শিখুন বন্ধুর কাছ থেকে

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:২৮
অনিতা আর ইফাত একই কলেজে পড়ছে। ক্লাস ওয়ান থেকেই তাদের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব। এই অনিতা যখন এইচএসসি’তে দারুণ রেজাল্ট করল, তখন ইফাতের মা মুখ ফসকে বলেই ফেললেন, ‘অনিতাকে দেখে শেখো, পারলে ওর মতো হওয়ার চেষ্টা কর।’ তারপর থেকে ইফাতের মন খারাপ শুরু হয়েছে। বয়েই গেছে, এত লোক থাকতে অনিতার কাছে থেকে শেখার! আর এখানেই গড়পরতা সবাই ভুলটা করে। কিন্তু যদি একটু সহজভাবে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন, যাকে একেবারেই চেনেন না তার কাছ থেকে কিছু শেখার চেয়ে বেস্ট ফ্রেন্ডের কাছ থেকে শেখাটা বরাবরই বেশি ভালো। ক্লাসমেট, ক্যাফের আড্ডার সঙ্গী বা পাড়ার বন্ধুটি যদি নিজেকে আর পাঁচজনের চেয়ে আলাদা করতে পারে বিশেষ কোনো দক্ষতায়, তা হলে তার ভক্ত হওয়াটা মোটেই দোষের কিছু নয়। তবে এখানে একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়, আর তা হলো ইগো বা অহং। যাকে খুব কাছ থেকে চেনেন, তার কাছ থেকে সাহায্য চাইতে গেলে একটু কেমন যেন কিন্তু কিন্তু ঠেকে। আর একটা কথা না বললেই নয়, দুনিয়াটা কিন্তু বেশ দ্রুত দৌড়াচ্ছে। অহংবোধ করেছেন তো পিছিয়ে যাবেন। দু’কদম এগিয়ে থাকা বন্ধুটি কখনোই আপনার শত্রু নয়, তার কাছ থেকে সাহায্য নিতে কখনোই লজ্জা পাবেন না। বন্ধুদের মধ্যে যদি কোনো বন্ধু সহযোগিতা করতে অস্বীকার করে তাহলে অবশ্যই জানবেন সে প্রকৃত বন্ধু নয়। নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে সমান চিহ্নের ওপাশে দাঁড়িয়ে আপনার ভালো দিকগুলো বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করুন। কারণ যা দেওয়া যায় তাই ফিরে পাওয়া যায়। ++ কাছের বন্ধুরাই আপনাকে সবচেয়ে ভালো চেনে, এমন কী আপনার দুর্বল দিকগুলোও। তারা যেভাবে আপনাকে গাইড করবে অন্য কারও পক্ষে তা সম্ভব নয়। ++ ধরুন আপনার বন্ধুটি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে আর আপনি টেনে-টুনে মাত্র পাস করেছেন। তার সাফল্যে জ্বলে-পুড়ে না মরে বরং সাফল্যে খুশি হন। নিজের দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য চান। তবে কিছুই জানি না, খুব কাঁচা এই মনোভাব প্রকাশ করবেন না। আর প্রথমদিন কিছু শিখতে না পারলে বেঁকে বসবেন না। কারণ রাতারাতি কোনো কিছুই শেখা যায় না। বন্ধুর ধ্যান-ধারনার প্রতি আন্তরিক হওয়াটা জরুরি। পরস্পরকে যেমন বিশ্বাস করতে হবে তেমনি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাও থাকতে হবে। নিজের ভাবনাটা দোষের কিছু নয় তবে অন্যের গুণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে, সকলের ভালোটা কাজে লাগিয়েই সেরা হয়ে ওঠা সম্ভব। ++ যদি কেউ কখনও আপনার কাছ থেকে কিছু শিখতে চায় তাহলে হাত বাড়িয়ে দিতে দ্বিধা করবেন না। আপনার কিছুই হারাবে না বরং অন্যকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের অনেক দ্বিধা দূর হয়ে যাবে।