রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আমি এক কঠিন সময়ে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছি। নানা রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রতিনিয়ত আমাদের নাড়া দিচ্ছে। সাধারণ নির্বাচনের সময় দেখতে দেখতে চলে এসেছে। দেশের এই কঠিন সময়ে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্মানের সাথে পালন করতে পারি, আপনাদের মান-মর্যাদা যাতে অক্ষুণ্ন রাখতে পারি, পরম করুণাময় আল্লাহতালার নিকট এই প্রার্থনা করি। জীবনে আমি কখনও জ্ঞাতসারে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি। কারও উপকার করতে না পারি, ক্ষতির চিন্তা কোন সময়ই করিনি। সবসময় দলমত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে আমার একটি সুসম্পর্ক ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমি আপনাদের সাথে থাকতে চাই, দেখতে চাই একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমি আবারো ফিরে আসতে চাই সাধারণ মানুষ হিসাবে, আপনাদের সাথেই বসবাস করতে চাই। তিনি গতকাল শনিবার বিকালে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, হাওড়-বাঁওড়, নদ-নদী পরিবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ জেলা ভৌগোলিক কারণেই অনেক পশ্চাত্পদ। আমাদের প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এই জেলার উন্নয়নের স্বার্থে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। গুরুদয়াল সরকারি কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিসহ স্থানীয় অন্যান্য দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, সুযোগ পেলে অবশ্যই সবগুলো দাবি পূরণের চেষ্টা করবো। কিশোরগঞ্জ থেকে টোক পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে। রাস্তাটি নির্মিত হলে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা যাওয়ার দুর্ভোগ অনেকটা হ্রাস পাবে। এগারসিন্দুর ট্রেনে ৬টি বগি সংযোজন এবং কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রেলপথে একটি কমিউটার ট্রেন চালুর জন্য রেলমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণসংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ও কিশোরগঞ্জ পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো. মাজহারুল ইসলাম ভূঞা কাঞ্চন। মানপত্র পাঠ করেন জেলা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসিরউদ্দিন ফারুকী। বক্তব্য রাখেন মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, মো. আফজাল হোসেন এমপি, মো. আতিকুর রহমান আতিক এমপি, রেজওয়ান আহম্মেদ তৌফিক এমপি, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ ওয়াহিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজল, জেলা সিপিবির সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আশরাফউদ্দিন রেণু, জেলা ন্যাপের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক খান রতন, জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র চন্দ্র ভৌমিক দোলন প্রমুখ।
