বাংলাদেশি তরুণীর বিশ্বজয়

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:২৫
আয়েশা আরেফিন টুম্পা, বাংলাদেশের সফল নারী বিজ্ঞানী। সম্প্রতি কৃত্রিম মানব ফুসফুস উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বের অসংখ্য বিজ্ঞানীদের মধ্য থেকে ঘোষণা করলেন তার গবেষণায় সফলতার কথা। ন্যানো-প্রযুক্তির মাধ্যমে এ ফুসফুস উদ্ভাবন করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই বাংলাদেশি বিজ্ঞানী। তরুণ এই বিজ্ঞানীকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার বাংলাদেশ নিরক্ষর দেশ হিসেবে বহির্বিশ্বে পরিচিত হলেও এবার সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাংলাদেশের মেয়ে আয়েশা কাজ করছেন কৃত্রিম মানব অঙ্গ নিয়ে। বাংলাদেশের মেয়ে আয়েশা আরেফিন এবং তার সহযোগী বিজ্ঞানী রাশি আয়ারের যৌথ প্রয়াসে তারা মানব শরীরে কৃত্রিম অঙ্গ সংস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন। তাদের এই প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষের শরীরে কৃত্রিম ফুসফুস সংস্থাপন সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় ভয়াবহ মহামারী ধরনের রোগ Chronic Obstructive Pulmonary Disease যার ফলে তৃতীয় সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ প্রতিবছর মারা যায় কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই। আয়েশা আরেফিন এবং তার সহযোগী বিজ্ঞানী রাশি আয়ারের দলের প্রধান কাজ ছিল এই রোগের বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা করা এবং এই রোগে আক্রান্ত রোগীর ফুসফুসের কোষগুলো কীভাবে কাজ করে তা জানা ও এর প্রতিষেধক উদ্ভাবন করা। উক্ত গবেষণা চালানোর সময় আয়েশা ও তার দল মানব শরীরে কৃত্রিম অঙ্গ সংস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন। আয়েশার এই উদ্ভাবনের ফলে চিকিত্সা বিজ্ঞানে অসামান্য অগ্রগতি সাধিত হলো। আয়েশা নিজের এই আবিষ্কারের বিষয়ে বলেন, ‘আমি আমার সকল সহযোগী গবেষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। এখানে সবাই বন্ধুত্বপ্রবণ, আমি এখানে আনন্দময় এক পরিবেশে আমার গবেষণা চালিয়েছি। আমাদের উদ্ভাবন নিয়ে আমি আনন্দিত। আমার গবেষণাগারের, মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আনন্দিত যে ব্যতিক্রম কিছু করার সুযোগ পেয়েছি।’ তিনি আরও জানান, লস আলামসে কর্মরত অন্য অনেক দেশের গবেষক বিশেষ করে মন্টেনিগ্রোর গবেষক মোমো ভুয়িসিচ তার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরির গবেষক ক্রিস ডেটার ২০১১ সালে বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংক্রান্ত এক কাজে বাংলাদেশে আসেন। এখানে এসে আয়েশা আরেফিনের মতো এ রকমই সম্ভাবনাময় জিন বিজ্ঞানী দেখা পান। পরে ডেটার ও তার সহকর্মী ল্যান্স গ্রিনের একান্ত সহযোগিতার ফলেই আয়েশা লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরিতে উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পান। যুক্তরাষ্ট্রে জীবনের প্রথম দিনগুলোতে আয়েশা ডেটারের বাড়িতেই থাকতেন। বর্তমানে তিনি লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরিতে গবেষণার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোতে ন্যানো-সায়েন্সের উপর ডক্টরেট করছেন। আয়েশা লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরির বায়ো-সিকিউরিটি বিভাগে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপরেই ওই ল্যাবের ভারতীয় গবেষক প্রখ্যাত টক্সিকোলজিস্ট রাশি আইয়ার আয়েশাকে অপ্টোজেনিক্স সংক্রান্ত গবেষণা কাজের জন্য নিয়োগ দেন। অপ্টোজেনিকস হচ্ছে জিন-বিদ্যা ও প্রোটিন প্রকৌশল (ইঞ্জিনিয়ারিং)-এর মাধ্যমে জীবন্ত টিস্যুর মাঝে ঘটতে থাকা বিভিন্ন স্নায়ুবিক কাজ (neuron activity) নিয়ন্ত্রণ করা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও কৃত্রিম টিস্যু বা কলা তৈরি করা সম্ভব। আয়েশা ও রাশি আয়ারের দলের অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট বিষক্রিয়া, রোগ ও কৃত্রিম অঙ্গ সংস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন। তারা একটি কৃত্রিম মানব ফুসফুস তৈরি করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, Chronic Obstructive Pulmonary Disease-এর সময় ফুসফুসের কোষগুলো কিভাবে কাজ করে তা জানা ও এর প্রতিষেধক উদ্ভাবন করা। এটি হচ্ছে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভয়াবহ রোগ যাতে আমেরিকার অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আয়েশা একই সাথে বিভিন্ন স্নায়বিক ব্যাধি ও মস্তিষ্কে রক্ত-ক্ষরণ নিয়েও গবেষণা করছেন। ভবিষ্যতে দেশে ফিরে এসে মানুষের জন্য কাজ করতে আগ্রহী আয়েশা আরেফিনের। দেশে থাকাকালীন সময়ে তিনি নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি এইচআইভি/এইডস নিয়ে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেছেন। তার ইচ্ছা দেশে এসে নিজের বাড়িতে একটি স্কুল খোলার। যেখানে যে কোনো শিশু বিজ্ঞান ও গণিত পড়ার সুযোগ পাবে।