স্যানিটেশনের অভাবে বাধাগ্রস্ত শিশুর বিকাশ

আপডেট : ১৬ মে ২০১৯, ২২:১৮

দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। গত ১৮ বছরে প্রায় ২ কোটি মানুষ দরিদ্রসীমার উপরে উঠে এসেছে। এরপরেও পানি ও স্যানিটেশনে বড় দুর্বলতা রয়েছে। দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী উন্নত উত্স থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করলেও এটিকে নিরাপদ করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী দেশের খাবার পানির অর্ধেক আর্সেনিক অথবা ই-কোলাই ব্যাক্টেরিয়াযুক্ত। পানি ও স্যানিটেশনে দুর্বলতার কারণে স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে নষ্ট হচ্ছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। দরিদ্র্য ও শিশুরা এর শিকার হচ্ছে তুলনামূলক বেশি। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ: ইনভেস্টিগেটিং নিউট্রিশন-সেনসিটিভ ওয়াশ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক এই তথ্য উল্লেখ করেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জীবনচক্রে একজন মানুষ তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না। এটা শুধু দারিদ্র্য বা অপুষ্টির কারণেই নয়, বিশুদ্ধ পানির অভাব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এগুলোর প্রভাবেও হচ্ছে। শিশুরা খর্বাকায় হওয়ার বড় কারণ হলো পুষ্টিহীনতা। কিন্তু উচ্চ মাত্রার ধাতুযুক্ত দূষিত পানি পানে শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বিঘ্নিত হচ্ছে। পূর্ণ বয়স্কদের মধ্যে নারীদের মাঝে এর প্রভাব লক্ষ্যণীয়। বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে নারীদের অনেক সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। উন্নত স্যানিটেশনের অভাবে স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। এজন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণও কম।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে নিম্ন আয়ের ৪০ ভাগ মানুষের মাধ্যে শিশুদের খর্বাকায় প্রবণতা বাকি ৬০ ভাগ জনগোষ্ঠীর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে শহুরে বস্তিবাসী শিশুরা বেশি খর্বাকায়। ব্যাক্টেরিয়া, আর্সেনিক ও লবণাক্ততা বাংলাদেশের পানির জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা। গবেষণায় দেখা গেছে, ই-কোলাই বা মলবাহিত এই ব্যাক্টেরিয়াযুক্ত পানি পান করা শিশুদের মাঝে খর্বাকায় হওয়ার প্রবণতা ৫ ভাগ বেশি। আর্সেনিকযুক্ত (নিউরোটক্সিন) পানি পান করার ফলে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের জ্ঞানগত বিকাশ কমে যায়। লবণাক্ত পানি পান করার ফলে গর্ভবতী মায়েদের সমস্যার পাশাপাশি গর্ভের শিশুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। শৈশবকালে দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা শিশুদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে। তারা সঠিক বয়সে স্কুলে যেতে পারছে না। তারা অন্যান্য শিশুদের সাথে সমানভাবে স্বাস্থ্যগত ও মানসিকভাবে বেড়ে উঠছে না। দুর্বল ও অপুষ্ট শিশুরা স্কুলে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল করতে পারছে না। অন্য এক গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দেশে স্কুলগুলোর স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব হলে মেয়েদের স্কুলের গমনের হার ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেতো।