প্রাথমিক স্তর শেষে স্কুলের ৫৫ হাজার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিলেও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এই স্তরে বৃত্তি দেয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা সরকারের এই সিদ্ধান্তটিকে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের বৈষম্য বলে মনে করছেন। তারা বলছেন, কয়েকযুগ ধরে স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষায় এই বৈষম্য এবং অব্যবস্থাপনা চলছে। আর এ কারণে তারা এ বৈষম্যের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারকদের দায়ী করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, সরকার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী শেষে ২২ হাজার শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি এবং ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সাধারণ বৃত্তি দেয়। মেধা বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ১৫০ টাকা এবং প্রতি মাসে ২শ’ টাকা করে পাচ্ছে। এছাড়া সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ১৫০ টাকা এবং প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে পাচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে তারা এই আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু মাদ্রাসার বৃত্তি পাওয়ার যোগ্য মেধাবীরা এই বৃত্তি পাচ্ছে না। ফলে এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে এক ধরনের হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৯৩ জন। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৭৬ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৩২৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ইবতেদায়ীতে ৯১ শতাংশের বেশি পাস করে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৯০ জন। অথচ শিক্ষার্থীদের এই বড় অংশটিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবজ্ঞা করছে বলে মাদ্রাসা শিক্ষকরা জানিয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, বতর্মানে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষার (জেএসসি) ভিত্তিতে নবম ও দশম শ্রেণীতে দুই বছর মেয়াদি সাধারণ ও মেধা বৃত্তি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও পাচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদ্রাসায়ও এই বৃত্তি চালু হয়। এই স্তরে সাধারণ ও মাদ্রাসায় উভয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধা বৃত্তি প্রাপ্তরা প্রতিমাসে ৩শ’ টাকা ও এককালীন ৩৭৫ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি প্রাপ্তরা প্রতিমাসে ২শ’ টাকা এবং এককালীন ২২৫ টাকা করে পাচ্ছে।
এছাড়া এইচএসসি, স্নাতক (সম্মান), স্নাতক (পাস) শিক্ষার্থীদের মতো দাখিল, আলিম ও ফাজিলেও মেধা বৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি চালু রয়েছে।
মাদ্রসায় জেডিসি, দাখিল, আলিম ও ফাজিলে বৃত্তি দেয়া হলেও ইবতেদায়ীর পর তিন বছর মেয়াদে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কেন বৃত্তি পাচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার প্রধান ও মাদ্রাসা শাখার উপ-পরিচালক মো. আবুল হোসেন ও উপ-পরিচালক ( প্রশাসন) শফিকুল ইসলাম সিদ্দিক বলতেই পারলেন না মাদ্রাসার কোন কোন স্তরে বৃত্তি দেয়া হয় বা হয় না। আর এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থ ও প্রশাসন) এস এম গোলাম ফারুক বলেন, মাদ্রাসায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা অনুবিভাগ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এই অনুবিভাগের প্রধান অতিরিক্ত সচিব (কারিগরি ও মাদ্রাসা) মোহাম্মদ আতোয়ার রহমানও কোন তথ্য দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা রয়েছে ৯ হাজার ৩৩০টি। আর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৭৭ জন ।
