বিচারকের প্রতি অনাস্থা হট্টগোল বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪১
সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচার মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি। গতকাল রবিবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু আসামিদের আইনজীবীরা আদালতের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করায় শুনানি শেষে বিচারক মো. মোতাহার হোসেন সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবী করে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এদিকে আদালত চলাকালে বিএনপিপন্থি শতাধিক আইনজীবী এজলাসের মধ্যেই হট্টগোল করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য প্রথমে সময়ের আবেদন করেন। মামুনের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, ‘এ মামলার বিষয়ে আমরা উচ্চ আদালতে গিয়েছি। উচ্চ আদালতে শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ স্থগিত রাখা হোক।’ বিচারক আবেদনটি নাকচ করে দেন। আসামির আইনজীবীরা পরে এ মামলার ২ নম্বর সাক্ষী এফবিআই এজেন্ট ডেবরা লা প্রেভটি ও ১২তম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ তাহসিনুল হকের সাক্ষ্য পুনরায় গ্রহণের জন্য ‘রিকলে’র আবেদন করেন। বিচারক এ আবেদনও নাকচ করেন। এরপর আইনজীবীরা সাক্ষী রিকলের আবেদন নাকচ করার প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করলে বিচারক এ আবেদনও নাকচ করে দেন। এসময় তারেক-মামুনের আইনজীবীরা আদালতের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন। তারা বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনি এখানে আর তিন মাস চাকরি করবেন। সরকারের মেয়াদও অক্টোবরে শেষ। আপনার কাছ থেকে কোনো ন্যায়বিচার পাইনি, আর পাবোও না। যে কারণে আমরা আপনার আদালতের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করছি।’ এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, বিএনপিপন্থি শতাধিক আইনজীবী গতকাল আদালতের মধ্যেই হট্টগোল করেছেন। তারা বলতে থাকেন, কোনো সাক্ষ্য নেয়া যাবে না। আদালতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ব্যাপারে দুদকের প্রধান আইনজীবী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতের মধ্যে যে পরিমাণ হট্টগোল করেছেন তা নজিরবিহীন। আদালতের মধ্যে এ ধরনের হট্টগোল আমি কখনোই দেখিনি।’ প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় অর্থ পাচারের এই মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তদন্ত শেষে গত ২০১০ সালের ৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।