রাফায়েল নাদাল
৩ জুন, ১৯৮৬
জন্মস্থান :মায়োর্কা, স্পেন
উচ্চতা :৬ ফুট ১ ইঞ্চি
র্যাঙ্কিং :১ম
ডানহাতি খেলার ধরন বাঁহাতি
ক্যারিয়ার রেকর্ড ৬৪২-১২৫
এটিপি শিরোপা ৫৯
গ্র্যান্ড স্লাম ১২
প্রাইজমানি (৳) ৫,৬৯,১০,৬৯৭
সর্বোচ্চ ৩৭তম বারের মতো মুখোমুখি জোকোভিচ-নাদাল। ম্যাকেনরো-লেন্ডল ও ম্যাকেনরো-কনর্স দ্বৈরথ হয়েছে ৩৬ বার করে। গ্র্যান্ড স্লামে এর আগে দুজনের ১০ ম্যাচে নাদাল জিতেছেন ৭টি। ৫টি ফাইনালে অবশ্য জোকোভিচ এগিয়ে (৩-২)।
সেমিফাইনালের আগে দুজনই হেরেছিলেন মাত্র একটি করে সেট। তবে সেমিতে নাদাল সরাসরি সেটে জিতলেও জোকোভিচের ঘাম ঝরিয়ে ছেড়েছেন ভাভরিঙ্কা। শেষ পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা ৯ মিনিটে ৩-২ সেটে জিতেছেন জোকোভিচ। ইউএস ওপেনে এর আগে শুধু দুটি ফাইনালেই দেখা হয়েছে দুজনের। ২০১০ সালে জিতেছিলেন নাদাল, পরের বছরই প্রতিশোধ নেন জোকোভিচ। জোকোভিচের বিপক্ষে সর্বশেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছেন নাদাল। ২০১৩ সালে হার্ডকোর্টে হারেননি কোনো ম্যাচ। ফ্লাশিং মিডোতে জোকোভিচের এটি টানা চতুর্থ ফাইনাল। সব মিলিয়ে ফাইনালে উঠেছেন পাঁচবার, জিতেছেন মাত্র একবারই। দ্বাদশ গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে নামছেন সপ্তম শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে। ইউএস ওপেনে এটি নাদালের তৃতীয় ফাইনাল, সব মিলিয়ে গ্র্যান্ড স্লামে ১৮তম। ফাইনালে এক নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে থাকা জকোভিচকে হারিয়েছেন ৬-২, ৩-৬, ৬-৪, ৬-১ গেমে। এটি তার ১৩তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। ফ্লাশিং মিডোসে কোর্টে নামার আগেই ইতিহাসের অংশ দুই মহারথী নোভাক জকোভিচ ও রাফায়েল নাদাল। এ নিয়ে ৩৭ বার মুখোমুখি হলেন তারা, যা কিনা ওপেন টেনিস যুগে রেকর্ড। এক দিকে এক নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে থাকা নোভাক জকোভিচ আরেক দিকে এ বছর নয়টি শিরোপা জিতে ফর্মের তুঙ্গে থাকা রাফায়েল নাদাল। প্রথম সেটেই এগিয়ে গেলেন ইনজুরি ফেরত রাফা। কিছুটা অফ ফর্মে থাকা জকোভিচকে হারাতে লাগলেন একের পর এক গেমে। এগিয়ে যাওয়ার দৌড়ে প্রথম সেট ৬-২ গেমে জিতলেন কিং অব ক্লে। হাল ছাড়বার পাত্র কি জকোভিচ? মোটেই নয়। দ্বিতীয় সেটেই ঘুরে দাঁড়ালেন নাম্বার ওয়ান। শক্তিশালী ফোরহ্যান্ড আর ব্যাকহ্যান্ডে পরাস্ত করতে লাগলেন নাদালকে। সমতায় ফেরার সেট জিতলেন ৬-৩ গেমে। ১-১ সেটের সমতায় থাকা ফাইনালের তৃতীয় সেটে একবার জকো তো একবার নাদালের দিকে। এদিক ওদিক করতে করতেই শিকে ছিড়ল রাফার ভাগ্যে। ৬-৪ গেমে সেট জিতে আবারও এগিয়ে গেলেন এই স্প্যানিশ। চতুর্থ সেটে কিছু ক্লান্তই মনে হচ্ছিল দ্য জোকারকে। কিংবা নাদালের কৌশলের কাছে ধীরে ধীরে হার মানছিলেন তিনি। তাই কিছুটা সহজই হলো নাদালের জন্য। ৬-১ গেমে জিতলেন চতুর্থ সেট। আর নাম লেখালেন টেনিসের ইতিহাসে। প্রায় ৪ ঘণ্টার লড়াই শেষে ১৩তম গ্র্যান্ড স্লামের স্বাদ পেলেন নাদাল। তার সামনে ১৪টি শিরোপা নিয়ে রেকর্ডধারী হয়ে আছেন পিট স্যাম্প্রাস। অবশ্য হারলেও এক নম্বর অবস্থানটা হারাচ্ছেন না জকোভিচ। সেমিফাইনালে জয়ের পরই পাকাপোক্ত হয়ে গিয়েছিল জকোর শীর্ষস্থান।
