বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে ৪ হাজার সহকারী লাইব্রেরিয়ানকে মানবিক বিবেচনায় এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত এমপিও দেয়া যাবে না।
গত জুন মাসে সহকারি লাইব্রেরিয়ানদের বিষয়ে মতামত চেয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি লেখে। সেখানে লাইব্রেরিয়ানদের এমপিও দেয়ার বিষয়ে যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। কিন্তু এখনও এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি মন্ত্রণালয়। এমপিও পাবার জন্য সহকারী লাইব্রেরিয়ানরা এখনও আন্দোলন করছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট আমলে নিয়ে এদের এমপিও দেয়া সম্ভব নয়। মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করলে নিয়োগ দেয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রস্তাবনার বিষয়টি আমলে নেয়া হবে। মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, সহকারী লাইব্রেরিয়ানরা বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট নিয়েছেন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট পদে তাদের এমপিওভুক্তি করা সম্ভব নয়। তাদের সুযোগ দেয়া হবে। দেয়া হবে শর্ত। এক গ্রেড নিচের বেতন স্কেলে এমপিওভুক্ত করে দুই বা তিন বছর সময় দেয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষ করে সার্টিফিকেট অর্জন করতে হবে। সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারলেই ৮ হাজার টাকা বেতন স্কেলে সহকারি লাইব্রেয়ািন পদে এমপিও দেয়া হবে। সহকারি লাইব্রেরিয়ানদের জন্য যা করা হচ্ছে তা সবই মানবিক বিবেচনায়।
দীর্ঘদিন ধরে এসব লাইব্রেরিয়ানরা এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করলে মাউশি তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিলে তাতে সম্মতি দেন সহকারী লাইব্রেরিয়ানরা। পরে গত জুন মাসে এ বিষয় মাউশি লাইব্রেরিয়ানদের এমপিও দেয়ার পক্ষে যৌক্তিকতা তুলে ধরে মতামত দেয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের গড়িমসির কারণে এখনও মতামত পায়নি মাউশি। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মাউশি এ বিষয়টিকে যতটা গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখছে, মন্ত্রণালয় তত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখছে না।
তথ্য অনুযায়ী, চারটি মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। আর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে শতাধিক শাখা। অভিযোগ রয়েছে, কোন ক্লাস-পরীক্ষা না নিয়েই টাকার বিনিময়ে লাইব্রেরি সায়েন্সের সনদ বিতরণ করেছে। আর এই সনদ নিয়েই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এ নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিকে ঘুষ দিতে হয়েছে বলে নিয়োগ পাওয়া সহকারি লাইব্রেরিয়ানরা জানিয়েছেন। এখন তারা এমপিও পাবার জন্য আবেদন করেছেন।
দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সনদ বাণিজ্যের অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে মন্ত্রণালয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হলে সেখান থেকে বলা হয়, আদালতের আদেশের কারণে বন্ধ করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন জানিয়েছে, দারুল ইহসানের একমাত্র ধানমন্ডি শাখা ছাড়া আর কোনো শাখার বৈধতা নেই। তবে দারুল ইহসান ২৯টি শাখার কার্যক্রম আদালতের আদেশ নিয়ে চালাচ্ছে। এক সহকারি লাইব্রেরিয়ান জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দারুল ইহ্সান ভার্সিটি চালানোর সুযোগ দেবে কিন্তু ওখান থেকে ডিগ্রি নিয়ে চাকরিতে যোগদানের পর সনদের বৈধতা খতিয়ে দেখবে এটা অযৌক্তিক।
দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি ছাড়াও বগুড়ার সিট ফাউন্ডেশন, গ্রন্থাগারিক সমিতি থেকে সহকারী লাইব্রেরিয়ানরা সার্টিফিকেট নিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান। আর সিট ফাউন্ডেশন একটি এনজিও এবং গ্রন্থাগারিক সমিতি পেশাজীবী সংগঠন, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উপযুক্ত লেখাপড়া না করেই সনদ লাভ করা যায়।
চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার সহকারী লাইব্রেরিয়ান নিয়োগ দেয়া হয়। এরমধ্যে মাউশি ২১০ জনকে এমপিওভুক্ত করে। বাকীদের এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে সহকারী লাইব্রেরিয়ানরা।
