চলতি নবম জাতীয় সংসদের শেষ অর্থাত্ ১৯তম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার বসছে। বিকাল ৫টায় অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে বিকাল ৪টায় বসবে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক। এ অধিবেশনে ২৪টি বিল আনা হতে পারে। এরমধ্যে ১৬টি হচ্ছে অনিষ্পন্ন সরকারি বিল। এদিকে বিরোধী দল বলছে, অধিবেশনে যোগদান করলেও সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের পক্ষ থেকে কোন বিল উত্থাপন করা হবে না। এরপরও বিরোধী দলের উপস্থিতিতে সংসদ প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে।
আজ সংসদ অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসটি হচ্ছে বেসরকারি সদস্য দিবস। সাধারণত বেসরকারি সদস্য দিবসে অধিবেশন শুরুর তেমন একটা নজির নেই। বেসরকারি সদস্য দিবসে অধিবেশন শুরুর বিষয়টি সম্ভবত এবারই ব্যতিক্রম। এদিকে আজ বিকাল ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকেই অধিবেশন কতদিন চলবে তা চূড়ান্ত হবে।
সংসদ সচিবালয় জানায়, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি অধিবেশন পাঁচ থেকে ছয় কার্যদিবস পর্যন্ত চালানো হবে। তবে বিরতি দিয়ে অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হবে নাকি আসন্ন ঈদ-উল-আজহার পর সংক্ষিপ্ত আরকেটি অধিবেশন আহ্বান করা হবে তা বৈঠকে নির্ধারিত হবে। উল্লেখ্য, গত ৬ জুন আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ২৫ অক্টোবর সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করবেন। সূত্র জানায়, এ ডেটলাইন ঠিক থাকলে চলতি ১৯তম অধিবেশনই হবে বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশন।
বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক জানান, তারা চলতি অধিবেশনে যোগ দেবেন। কিন্তু সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে বিরোধী দল কোন বিল আনবে না। বিল সরকারি দলকেই আনতে হবে। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের বিল আনার কোন সম্ভাবনা নেই। এ ক্ষেত্রে চলতি অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংসদে আলোচনারও কোন সুযোগ থাকছে না।
সংসদ সচিবালয় আরও জানায়, চলতি অধিবেশনে সাতটি বিল আনা হবে। এছাড়া একটি বিলের রিপোর্ট উত্থাপন করার কথা রয়েছে। বিলগুলো হচ্ছে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) ২০১০, আর্থিক প্রতিষ্ঠান (সংশোধন) ২০১০, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) ২০১১, দ্যা ফরেস্ট (সংশোধন) ২০১২, বৃক্ষ সংরক্ষণ ২০১২, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৩ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) ২০১৩। অপরদিকে সরকারের অনিষ্পন্ন ১৬টি বিল রয়েছে। আর বর্তমান সংসদের যেহেতু এটি শেষ অধিবেশন তাই বিলগুলো পাস করিয়ে নেয়া হতে পারে।
