আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বেশ গুরুত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে জাপান। অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসাবে জাপান মনে করে, ২০০৮সহ ইতিপূর্বেকার সংসদ নির্বাচনের মতো দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে আসন্ন নির্বাচন। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি এবং স্বাভাবিকভাবে ক্ষমতা বদলের প্রত্যাশা করে দেশটি। সেই লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সময়ে ও আগে পরিবেশসহ সার্বিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা নিয়েছে জাপান সরকার। কূটনৈতিক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সাম্প্রতিককালের রাজনৈতিক ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জাপান সরকার। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দলগুলোর পরস্পর বিরোধী অবস্থান, সমঝোতার অনুপস্থিতিসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। সম্প্রতি জাপান সরকারের আমন্ত্রণে এই প্রতিনিধি টোকিও সফরকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের একক বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার হিসাবে আমরা স্থিতিশীলতা দেখতে চাই। সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা থাকতে হবে বাংলাদেশে। ২০০৮ সালের নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ছিল। আমাদের প্রত্যাশা আগামী নির্বাচনও তাই হবে। সব দল অংশ নেবে এবং জনগণ স্বাধীনভাবে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। জাপান ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিল। আগামীতেও তাই করা হবে।
২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন মাতসুসিরো হরিগুচি। বর্তমানে তিনি জাপানের নিহন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে ভিজিটিং প্রফেসর। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাপান সরকারের পক্ষে পর্যবেক্ষক ছিলেন। ইত্তেফাক প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ঐ নির্বাচনটি সব দিক বিবেচনায় খুবই সুন্দর ছিল। এতে গণতন্ত্র সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে। এর ধারাবাহিকতা থাকা দরকার সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের স্বার্থে। কারণ আমি জানি, বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক। দেশটি বহুদূর এগিয়ে যেতে পারবে। বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। আশা করি, ২০০৮-এর মতো বাংলাদেশ আরেকটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারবে।
