প্রজন্ম প্রত্যাশা

রেডিও জকি

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩৩
‘কথাবন্ধুরা আমাদের দেশে এখন যারপরনাই জনপ্রিয়’ রিমলি সিনিয়র প্রডিউসার রেডিও টুডে রেডিওতে বেশিরভাগ প্রোগ্রামই সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। তেমনই এক প্রোগ্রামে একদিন বন্ধু আরজে এক ভক্তকে জানিয়ে দিলেন, রিমলির সাজুগুজু করতে খুব ভালো লাগে। তারপর আর পায় কে? পরের জন্মদিনে স্টেশনে এসেই অবাক বনে যান রিমলি, সেই ভক্ত তার জন্য সুন্দর একটা ড্রেসিং টেবিল এবং শো-পিস পাঠিয়ে দিয়েছেন। এত এত ভালোবাসা যে শ্রোতা আর ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া যায়, আর কোনো পেশায় তা অতটা সহজলভ্য নয়, সেজন্য আরজে জীবনটা নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। জনপ্রিয় রেডিও স্টেশন রেডিও টুডের সিনিয়র প্রডিউসার এবং আরজে হিসেবে কর্মরত রয়েছেন রিমলি। এ পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রেডিওতে জকি বা কথাবন্ধু আমাদের দেশে এখন যারপরনাই জনপ্রিয়। রেডিও টুডের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালাতে একবার এক ব্যাংকার এসে হাজির হলেন, তার বয়স ৩৮ বছর, ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি আরজে হতে চান। এ রকম ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। এ ধরনের ঘটনা আরও প্রমাণ করে কতটা জনপ্রিয় আরজে পেশা। আর এখানে তো এখন ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে। আগে দুই, তিনটি রেডিও স্টেশন ছিল, এখন সে সংখ্যা বেড়েছে অনেক, সামনে আরও কয়েকটি নতুন স্টেশন আসবে। তা ছাড়া শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও এখন স্টেশন সম্প্রসারণ করছেন তারা, ফলে কাজের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে, অন্যদিকে আরজেরা তাদের নির্ধারিত প্রোগ্রামের পাশাপাশি কেউ প্রযোজক কেউবা সমন্বয়কারীর দায়িত্বে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন, তাই এখানে ক্যারিয়ার গড়ার খুব ভালো একটা সুযোগ আছে এখন। স্বপ্ন দেখতে কারও নেই মানা। ঘুমের ঘোরে কেউ রূপকথার রাজ্যে ঘুরে আসার স্বপ্ন দেখেন হয়তো। স্বপ্ন দেখি, সুন্দর একটা আগামীর, যেখানে আমি নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’ ০০০০ ‘কিছুটা বিনোদনের মাধ্যমে জীবনটাকে একটু স্বাভাবিকভাবে গড়ে তোলা’ শারমিন অবনী আর.জে ঢাকা এফএম ৯০.৪ ছোটবেলা থেকেই অসম্ভব রকমের রেডিওভক্ত ও গানপাগল ছিলেন শারমিন অবনী। ছোটবেলা থেকেই সব জানার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। কী, কেন, কীভাবে—এই প্রশ্নগুলো ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী। যা দেখতেন যা শুনতেন সবকিছুতেই জুড়ে দিতেন এই প্রশ্নবান। এখনও সেই অভ্যাস তার পিছু ছাড়েনি। ছোটবেলায় মাকে দেখতেন রেডিও শুনতে। যেখানে অনেক তথ্যবহুল শোসহ বিভিন্ন প্রোগ্রাম হতো। মূলত ভালো লাগাটা তখন থেকেই শুরু। তখন দেশের বা দেশের বাইরের বিভিন্ন রেডিও শুনেই তার এই আগ্রহ দিন দিন বাড়তে থাকে। এই ভালো লাগা এবং ভালোবাসাই পরবর্তীতে তাকে বেতারমাধ্যমে নিয়ে আসে। বর্তমানে ঢাকা এফএম ৯০.