জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী একটি শিশুকেও তার জীবিকা নির্বাহের জন্য কোন প্রকার শ্রমে নিয়োজিত করার কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে শিশুরা শুধু শ্রমের সাথেই নয় মারাত্মকভাকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার শিশুশ্রম নিরসনের ক্ষেত্রে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের তালিকা প্রণয়ন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের তালিকা বাস্তবায়ন এবং এর গুরুত্ব বিষয়ক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিকুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের তালিকা থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের কাজটি বাদ পড়েছে, যা হয়তো পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকার ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের চূড়ান্ত তালিকা ও শিশু আইন ২০১৩ অনুমোদন করেছে। কিন্তু নীতিমালায় গৃহীত হওয়া মানেই শিশুশ্রম নিরসন নয়।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অভিভাবক ও মালিক উভয়ই শিশুদের কাজে নিয়োজিত করে। কাজেই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমেই শিশুশ্রম নিরসন তথা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে। শিশুশ্রম বন্ধ করতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। সর্বোপরি শিশুদের বাধ্যতামূলক শিক্ষার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার শিশুশ্রম প্রতিরোধে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম তৈরি করেছে যার সক্রিয়করণের কাজ এখনো চলছে। তাছাড়া সরকার শিশুদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে শিশু বিকাশ কেন্দ্র খুলেছে যেখানে ১৮ বছর পর্যন্ত সে থাকতে পারবে।
বিশেষ অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আশরাফুন্নেছা বলেন, যে ৩৮ টি ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে বর্তমানে তার বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ, সরকার বা এনজিও কি ভূমিকা রাখতে পারে তা নির্ধারণ করে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে শিশুশ্রম বা শিশু অধিকার রক্ষা সম্ভব হবে। শিশুশ্রম বা শিশু অধিকার নিশ্চিত করতে হলে শিশুদের অধিকারগুলোকে নৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন শিশুশ্রম বন্ধ করতে হলে অবশ্যই শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের স্যোশাল সেফটি নেট প্রোগ্রামের আওতায় নিতে হবে এবং কমিউনিটি লেভেলে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।
শিশু অধিকার ফোরামের ভাইস চেয়ারপারসন ড. এম. এহসানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে শিশুশ্রম নিরসন খুব কঠিন হলেও আমরা অনেক এগিয়েছি। শিশুশ্রম বন্ধে শিশুর বয়স নির্ধারণে সঠিক জন্মনিবন্ধন এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের তালিকায় গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের কাজকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে জোরালো সুপারিশ করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের ভাইস চেয়ারপারসন ড. এম. এহসানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. আব্দুল হাই মণ্ডল।