টেনিস কোর্টের দুরন্ত এই ব্যক্তি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক কিছু কথা
রাফায়েল নাদাল, স্পেনের পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় যিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বরে অবস্থান করছেন। নাদাল সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত এবং ক্লে কোর্টে অসাধারণ সাফল্যের জন্য অনেকেই তাকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ক্লে কোর্ট খেলোয়াড় বলে মনে করেন। নাদাল ‘কিং অব ক্লে’ বলে পরিচিত। তিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের প্রাক্তন ১ নম্বর খেলোয়াড়। নাদাল ১২টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা ২০০৮ অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক এবং রেকর্ড ২১টি টেনিস মাস্টার্স সিরিজ শিরোপা জিতেছেন। এ ছাড়া স্পেনের হয়ে তিনি ৪টি ডেভিস কাপ শিরোপা জয় লাভ করেছেন। ২০১০ সালের ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতে তিনি ইতিহাসের সপ্তম খেলোয়াড় হিসেবে এবং ওপেন যুগের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম (চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের শিরোপা) অর্জন করেছেন। তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে (আন্দ্রে আগাসির পর) ক্যারিয়ার গোল্ডেন স্ল্যাম (চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং অলিম্পিক স্বর্ণ পদক) জিততে সক্ষম হয়েছেন। ৮টি ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা জিতে তিনি ২০১২ সালে বিবর্ন বোর্গের রেকর্ড ভেঙে দেন। নাদাল হলেন ওপেন যুগের একমাত্র টেনিস খেলোয়াড় যিনি একই বছরে ফ্রেঞ্চ ওপেন, কুইন্স চ্যাম্পিয়নশিপ ও উইম্বলডন জিততে সক্ষম হয়েছেন। জুন ২০১০ থেকে তাকে বিশ্বের ১ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে তিনি আগস্ট ১৮, ২০০৮ থেকে ৫ জুলাই, ২০০৯ পর্যন্ত বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বরে ছিলেন। ক্যারিয়ারের অনেকটা সময়জুড়েই নাদাল রজার ফেদেরারের সাথে দ্বৈরথে অবতীর্ণ থেকেছেন যাকে অনেক সমালোচক টেনিস ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ দ্বৈরথ বলে মনে করেন। তারা হলেন একমাত্র খেলোয়াড় যারা ৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছেন। এরমধ্যে নাদাল ৬টি ফাইনালে বিজয়ী হয়েছেন। নাদাল বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড সংখ্যক ১৬০ সপ্তাহ ফেদেরারের পেছনে অবস্থান করেছিলেন। ফেদেরারের বিরুদ্ধে খেলা ২৫টি ম্যাচের মধ্যে নাদাল ১৭টিতে বিজয়ী হয়েছেন। সম্প্রতি ইউএস ওপেন সিরিজের এই জয়ের মাধ্যমে তিনি আবারও নিজেকে প্রমাণ করেছেন যে তিনি সেরাদের মধ্যে সেরা। বোঝাই যায় তিনি তার ভক্তদের কখনও নিরাশ করতে চান না।
