শিগগিরই ৭০ লাখ ভোটার পাচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৫
আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে চলতি মাসেই হালনাগাদে ভোটার তালিকাভুক্ত সারাদেশের ৭০ লাখ নাগরিকের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু হচ্ছে। প্রথমে ঢাকায় এরপর ক্রমান্বয়ে জেলাভিত্তিক সারাদেশে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দশম সংসদ নির্বাচনের জন্য আজ মঙ্গলবার থেকে সেনাবাহিনীর প্রিন্টিং প্রেসে ভোটার তালিকা মুদ্রণ শুরু হচ্ছে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে মুদ্রণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে কমিশন। একইসঙ্গে আজকালের মধ্যে তৃণমূল নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে ঢাকায় ভোটারদের কিভাবে পরিচয়পত্র বিতরণ করা হবে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিতরণ সম্ভব নয়। কবে পরিচয়পত্র বিতরণ করা হবে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, হালনাগাদে ঢাকার তালিকাভুক্ত ভোটারের পরিচয়পত্র মুদ্রণের কাজ শেষ হয়েছে। এ মাসেই ঢাকা থেকে পর্যায়ক্রমে অন্যজেলায় ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ করা হবে। ইসির তথ্যানুযায়ী, দশম সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার ৯ কোটি ২১ লাখ ২৯ হাজার ৮৫২ জন ভোটার তালিকাভুক্ত রয়েছে। এরমধ্যে নতুন তালিকাভুক্ত ৭০ লাখ ১৭ হাজার ৫২১ জন এ বছর হালনাগাদে যোগ হয়েছে। রাজধানী ঢাকার ক্ষেত্রে যেসকল কেন্দ্রে বা স্থানে ভোটার করা হয়েছে সে সকল স্থানে নতুন ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হবে। তবে সারাদেশে জেলাপর্যায়ে প্রতিটি পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড থেকে এসব পরিচয়পত্র বিতরণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিগত হালনাগাদে অবিতরণকৃত প্রায় ২৫ লাখ পরিচয়পত্রও বিতরণ করা হবে। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা জেলায় ৫ লাখ ৮ হাজার ৪৬৫ জন ও ঢাকা মহানগরে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬০ জন নতুন ভোটার তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন। ২০১২ সালের ১০ মার্চ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে ইসি। দাবি বা আপত্তির পর গত ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে ২০১০, ১১ ও ১২ এই তিন বছরের হালনাগাদ কার্যক্রমে ৭০ লাখ ১৭ হাজার ৫২১ জনকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেনাবাহিনীর প্রিন্টিং প্রেসে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাপানোর কাজ চলছে। প্রতিটি পরিচয়পত্র তৈরি ও বিতরণে ইসির খরচ হচ্ছে ৩ টাকা। সে হিসেবে মোট খরচ হচ্ছে ২ কোটি ১০ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৩ টাকা। ইসির এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, প্রতিবছর ২ থেকে ৩১ জানুয়ারি ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলে। তা শেষ করে ভুলত্রুটি সংশোধন করতে কয়েক মাস সময় লাগে। তাই আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় হালনাগাদ না করে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া সম্ভব নয়। ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক তালিকা আগামী দশম সংসদ নির্বাচনের জন্য সারাদেশে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কমিশনের কর্মকর্তা বলছেন, গত নির্বাচনে ৩৫ হাজার ভোটকেন্দ্র থাকলেও এবার হয়তো ৪০ হাজারের একটু বেশি কেন্দ্র হবে। আজকালের মধ্যে সংসদীয় এলাকার ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এই কাজ সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ১ মাস সময় লাগবে। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, প্রাথমিক ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুতের জন্য ১০ থেকে ১২ দিন, তালিকা প্রকাশ ও প্রদর্শনের জন্য ৪ দিন, দাবি, আপত্তি ও সুপারিশ দাখিলের জন্য ৩ দিন, দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য ৪ দিন এবং ইসি সচিবালয়ে প্রাথমিক তালিকা পাঠানোর জন্য ৭ দিনের মতো সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে।