এগিয়ে থাকুন অন্যদের চেয়ে

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:২৭
বেকারত্বের অভিশাপ আজ সবারই দুশ্চিন্তার কারণ। প্রতি বছর হাজারো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে চাকরির বাজারের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান নিয়ে সবার বাস্তবমুখী চিন্তা করাটা জরুরি। এর মধ্যে প্রথম ভাবনায় আনতে হবে কেন একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা অর্জন করার পর বেকার থাকে। এই প্রসঙ্গের আলোচনার মুখ্য উত্তরে আসতে পারে, যে সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য লেখাপড়ায় শিক্ষার্থীরা সম্পৃক্ত হয় তার স্বাভাবিক প্রসপেক্ট কেমন। যদি কর্মক্ষেত্রের সুযোগ আশানুরূপ না থাকে তবে সঙ্গত কারণেই সার্টিফিকেট নিয়ে বেকার থাকতে হয়। আবার বিশ্বজুড়ে এ সার্টিফিকেটের মূল্যায়নের বিষয়টিও চিন্তায় আনতে হবে। বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে চাহিদা রয়েছে এমন একটি পড়াশোনার বিষয় উড়োজাহাজ ইঞ্জিনিয়ারিং। একসময় বিষয়টি পড়ার জন্য বিদেশ যেতে হতো, অনেক টাকা খরচ করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে এদেশে এই ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ থাকায় অল্প খরচে ব্যাপক সংখ্যক দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্স, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, এয়ারক্রাফট মেনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার, উড়োজাহাজ প্রকৌশলী কোর্সে ভর্তি হতে এই ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। এ ধরনের দক্ষ অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করতে সাহায্য করছে যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য শিক্ষা বোর্ড বিটেক এডেক্সেল। বাংলাদেশে এর অধীনে রয়েছে কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজি যাদের উত্তরার এগার নম্বর সেক্টরে দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত ক্যাম্পাসের ফোন :৮৯৯১৩৭১। কলেজটি অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এনডি এবং এইচএনডি ডিগ্রি পরিচালনা করছে যাদের সাফল্য রয়েছে উল্লেখ করার মতো। তিন সেমিস্টারের অন্তর্ভুক্ত এনডি ও এইচএনডি ইন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মেয়াদ হয় সাধারণত আঠারো মাস। এই ডিগ্রিতে পড়তে হলে এইচএসসি অথবা ‘এ’ লেভেল, এসএসসি বা ‘ও’ লেভেল পাস করা থাকতে হয়। যেখানে শেখানো হয় বিজনেস ম্যানেজমেন্ট টেকনিক, এয়ারক্রাফট, স্ট্রাকচারাল ইন্টিগ্রিটি, অ্যানালাইটিক্যাল মেথোডস ফর ইঞ্জিনিয়ার্স, এয়ারক্রাফট প্রপালশন টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স, ইন্ট্রিগেটেড ফ্লাইট সিস্টেমস, এয়ারক্রাফট সিস্টেমস প্রিন্সিপাল, গ্যাস টারবাইন সায়েন্স, প্রজেক্ট সেফটি অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, মেকানিক্যাল প্রিন্সিপাল, অ্যারোডায়নামিক প্রিন্সিপাল, ফিউচার অ্যারোডায়নামিকস ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাথমেটিকস, এয়ারক্রাফট ফ্লুড সিস্টেমস, ইঞ্জিনিয়ারিং থার্মোডায়নামিকস প্রভৃতি। হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে ছাত্রছাত্রীরা চলে যাবে এয়ারলাইন্সে এক বছরের ইন্টার্নশিপ করতে। সেখানে হাতে কলমে তাদের শেখানো হয় এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স। সফলভাবে ইন্টার্নশিপ শেষ করার পর সে পাবে ৩০০ দিনের ওয়ার্কশিট এবং এক বছরের অভিজ্ঞতার সনদপত্র। ওয়ার্কশিট পাওয়ার পর সহজেই ইএএসএ পাট পরীক্ষা শেষে সে হতে পারে এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার। লাইসেন্স হোল্ডার এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার হওয়া মানেই হচ্ছে উজ্জ্বল ভবিষ্যত্। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা চাইলেই বিশ্বের যেকোনো দেশের এডেক্সেল অনুমোদিত ইউনিভার্সিটিতে সহজে চূড়ান্ত বর্ষে ভর্তি হয়ে বিইজি ইন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারবেন কভেন্টি, কিংস্টোন, সেলফোর্ড, ক্রেইনফিল্ডসহ যুক্তরাজ্যের আরও অনেক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অবশ্য কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজি থেকেই লেভেল-৬ করা যায়।