৪-এ একজন আরজে হিসেবে কর্মরত আছেন। এই পেশাটি কতটা জনপ্রিয় এবং এই পেশা নিয়ে তার ভাবনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এই পেশা কতটুকু জনপ্রিয় তা বলব না, কিন্তু এই পেশাটা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য বলে আমার বিশ্বাস। কেননা তরুণ থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী মানুষদের আমি দেখেছি তারা আমাদের প্রোগ্রাম শুনছেন। এসব প্রোগ্রামে হাসি-ঠাট্টার মধ্যেও অনেক তথ্য আমরা রাখছি। এ ছাড়া এমন অনেক প্রোগ্রাম আছে, যা সত্যি অনেক বেশি তথ্যবহুল, যেমন—ভ্রমণ বিষয়ক, মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে কিছু প্রোগ্রাম আছে। এসবের উদ্দেশ্য কিছুটা বিনোদনের মাধ্যমে জীবনটাকে একটু স্বাভাবিকভাবে গড়ে তোলা। এ ছাড়াও মানসিক সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন কাউন্সিলদের সাথে কথোপকথন নিয়েও আছে অনুষ্ঠান। জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যায়ের বিষয়বস্তুও উঠে আসছে রেডিওর আলোচনা অনুষ্ঠানে। মূলত এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলো সববয়সী মানুষের কাছে রেডিওকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। এবং আমি যেখানে কাজ করছি—ঢাকা এফএম ৯০.৪, সেখানে এর সবকিছুই আমি পেয়েছি। শুধুমাত্র একজন আরজে না, বরং বন্ধু হয়ে সকল মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া। এরই মাধ্যমে আরও নতুন প্রোগ্রাম এবং নতুনভাবে মানুষের ভালো লাগাগুলো জাগিয়ে তোলা। এই স্বপ্নগুলোই সাধারণ মানুষকে আরও অসাধারণ করে তুলবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।’ ০০০০ ‘নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে নতুন ভাবনার আশ্রয়ে কাজ করা উচিত’ উদয় চৌধুরী সিনিয়র আরজে রেডিও আমার বন্ধুদের আড্ডায় সব সময় কথা বলে মাতিয়ে রাখত ছেলেটা, তারাই একদিন বলল, এতই যখন কথা বলিস, কেন আরজে হওয়ার চেষ্টা করিস না? তাদের কথাতেই আরজে হওয়ার জন্য জীবনবৃত্তান্ত জমা দেয় সে। তার পরের গল্পটা তার ভক্ত আর কাছের মানুষদের জানা। গল্পটা শুধুই সবার ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। যে যাত্রায় তার সাথে ছিল রেডিও আমার। উদয় চৌধুরী, সিনিয়র আরজে হিসেবে কাজ করছেন রেডিও আমার-এ। এই পেশা নিয়ে তার প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে উদয় বলেন, ‘এখন নতুন আরও স্টেশন আসছে। তরুণদের অনেকেই আরজে হিসেবে কাজের সুযোগ পেয়েছে। তারা যে ভালো করছে এতে কোনো সংশয় নেই। কাউকে অনুসরণ না করে নিজের একটা সত্তা তৈরি করা উচিত, তা ছাড়া খেয়াল রাখতে হবে উচ্চারণের প্রতি, যাতে শ্রোতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। আর একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে নতুন ভাবনার আশ্রয়ে কাজ করা উচিত। যে জিনিস একবার তৈরি হয়ে গেছে, সেটা আর নতুন করে করার মাঝে কোনো স্বকীয়তা নেই। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের সৃজনশীলতার দিকে জোর দেওয়ার। সামাজিক সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একজন আরজে খুব সহজেই কোনো বার্তা জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন, ট্রাফিক সিগন্যাল, ইভটিজিং, অ্যাসিড সন্ত্রাস, পানি অপচয়সহ নানা ক্ষেত্রে সচেনতা তৈরিতে আরজরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। শুধু কাজের খাতিরে নয়, এটা তাদের মৌলিক দায়িত্বও বটে। ইচ্ছে ভালো কাজের মাধ্যমে একসময় শুধু দেশের নয়, দেশের বাইরের মানুষরাও আমাকে চিনবে। সবার ভালোবাসা আর অনুপ্রেরণাতে আমার স্বপ্ন একদিন পূরণ হবেই।’