ভারতের নয়াদিল্লির চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত প্রাপ্তবয়স্ক ৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে সেদেশের একটি দ্রুতবিচার আদালত। গতকাল শুক্রবার আদালতে পিন পতন নিরবতার মধ্যে বিচারক যোগেশ খান্না এই রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ৪ আসামি হলো - বিনয় শর্মা, অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্ত ও মুকেশ সিংহ। এর আগে মঙ্গলবার এ মামলায় অভিযুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক ৪ আসামীকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। খবর এএফপি ও বিবিসির।
গত ১৬ ডিসেম্বর ২৩ বছর বয়সী প্যারা-মেডিক্যাল ছাত্রী তার এক পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে ফেরার সময়ে দক্ষিণ দিল্লির একটি বাসস্টপ থেকে তাদের মিথ্যা কথা বলে বাসে উঠিয়ে নেয় যাত্রী সেজে বসে থাকা অভিযুক্তরা। তারপরে পুরুষ বন্ধুটিকে মারধর করে ওই তরুণীকে একে একে ধর্ষণ ও পাশবিক অত্যাচার করে তারা। তারপরে তাঁকে নগ্ন করে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়া দেয়। দেশে বেশ কিছু দিন চিকিত্সার পর অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যায় ভারত সরকার। কিন্তু মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মারা যায় ওই তরুণী। এ ঘটনায় সারা দেশে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়। দিল্লীসহ দেশজুড়েই অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ঘটনার রাতে ওই বাসে ছিল মোট ছয়জন। শুনানি শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসে তিহার জেলে আত্মহত্যা করে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত রাম সিংহ। ষষ্ঠ অভিযুক্তের বয়স আঠেরো না পেরোনোয় তার বিচার হয়েছে কিশোর অপ-রাধীদের জন্য বিশেষ আদালতে। সংশোধনাগারে তিন বছর কাটানোর শাস্তি দেয়া হয়েছে তাকে। যদিও ঘটনার দিন সবচেয়ে নৃশংস আচরণ ছিল ওই নাবালকেরই।
বিশেষ আদালতের বিচারক যোগেশ খান্না জানিয়েছেন, ধর্ষিতার বয়ান থেকে শুরু করে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট, আঙুলের ছাপ থেকে মোবাইল ফোনের অবস্থান সব সাক্ষ্যপ্রমাণই বলছে ধর্ষণের সময় সেখানে ছিল মুকেশ সিংহ, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত ও অক্ষয় ঠাকুর। শুধু ধর্ষণ নয়, খুন করার জন্যই অসহায় তরুণীর উপরে সেদিন বীভত্স নির্যাতন চালিয়েছিল ওরা। ধর্ষিতার মেডিক্যাল রিপোর্টে জানা যায়, ধর্ষনের পর ওই তরুণীর গোপনাঙ্গ দিয়ে এমনভাবে লোহার রড ঢোকানো হয়েছিল যে ক্ষুদ্রান্ত্রের কিছু অংশ বেরিয়ে এসেছিল দেহের বাইরে! রায়ে সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে বিচারক বলেন, শুধু আঘাত করার জন্য কেউ এতটা নৃশংস হয় না। এই ঘটনা ভারতীয় সমাজের সম্মিলিত বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এ কারণে এই মামলায় দোষীদের যথাযোগ্য সাজা হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।
আসামিরা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে আপীল করতে পারবে। সেখানে তাদের আপীল খারিজ হলে তারা শেষ চেষ্টা হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানাতে পারবে।
