ফেলানী হত্যার পুনর্বিচার হবে :বিএসএফ

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৬
কুড়িগ্রাম সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যা মামলার পুনর্বিচারের (রিভিশন ট্রায়াল) সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচারের যে রায় বিএসএফের বিভাগীয় আদালত দিয়েছে, সেই রায়ের সঙ্গে তারা একমত হতে পারছেন না। তাই অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পুনর্বিচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। বিএসএফেরই আভ্যন্তরীণ আদালতে এই বিচার হবে বলে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিএসএফের মহাপরিচালক সুভাষ যোশি বাংলাদেশ সফরে আসার মাত্র একদিন আগে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত জানানো হলো। ঢাকায় দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ের এক বৈঠকে যোগ দিতে সুভাষ যোশি ঢাকা আসছেন। বিএসএফের মহাপরিচালক হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম ঢাকা সফর। গত ৬ সেপ্টেম্বর হওয়া ফেলানী হত্যা মামলার রায়ে বাংলাদেশে যে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, সে পটভূমিতেই বিএসএফ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঢাকা সফরে আসার আগে বিএসএফের মহাপরিচালক গতকাল শুক্রবার দিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপরেই বিএসএফের তরফ থেকে ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া পেরনোর সময়ে ফেলানী খাতুন কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে মারা যান। দীর্ঘক্ষণ তার দেহ বেড়ার ওপরেই ঝুলে ছিল। নিহত এই কিশোরির ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএসএফের কড়া নিন্দা করেছিল। কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, ভারত সরকার ফেলানী হত্যা মামলার রায় পুনঃবিবেচনা করার ঘোষণা দেয়ায় আমরা আনন্দিত। তার পরও সন্দেহ রয়েছে আমরা গরিব মানুষ ন্যায় বিচার পাব কি না। এ কারণে হতাশা ব্যক্ত করে ন্যায় বিচারের আশায় ১১ সেপ্টেম্বর ই-মেইলে ভারতীয় হাই কমিশনার ও পশ্চিম বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) এর পরিচালক কিরিটি রায় এবং বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর নির্বাহী প্রধানের কাছে পত্র পাঠিয়েছি। আমি চাই বিএসএফের হাবিলদার খুনি অমিয় ঘোষের ফাঁসি। কারণ সে নিজে গুলি করে আমার মেয়ে ফেলানীকে হত্যা করার কথা আদালতেও স্বীকার করেছে। আমরা ভারতের আদালতে গিয়ে সত্য ঘটনার বিস্তারিত সাক্ষ্য দিয়েছি। ন্যায় বিচারের পাশাপাশি চাই উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে চট্টগ্রামে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে কিশোরী ফেলানীর পিতামাতা তাদের মেয়ের হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি আয়োজন করে বিজয় ৭১। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন।