চাল নিয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে এবার সারাদেশে প্রতিটি জেলায় খোলাবাজারে ন্যায্যমূল্যে (ওএমএস) চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর আগে গত ২১ আগস্ট থেকে স্বল্পআয়ের মানুষের সুবিধার্থে দেশের সব বিভাগীয় শহর ও শ্রমঘন এলাকাগুলোতে ওএমএস চালু করা হয়েছে। ওএমএস-এ প্রতি কেজি চাল ২৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। একসঙ্গে একজন ক্রেতা ৫ কেজি চাল কিনতে পারছেন।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এখন চালের দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। মাঝে চালের দাম বাড়লেও এখন মোকামগুলোতে দাম কমছে। কিন্তু তারপরও সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তাদের প্রতিদিনের বাজারদরের প্রতিবেদনে কেন চালের দাম বাড়ার চিত্র তুলে ধরেছে তা বুঝতে পারছি না।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বোরো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে চিন্তিত খাদ্য অধিদপ্তর। গত ২ মে থেকে শুরু হওয়া এ সংগ্রহ অভিযানে ৯ লাখ টন চাল ও দেড় লাখ টন ধানের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৭ হাজার টন চাল ও ৫ হাজার টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ সংগ্রহের সময় হাতে আছে আর মাত্র ১৯ দিন।
প্রতি কেজি চালের সংগ্রহ মূল্য ২৮ টাকা হলেও এখন খুচরা বাজারে এ মানের চাল বিক্রি হচ্ছে ২৯ থেকে ৩০ টাকা দরে। ফলে সংগ্রহ মূল্যের চেয়ে বাজার মূল্য বেড়ে যাওয়ায় মিল মালিকরা চুক্তি করেও সরকারের গুদামে চাল সরবরাহে গড়িমসি করছে। সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে তারা।
সূত্র মনে করছে, সারাদেশে ব্যাপকভাবে ওএমএস চালু করলে চালের দাম কমে যাবে। তখন মিল মালিকরা চাল সরবরাহ করবে। এ প্রসঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহমদ হোসেন খান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, গত জুলাই-আগস্ট মাসে চালের দাম বাড়তি থাকলেও এখন কমছে। তারপরও ব্যাপকভাবে ওএমএস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গত মাসে দেশের সব বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি শ্রমঘন এলাকা নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও গাজীপুরে ওএমএস শুরু করা হয়েছে। এখন জেলাগুলোতেও চালু করা হবে। তবে এখন যেহেতু আভ্যন্তরীণ বাজার থেকে বোরো সংগ্রহ অভিযান চলছে তাই যে জেলাগুলোতে চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে সেখানে আপাতত ওএমএস চালু করা হবে না।
এর কারণ ব্যাখ্যা করে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, এতে করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারে। তারা কম দামে ওএমএস’র চাল কিনে আবার তা বেশি দামে সরকারের গুদামে সরবরাহ করতে পারে।
