কমিউনিকেশন অফিসার

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩২
ফাহ্দ উজ জামান চৌধুরী ম্যানেজার (ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন), রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক শেষ করেই যোগ দিয়েছিলেন একটি টেলিকম কোম্পানিতে। সেখানের অভিজ্ঞতার আলোকেই একটা সময় কাজের সুযোগ পান এয়ারলাইন্সে। বলছি ফাহ্দ উজ জামান চৌধুরীর কথা, এ সময়ের সফল একজন ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন ম্যানেজার তিনি। ফাহ্দ বর্তমানে কাজ করছেন রিজেন্ট এয়ারওয়েজে। সময়মতো ফ্লাইটের নিশ্চয়তাই প্রতিষ্ঠানটিকে একটা আলাদা পরিচয় দিয়েছে। আর এই ইতিবাচক পরিচিতিটাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলাই ফাহেদর কাজ। ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে আছেন তিনি। কাজের ক্ষেত্রে তার স্বাচ্ছন্দ্যের মাত্রাটা শতভাগ বলে জানালেন। কারণ পছন্দ অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। পেশা হিসেবে কমিউনিকেশনের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে ফাহদ বলেন, ‘মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো এই পদ প্রথম প্রথম সৃষ্টি করলেও এর চাহিদা এখন সবার কাছে। সবাই এর গুরুত্ব অনুভব করতে পারছেন। এখন তো স্থানীয় কোম্পানিগুলোতেও কমিউনিকেশনে প্রচুর কাজ হচ্ছে, এর ফলে তাদেরও কিন্তু কাজের মানের যথেষ্ট অগ্রগতি হচ্ছে।’ কমিউনিকেশনে নতুনদের কাজ সম্পর্কে অনেক উচ্চাশা ব্যক্ত করে ফাহ্দ বলেন, ‘তারা দারুণ দারুণ আইডিয়া নিয়ে কাজে আসছে। তারা অনেক মেধাবী। সেই সাথে প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোতেও তারা এগিয়ে আছে। সবমিলিয়ে তাদের গতি সামনের দিকে, শুধু আমাদের একটু পরামর্শ পেলেই সেটা হয়তো আরও বৃদ্ধি পাবে।’ তাদের জন্য পরামর্শ জানতে চাইলে ফাহ্দ বলেন, ‘তাদের কাজের গুণ ও মান নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সাফল্যের জন্য এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটা জরুরি। একইসাথে নতুনদের বলব অন্যের কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে।’ ফাহেদর বাবা অবসরপ্রাপ্ত সচিব এবং মা চক্ষু বিশেষজ্ঞ। তিন ভাইবোনের পরিবারে ফাহ্দ সবার ছোট। সবশেষে ফাহ্দ বলেন, ‘আমরা অনেক সময় অনেক কাজে বাইরের দেশকে অহেতুক অনুকরণ করি। এ থেকে বেরিয়ে আসা দরকার, নিজেদের চিন্তাচেতনারও উন্নতি দরকার।’ আর এমন সব ভাবনা গুছিয়ে নিয়ে একটা বই লিখে ফেলার স্বপ্ন তার। ফাহ্দ উজ জামান চৌধুরী ডাকনাম :বনি জন্মতারিখ :১০ জুলাই মায়ের নাম :বদরুন নাহার চৌধুরী বাবার নাম :দাউদ উজ জামান চৌধুরী প্রথম স্কুল :ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুল প্রিয় মানুষ :বাবা-মা এবং স্ত্রী প্রিয় উক্তি :Tell your heart that the fear of suffering is worse than the suffering itself. And no heart has ever suffered when it goes in search of its dream. প্রিয় পোশাক :জিন্স ও টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :ভ্রমণ, লেখালেখি, গান শুনে ও সাইক্লিং করে। সাফল্যের সংজ্ঞা :সাফল্য হলো প্রতিদিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া। ০০০০০ তৌহিদ ফিরোজ হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ, ঢাকা স্কুলে কমবেশি সবার জীবনের লক্ষ্য নিয়ে রচনা লিখতে হয়। একবার তৌহিদকেও এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হলো। শিক্ষক জানতে চাইলেন কী হতে চায় সে? ‘ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার’ উত্তর আসাটাই স্বাভাবিক একজন কিশোর শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। কিন্তু তৌহিদ সেদিন চেয়েছিলেন লাল দলের ফুটবলার হবেন। সে স্বপ্ন তার পূরণ হয়নি, তবে নিজের বর্তমান কাজের ক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি। বলছি তৌহিদ ফিরোজের কথা, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান তিনি। মূলত সাংবাদিকতার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু হলেও, একটা সময় এসে কমিউনিকেশনের কাজের এই জগতটাও তার ভালো লেগে গেল। এই কাজেও আছে গণমানুষের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ। এই বিষয়টা অনেক উপভোগ করেন তিনি। এর পাশাপাশি লেখালেখিও চালিয়ে যাচ্ছেন। সুযোগ পেলে সাংবাদিকতাতেও কম যান না মেধাবী এই কমিউনিকেশন অফিসার। তৌহিদ বলেন, ‘এখন কমিউনিকেশন সেক্টরে কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হয়ে দাঁড়াবে এটি। আর ব্যবসা থেকে শুরু করে যেকোনো বিষয়েই এখন অনেক জরুরি সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি, ফলে এ সেক্টরে দ্রুতই কাজের সুযোগ বাড়ছে। নতুনদের কাজের সম্পর্কে মূল্যায়নে তৌহিদ বলেন, ‘নতুনরা কমিউনিকেশন সেক্টরে বেশ ভালো করছে। তবে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে এখানে প্রায় কয়েক বছর লেগে যায়। নতুনরা ইংরেজিতে বেশ ভালো, তবে এর পাশাপাশি বাংলাতেও পারদর্শিতা দরকার তাদের।’ এরপর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সবার সাথে মিশতে হবে, বন্ধুত্বের একটা বলয় তৈরি করতে হবে। আর ইংরেজি চর্চার সাথে সাথে মাতৃভাষার চর্চাটা হারিয়ে গেলে চলবে না। বিশেষ করে যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন, তাদের জন্য এটা খুব জরুরি।’ বর্তমানে স্ত্রী আর এক সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই আছেন তিনি। তারাই এখন তৌহিদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এত ব্যস্ততার মাঝেও তৌহিদ স্বপ্ন দেখেন, একটা উপন্যাস লিখবেন। সেটা হবে সমাজের অন্ধকার কোনো জগত্ নিয়ে। এভাবেই তো প্রজন্ম স্বপ্ন দেখে, আর আমাদের নিয়ে যায় সম্ভাবনাময় এক ভবিষ্যতে। তৌহিদ ফিরোজ ডাক নাম :টোটো জন্মতারিখ :৪ এপ্রিল মায়ের নাম :সেলিনা মোহসিন বাবার নাম :তারেক ফিরোজ প্রথম স্কুল :সেন্ট মার্গারেট প্রিয় মানুষ :খুশবন্ত সিং প্রিয় উক্তি :Those who make you believe absurdities can make you commit atrocities. প্রিয় পোশাক :জিন্স ও সাদা শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :খেলাধুলা করে, বই পড়ে, লেখালেখি করে। সাফল্যের সংজ্ঞা :শরীরটা ভালো তো সব ভালো। ০০০০০ আনোয়ারুল আমিন এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন অ্যান্ড পিএমআর ম্যানেজার, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, বাংলাদেশ। পড়াশোনা শেষে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোতে ২০০৬ সালে যোগ দেন। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীনই এ কোম্পানিতে তার জীবন বৃত্তান্ত পাঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়েই তিনি এই পেশায় যোগদান করেন। মার্কেটিং বিভাগের টেরিটরি অফিসার হিসেবে প্রথম বরিশাল জেলায় কাজ শুরু তিনি। বলছিলাম ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, বাংলাদেশের এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন অ্যান্ড পিএমআর ম্যানেজার আনোয়ারুল আমিন সম্পর্কে। একজন জনসংযোগ অফিসার হিসেবে কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে আনোয়ারুল আমিন বলেন, ‘বরাবরই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। সেজন্যই এখানে কাজ করতে পারছি। মার্কেটিংয়ের প্রতি আমার আগ্রহ অনেক আগে থেকেই। কোম্পানি পোস্ট খালি হলে অ্যাপ্লাই করে পরে এখানে আসি। পেশা হিসেবে কমিউনিকেশন আমার কাছে অনেক স্বস্তিদায়ক। কেননা এখানে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ আছে, নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে সফল হওয়া সম্ভব।’ কেন এই পেশাটা বেছে নিলেন—এমন প্রশ্ন করলে আনোয়ারুল আমিন বলেন, ‘নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে যখন ভাবার বয়স হয়েছে তখন থেকেই সৃষ্টিশীল কিছু করব এমন ভাবনা কাজ করত। তা ছাড়া মার্কেটিংয়ের প্রতিও একটা ভালোবাসা ছিল সবসময়। এই দুইয়ের সমন্বয়ই আমাকে এই পেশাতে নিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করে।’ আমাদের আজকের প্রজন্ম এই পেশার প্রতি কেমন আগ্রহী তা জানতে চাইলে আনোয়ারুল আমিন বলেন, ‘এই কাজের প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী এখনকার ছেলেমেয়েরা। তবে অনেকেই জানে না, এই পেশাতে কাজের ধরন কেমন। তবে ধীরে ধীরে এ পেশার গুরুত্ব ও মূল্যায়ন বাড়ছে সন্দেহাতীতভাবে।।’ তবে এ পেশার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে বা সবার মাঝে জানান দেওয়ার জন্য অনেক দিন ধরে সফলভাবে যারা এই পেশাতে কাজ করছেন তারা অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন বলে মনে করেন আনোয়ারুল আমিন। তবে সবকিছুর পরে নতুনদের কাজের মান অনেক সন্তোষজনক। কিন্তু কিছু কিছু ছেলেমেয়েরা যারা শুধু চাকরি করবে বলে এই পেশাতে আসে তারা আসলে তাদের কাজকে বেশিদূর নিতে পারছে না বলেও জানান তিনি। শুধুমাত্র কাজের প্রতি ভালোবাসা দিয়েই এই মাধ্যমে সফল হওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন হলো, ‘এই সেক্টরে কাজ করে যাওয়া। ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনে নিজের মেধাকে কাজে লাগানো। দেশের বাইরেও দেশকে রিপ্রেজেন্ট করা।’ আনোয়ারুল আমিন ডাক নাম :আশিক জন্মতারিখ ও স্থান :২৬ জানুয়ারি, ঢাকা মায়ের নাম :উন্মে জায়েদা বাবার নাম :আ ন ম বদরুল আমিন প্রথম স্কুুল :উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল প্রিয় মানুষ :মা প্রিয় উক্তি :নিউ আর গেট আপ। প্রিয় পোশাক :পাঞ্জাবি, অবসর কাটে যেভাবে :বন্ধুদের সাথে আড্ডা ও ভ্রমণে। সাফল্যের সংজ্ঞা :কী করতে চাই, তা পরিকল্পনায় থাকতে হবে।