শিক্ষা অধিদফতরের অভিযুক্ত কর্মচারীদের তালিকা দুদকে

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫০
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিজ প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের শায়েস্তা করতে চাইছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ কারণে অভিযুক্ত কর্মচারীদের নামের তালিকা ইতিমধ্যে দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে । সমপ্রতি অবৈধ প্রক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ২৮৭ জন শিক্ষক ও কমর্চারীকে এমপিওভুক্ত (বেতন-ভাতা বাবদ মাসিক সরকারি অনুদান) করার ঘটনার প্রমাণ পায় মাউশি। মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এসব এমপিও দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষা অধিদফতরের ১০ জন কর্মচারী জড়িত রয়েছে বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত কর্মচারীদের নাম সম্বলিত তদন্ত প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী দুদক এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া এদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। তদন্ত কমিটি : মাউশির এমপিও জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে মাউশির পরিচালক দিদারুল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপ-পরিচালক (কলেজ-১) এ টি এম মইনুল হোসেন ও উপ-পরিচালক (কলেজ-২) মেজবাহ উদ্দিন সরকার। কমিটি তদন্ত শেষে মাউশির মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। মূলত এই কমিটিই দায়ী কর্মচারীদের খুঁজে বের করে। তদন্তে দেখা গেছে, ২৮৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী কমিটির সুপারিশ ছাড়াই এমপিও পেয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী কোনোভাবেই তাদের এমপিওভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি অনেকের নির্দিষ্ট যোগ্যতাও নেই। মাউশির ওই ১০ কর্মচারী মোটা ঘুষের বিনিময়ে তাদের অবৈধভাবে এমপিও পাইয়ে দেয়ার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাধ্যমিক শাখার নথি ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা দৃষ্টিগোচর হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের কতটি নথি আছে তা মাধ্যমিক শাখায় কোথাও এন্ট্রি নেই। রেজিষ্ট্রারে যে সকল নথি এন্ট্রি করা আছে তা আবার ব্যবহূত নথির নম্বর ও প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে মিল নেই। যেভাবে অনিয়ম : নিয়ম অনুযায়ী এমপিও আবেদন যাচাই-বাছাই করার পর এমপিও শিট তৈরির জন্য পাঠানো হয় ইএমআইএস শাখায়। সেখানে কম্পিউটারে তা তৈরির পর আবার সংশ্লিষ্ট শাখায় যাচাই-বাছাই হয়। মূলত ইএমআইএস শাখার তৈরি করা শিটটির ওপর ভিত্তি করেই ওই ২৮৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওর বিল করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, এক কর্মচারি নেত্রকোনা জেলার একটি কারেকশন সীটে নিয়ম বহির্ভূত ১৩ জনের এমপিও প্রস্তাব থাকলেও ৯ জনের নাম এন্ট্রি করে বাকি ৪ জনের ডাটা এন্ট্রি করেন নি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির ধারণা, যারা চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেয়নি, তাদের শেষ পর্যন্ত এমপিওভুক্ত করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে বাদ কর্মকর্তারা : মাউশির একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় শুধু কর্মচারিদের নয়। অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা জড়িত না থাকলে কর্মচারিরা এত সহজে অনিয়ম করতে পারে না। অথচ তদন্ত কমিটি কর্মকর্তাদের কোন নাম উল্লেখ করেন নি। এছাড়া মাধ্যমিক শাখার অব্যবস্থাপনা দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট শাখার পরিচালক, উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালকের। অথচ এরা এ বিষয়ে উদাসীন ছিলেন। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায়। কিন্তু তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ নেই।