে তেমনি গ্রামে গ্রামে মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়বে থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে। সকালে হোটেল রূপসী বাংলায় থ্রিজি স্পেকট্রাম নিলাম শুরু হয় যান্ত্রিক ত্রুটির মধ্য দিয়ে। ফলে ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দের প্রথম পর্বটি দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্বে প্রতি মেগাহার্টজ ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যে ডাক আসে শুধু গ্রামীণফোনের কাছ থেকে। দ্বিতীয় পর্বে ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য পর্যায়ক্রমে অংশ নেয় রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক। তবে মূল্য সেই প্রতি মেগাহার্টজ ২১ মিলিয়ন বা ২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। নিলামের শুরুতেই দিনের বিনিময় হার অনুযায়ী ডলারের মূল্য ঘোষণা করা হয় ৭৭ টাকা ৭৫ পয়সা। এই হিসেবে গ্রামীণফোনকে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের জন্য ২১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাত্ প্রায় ১ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা দিতে হবে। আর অন্য তিন অপারেটরকে প্রতি ৫ মেগাহার্টজ এর জন্য ৮১৬ কোটি টাকা করে পরিশোধ করতে হবে। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে সেবা দেয়া টেলিটককেও সংরক্ষিত ১০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য নিয়ম অনুযায়ী এর মূল্য বাবদ ১ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই মূল্যের সঙ্গে প্রত্যেককে দিতে হবে ৫ শতাংশ ভ্যাট। বিটিআরসির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, গাইডলাইন অনুযায়ী লাইসেন্স ফি বাবদ প্রত্যেক অপারেটরকে দিতে হবে আরও ১০ কোটি টাকা। বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৫ কোটি টাকা। সরকারের সঙ্গে রাজস্ব শেয়ার করতে হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। নিলাম পরবর্তী ব্রিফিংয়ে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান আরো বলেন, আগামী ৯ মাসের মধ্যে প্রত্যেক অপারেটরকে ৭টি বিভাগীয় শহরে থ্রিজি সেবা পৌঁছে দিতে হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ৩০ শতাংশ জেলা ও শেষ পর্যায়ে সবগুলো জেলায় থ্রিজি সেবা পৌঁছে দিতে হবে। নিলাম শেষে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বলেন, গ্রামীণফোন যত দ্রুত সম্ভব থ্রিজি সেবা চালু করবে। আজ সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের থ্রিজি সেবা চালুর লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি জানান। বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সিতারা বলেন, বাংলাদেশে থ্রিজি হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীদের পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনা বিবেচনায় বাংলালিংক ৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ নিয়েছে। বাংলালিংক থ্রিজিতে উন্নত প্রযুক্তির সেবা নিশ্চিত করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। রবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব দিক থেকে বিবেচনা করেই তারা ৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম নিয়েছে। এই স্পেকট্রামেই তারা চাহিদামত সেবা দিতে পারবে এবং গ্রাহকরা খুশি হবে। এয়ারটেলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিটিআরসি আয়োজিত থ্রিজি নিলামে অংশগ্রহণ পরবর্তী স্পেকট্রামসহ থ্রিজি লাইসেন্স লাভ করায় এয়ারটেল আনন্দিত। উন্নতমানের বৈশ্বিক থ্রিজি সেবার সাহায্যে গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করার ব্যাপারে আশাবাদি তারা।