জনবল নিয়োগ ও সরঞ্জাম বরাদ্দে দীর্ঘসূত্রতা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১২
জনবলের নতুন পদ সৃষ্টি ও চিকিত্সা সরঞ্জাম বরাদ্দের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতায় চট্টগ্রামে অনেক সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সা কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। স্থাপনা নির্মাণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে এসব হাসপাতাল। কিন্তু বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও জনবল নিয়োগ ও চিকিত্সা উপকরণ বরাদ্দ প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে। বিদ্যুত্ ও পানি সংযোগ নেই। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী চিকিত্সা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে বলে হাসপাতালের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান। এলাকার জনগোষ্ঠীর চিকিত্সা সেবার প্রয়োজনীয়তার কথা চিন্তা করে এসব হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। চট্টগ্রাম কক্সবাজার সড়কের পাশে লোহাগাড়া উপজেলায় ২০ শয্যার ট্রমা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর হয়েছে। কয়েকদিন আগে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। অথচ হাসপাতালে চিকিত্সকসহ জনবলের এখন পর্যন্ত কোন পদ সৃষ্টি করা হয়নি। বরাদ্দ মিলেনি চিকিত্সা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রের। যার কারণে হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা চালু করা যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. আবদুল কাইয়ুম ইত্তেফাককে বলেন, ‘যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও চিকিত্সাসহ জনবল সৃষ্টির চাহিদাপত্র অনেক আগেই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ১ জন অর্থোপেডিক্স সার্জন, ১ জন ওয়ার্ডবয়, ১ জন নার্স ও একজন গার্ডকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’ এছাড়া সন্দ্বীপ উপজেলায় ২০ শয্যার অপর একটি হাসপাতালের ২০০৯ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘ সময়েও জনবলের পদ সৃষ্টি ও চিকিত্সা উপকরণের বরাদ্দ মিলেনি। দ্বীপ অঞ্চলের মানুষ এমনিতে উন্নত চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। কবে নতুন এই হাসপাতালে চিকিত্সা কার্যক্রম চালু করা যাবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। রাউজান উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চিকিত্সা সংকুলান না হওয়ায় সুলতানপুর ৩১ শয্যার অপর একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী জনবলের পদ সৃষ্টি না হওয়ায় চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে বেড থাকলেও রোগী ভর্তি করানো যাচ্ছে না। বর্তমানে একজন মাত্র চিকিত্সক রয়েছে। নার্স ও ওয়ার্ডবয়সহ ৫ জন জনবল দিয়ে হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা দেয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালে চিকিত্সক নেই, চিকিত্সার উপকরণ নেই। নামেমাত্র চালু রয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের একমাত্র চিকিত্সক ডা. মো. ইসমাইল জানান, জনবল সংকটে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। দুই বছর আগে প্রায় ৫০ জনের পদ সৃষ্টির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সাতকানিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। কিন্তু ৫০ শয্যার জনবল সৃষ্টি না করায় চিকিত্সা সেবার মানের কোন উন্নতি হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, এমনিতে চিকিত্সা উপকরণ ও জনবলের স্বল্পতা রয়েছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ১৫০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু এই উন্নীতকরণে জনগোষ্ঠী কোন সুফল পাচ্ছে না। বর্ধিত ভবন নির্মাণ করা হয়নি। জনবলের পদ সৃষ্টি হয়নি। হাসপাতালটি চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হলেও রোগীর সংকট রয়েছে। ১৫০ শয্যার মধ্যে অনেক সিট খালি থাকে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যসেবায় কোন উন্নতি হয়নি। বিল্ডিং নির্মাণ হলেও সেবার মান বাড়েনি। জনবলের চরম সংকট। দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। জনবলের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া এতোই জটিল। অনুমোদন পেতে ৩/৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়।’