সিরিয়ায় হামলা না চালালে ঝুঁকি বেশি :কেরি

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৩
সিরিয়ায় সামরিক হামলা করার চেয়ে না করাটাই হবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তিনি বলেছেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ আছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের এবং এক জেনারেলের হাতে। এসব অস্ত্র অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করলে সিরিয়া সামরিক হামলা থেকে বেঁচে যাবে। লন্ডনে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে কেরি এসব কথা বলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র আসাদ সরকারের খুব কঠোর নিয়ন্ত্রণে আছে। যে কোনো পরিস্থিতিতেই আসাদ সরকার নানা নির্দেশ দিয়ে থাকে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেক সদস্যই এ সমস্ত নির্দেশনা দিয়েছেন এবং প্রস্তুতিও নিয়েছেন বলে আমরা ধরতে পেরেছি। আসাদের ভাই মাহের সিরিয়ার রিপাবলিকান গার্ড এবং এলিট সশস্ত্র ডিভিশনের কমান্ডার। আসাদ তার সমস্ত রাসায়নিক অস্ত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করলে সামরিক হামলা এড়াতে পারবে বলে মন্তব্য করেন কেরি। সিরিয়ায় সামরিক হামলা বন্ধে আসাদ সরকার কি করতে পারে বা হামলা এড়াতে তাদেরকে কোনো প্রস্তাব দেয়া যায় কিনা- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে কেরি ওই কথা বলেন। কিন্তু আসাদ সরকার কখনো অস্ত্র হস্তান্তর করবে এমনটি মনে করেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের দেয়া তথ্য-প্রমাণ সন্দেহাতীত বলে দাবি করেন কেরি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগের সঙ্গে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্য প্রমাণের মুখে কোনো কিছু না করে বসে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদেরকে আরো বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। লন্ডন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সিরিয়ায় হামলা চালানোর অনুমতির জন্য কংগ্রেসকে আহ্বান জানানোর কথা রয়েছে কেরির। রাশিয়ার হুঁশিয়ারি : রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সার্গেই লাভরভ হুুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সিরিয়ায় সামরিক হামলা এ অঞ্চলে ‘সন্ত্রাসবাদের বিস্ফোরণ’ ঘটাবে এবং শরণার্থীর সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়বে। সোমবার সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়ালিদ আল-মুয়াল্লিমের সাথে বৈঠকের পর লাভরভ বলেন, ‘সিরিয়া নিয়ে রাজনেতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনও আছে। আমরা আমেরিকার জনগণের কাছে আবেদন জানাচ্ছি একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা ভাবতে। যুদ্ধ কোনো সমাধান হতে পারে না।’ সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দামেস্ক এখনও শান্তি আলোচনায় প্রস্তুত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আগ্রাসন চালানোর জন্য আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে ছিল। রাসায়নিক হামলার মতো একটা মিথ্যা অজুহাত তার দরকার ছিল।