যৌক্তিক কোন কারণ ছাড়াই হঠাত্ করে চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। বাজার মূল্যের চেয়ে সংগ্রহ মূল্য কম হওয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারের চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মিল মালিকরা চুক্তি করেও সরকারের গুদামে চাল সরবরাহে গড়িমসি করছে।
গত ২ মে থেকে শুরু হওয়া এ সংগ্রহ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৭ হাজার টন চাল সংগ্রহ হয়েছে। কিন্তু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ টন। ধান সংগ্রহের অবস্থা আরো করুণ। দেড় লাখ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ৫ হাজার টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ সংগ্রহের জন্য সময় হাতে আছে আর মাত্র ২১ দিন।
এ প্রসঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহমদ হোসেন খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, জুলাই ও আগস্টে চালের দাম বাড়তি থাকলেও এখন কমতির দিকে। এছাড়া আউশ ধান কাটা শুরু হয়েছে। তাই সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। চালের দাম কমায় এখন সরবরাহের পরিমাণ বাড়বে। এছাড়া প্রয়োজনে অক্টোবর পর্যন্ত সংগ্রহ অভিযান চলবে। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
গত মে মাসে যখন সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়, তখন প্রতি কেজি চালের খুচরা বাজার মূল্য ছিল মানভেদে ২৬ থেকে ২৮ টাকা। কিন্তু বর্তমানে ঐ একই চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৪ টাকা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে মোটা চালের এই বর্তমান দর তুলে ধরা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মিল মালিক জানিয়েছেন, বর্তমানের এই দরে চাল সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের শেষ দিকে এসে চাল নিয়ে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কেননা এখন চালের দাম বাড়ার যৌক্তিক কোন কারণ নেই।
এদিকে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে গত বৃহস্পতিবার সংগ্রহ এলাকার ডিসিফুডদের নিয়ে বৈঠক করেছেন মহাপরিচালক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, গত বোরো মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টন জমিতে আবাদ কম হয়েছে। এছাড়া গত বোরো মৌসুমে ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে উপকূলীয় জেলাগুলোতে বোরো আবাদে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে সংগ্রহ অভিযানে।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, বর্তমানে সরকারের গুদামে ১১ লাখ ৫ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এছাড়া ৩ লাখ ৫০ হাজার টন গম আমদানির চুক্তি আছে। খালাসের অপেক্ষায় আছে আরো দেড় লাখ টন গম। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় কোন ঝুঁকি নেই।
