প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের মিথ্যা অপপ্রচারের ব্যাপারে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের মিথ্যা অপপ্রচারের কারণেই সদ্য সমাপ্ত পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয় হয়েছে। দেশের মানুষ এখন তাদের সেই অপপ্রচার উপলব্ধি করতে পারছে। ভুল বুঝতে পেরে এখন দেশের মানুষের ‘মনোভাবের পরিবর্তন’ হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নব-নির্বাচিত সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
শাপলা চত্বরে গত ৫ মে ‘হাজার হাজার মানুষ হত্যার’ যে অভিযোগ বিএনপি করে আসছে তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধ ঘণ্টার অভিযানে হাজার হাজার মানুষ মারা গেলে মতিঝিলের ‘দেয়ালে দেয়ালে’ তার চিহ্ন থাকত। গত রবিবার নরসিংদীতে এক জনসভায় বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, শাপলা চত্বরে সেই অভিযানে দেড় লাখ গুলি করা হয়েছে। ‘এতো অল্প সময়ে’ ওই পরিমাণ গুলি কীভাবে করা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ মারা গেছে, মুয়াজ্জিন মারা গেছে, ইমাম মারা গেছে, কোনো মসজিদে নামাজ হবে না, আযান হবে না, কোনো মুসলমান মারা গেলে জানাজা হবে না-এই অপপ্রচার চালিয়ে সহজ সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে বিএনপি। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগেও ধর্মকে ব্যবহার করে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকাল বেলা কোরআন শরীফ তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে তার দিন শুরু হয়। তার কাছে ইসলাম হেফাজতে না থাকলে কার হাতে থাকবে এমন প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নতি হয়, দেশের মানুষ শান্তিতে থাকে। আর বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে তখন তারা ‘লুটপাট আর মানুষ খুন’ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে সে কথা মনে রেখেই তার সরকার দেশ পরিচালনা করছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকারের সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শস্যভাণ্ডার হিসাবে বরিশালের সুনাম ফিরিয়ে দেয়া হবে।
সাক্ষাত্কালে আইনজীবী নেতারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান। সংগঠনের সভাপতি আহমেদ কবীর ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম কবীর বাদলের নেতৃত্বে সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে দলের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, শওকত হোসেন হীরন, তালুকদার মো. ইউনূস, বলরাম পোদ্দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য হারুনর রশিদ খানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নব-নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।
